সব
facebook netrokonajournal.com
অনলাইনে কোরবানির পশু অর্ডার দিলে তা জায়েজ হবে তো? | নেত্রকোণা জার্নাল

অনলাইনে কোরবানির পশু অর্ডার দিলে তা জায়েজ হবে তো?

প্রকাশের সময়:

অনলাইনে কোরবানির পশু অর্ডার দিলে তা জায়েজ হবে তো?

ads1

কোরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যা সকল সামর্থবানের উপর আবশ্যক বা ওয়াজিব। কোরবানির জন্য যে সকল পশু জবেহ করা যায় তা হলো- উট, গরু, মহিষ, ভেড়া, দুম্বা ও ছাগল। এগুলো প্রচলিত হাট বাজার থেকে কেনার পাশাপাশি টেকনোলজির যুগে অনলাইনে কেনা-বেচা হচ্ছে।

এই অনলাইনে কেনাবেচা করা সহজ হওয়ায় তার প্রতি জনগণের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ই-কমার্স সাইট, কৃষক, খামারি থেকে শুরু করে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হচ্ছে বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানও। এখানে কেনাবেচাটি প্রত্যক্ষভাবে না হয়ে পরোক্ষভাবে (হুকমী) হয়। শর্তাবলির আলোকে লেনদেন করা হলে ইসলামী শরিয়তে এ বেচাকেনা বৈধ হতে পারে-
১. ক্রয়বিক্রয়ে ইজাব কবুল থাকতে হবে।
২. বিক্রীত পশুটি বিক্রেতার মালিকানাধীন থাকতে হবে।
৩. গরু/ছাগলের ছবির সাথে তার সকল বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করতে হবে। পণ্যে কোন দোষক্রটি থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে।
৪. ডেলিভারি চার্জ/সার্ভিস চার্জ/পরিবহন খরচ কে বহন করবে তা উল্লেখ করতে হবে।
৫. গরু/পশু চাক্ষুষ দেখার পর তা গ্রহণ অথবা ফেরত দানের শর্ত/সুযোগ রাখা। কারণ নেটে দেখার সাথে বাস্তব দেখার মিল নাও থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহককে বিক্রেতার যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খরচ বহন করতে হবে।
৬. টাকা পাঠানোর পদ্ধতি ডকুমেন্টারি করা।
৭. পশু হস্তান্তরের তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ করতে হবে।
৮. লেনদেনের মাধ্যম চেক/নগদ উল্লেখ করতে হবে।
৯. ক্রেতা ও বিক্রেতার নিকট একে অপরের মোবাইল, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা সংগ্রহে থাকাটা সমীচীন হবে।
১০. লেনদেনে সুদের সংশ্লিষ্টতাসহ কোন প্রতারণা, মিথ্যাচার ও অস্পষ্টতা থাকলে তা শরিয়াহসম্মত হবে না।’

পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘নামাজ শেষ হওয়ার পর পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং মহান আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো’ (সূরা জুমুআ: ১০)। এখানে অনুগ্রহের অর্থ জীবিকা ও সম্পদ। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি উৎসাহ দানের উদ্দেশ্যে মূলত আয়াতটি নাযিল হয়েছে।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মহানবী (সা.) ব্যবসায়ীদের অনুপ্রাণিত করতে গিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা ব্যবসায় করো, ব্যবসাতে ১০ ভাগের ৯ ভাগ রিয্‌কের ব্যবস্থা আছে।’

ব্যবসায়ের মূলনীতি

ইসলামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও পারস্পরিক কায়-কারবারের বৈধতা ও সুষ্ঠুতা নিম্নলিখিত নীতিমালার ওপর নির্ভর করে।

ব্যবসা-বাণিজ্যে বৈধতা পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর এ জন্য ব্যবসায়িক ব্যাপারে উভয় পক্ষের সহযোগিতা অবশ্যই থাকতে হবে। পবিত্র কুরআনে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘পুণ্য ও আল্লাহভীরুতার পথে একে অপরকে সাহায্য করো। পাপ ও অন্যায় পথে কখনো কারো সহযোগিতা করবে না।’ (সূরা মায়িদা: ২)

যে কোনো কারবারে উভয় পক্ষের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি অবশ্যই থাকতে হবে। জবরদস্তিমূলক সম্মতির কোনো মূল্য নেই। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ বাতিল পন্থায় খেও না। কিন্তু তা ব্যবসার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্মতিতে হলে (কোনো আপত্তি নেই)।’ (সূরা নিসা: ২৯)

চুক্তি সম্পাদনকারীর মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকতে হবে। অর্থাৎ তাকে জ্ঞানী, প্রাপ্তবয়স্ক কিংবা বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন ও স্বাধীন হতে হবে। সে অবুঝ, অপ্রাপ্তবয়স্ক, পাগল হলে চুক্তি বৈধ হবে না। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির ওপর শরীয়তের বিধান আরোপিত হবে না— পাগল, ঘুমন্ত ব্যক্তি ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি।’ (সুনান আবু দাউদ)

কারবারে কোনো প্রকার প্রতারণা, আত্মসাৎ, ক্ষতি ও পাপাচার থাকতে পারবে না। অর্থাৎ ইসলামী শরীয়ত যেসব বস্তুর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে, সেসবের ব্যবহার করা যাবে না। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘(নিজে) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং (অন্যকে) ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত নয়।’

ইসলাম হালাল বা বৈধ পথে অর্থ উপার্জনে উৎসাহিত করেছে। আর অবৈধ পথে উপার্জনকে পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছে। উপার্জন করতে গিয়ে অনেকেই অনেক সময় হালাল-হারাম চিন্তা করেন না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বৈধ পথে এবং আমানত রক্ষা করে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পন্নকারীকে সুসংবাদ প্রদান করতে গিয়ে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সাথে থাকবে।’ (জামে আত-তিরমিযী)

মোটকথা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের এ যুগে মানুষের হাতের নাগালে সবকিছু। জীবনের মান ও গতি পাল্টে গেছে। কেনাবেচায়ও এর প্রভাব পড়েছে। প্রায় সব পণ্যই অনলাইনে কিনতে পাওয়া যায় এখন। সামনে কোরবানি। কোরবানির জন্তুও অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। শরীয়তে এ ধরনের কেনাবেচার হুকুম কী?

আসলে শরীয়তের নীতিমালা অত্যন্ত ব্যাপক, গুছালো ও আধুনিক; যা সব যুগের সঙ্গেই মানানসই ও উপযুক্ত। কেনাবেচার ক্ষেত্রে শরীয়ত যেসব নিয়মকানুন দিয়েছে সেসব পাওয়া গেলেই অনলাইনে গরু-ছাগল ও অন্যান্য পণ্য কেনাবেচা বৈধ হবে। অন্যথায় বৈধ হবে না। কেনাবেচার সব শর্ত ও নিয়ম এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। তবে বিক্রয় সংঘটিত ও বৈধ হওয়ার জন্য পণ্যের উপস্থিতি শর্ত কিনা এ বিষয়টি এখানে প্রধান আলোচ্যবিষয়। কারণ, অনলাইনে পণ্য সরাসরি দেখা হয় না; কেবল ছবি দেখা যায়। এ কথা স্বীকৃত যে, পণ্য নির্দিষ্টকরণ ও নির্ধারণের সবচেয়ে শক্তিশালী পদ্ধতি হচ্ছে দেখা ও ইঙ্গিত করা। একারণে পণ্য যখন চুক্তিকারী দুপক্ষের সম্মুখে উপস্থিত থাকে এবং ইঙ্গিতের মাধ্যমে নির্দিষ্টকরণ পূর্ণ হয় আর ক্রেতা পণ্যটি দেখে পছন্দ করে তখন কেনাবেচা আবশ্যক হয়ে যায়।

আর যদি পণ্য অনুপস্থিত থাকে তখন সুস্পষ্টভাবে তার গুণাগুণ বর্ণনার দ্বারা ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হয়। যেমনটি বায় সালামের মাঝে হয়ে থাকে। গুণ বর্ণনার মাধ্যমে ক্রয়বিক্রয় সংঘটিত হওয়ার পর পণ্যটি দেখার পর যদি বিবরণের সাথে মিলে যায় তাহলে চুক্তি আবশ্যক হয়ে যাবে। অন্যথায় ক্রেতার জন্য জমহুর ফুকাহার মতে চুক্তি ভঙ্গের স্বাধীনতা থাকবে। যাকে ফিকহী পরিভাষায় খিয়ারুল খুলফ বলে। হানাফীগণের মতে ক্রেতার এক্ষেত্রে খিয়ারুর রুইয়ত বা দেখার অধিকার থাকবে। অর্থাৎ দেখার পর পণ্য গ্রহণ বা বর্জনের এখতিয়ার থাকবে। [বিস্তারিত দ্রষ্টব্য খিয়ারুল ওয়াসফ, খিয়ারুর রুইয়া]

তদ্রুপ মডেল ও নমুনা দেখে কেনাবেচা করার বিধানও অনুরূপ। মোটকথা, অনলাইনে গরু-ছাগলসহ সব বৈধ পণ্য কেনাবেচা করা যাবে। তবে গুণাগুণের সঙ্গে অমিল হলে ক্রেতা ইচ্ছে করলে পণ্যটি ফেরত দিতে পারবে। এক্ষেত্রে পূর্বেই পরিবহন খরচ ও অন্যান্য বিষয় স্পষ্ট করতে হবে। নইলে ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে ঝগড়া ও বিবাদ সৃষ্টি হতে পারে। বিবাদ সৃষ্টি হলে কেনাবেচা অবৈধ হয়ে যাবে।

ads1

আপনার মতামত লিখুন :

 ফেসবুক পেজ

 আজকের নামাজের ওয়াক্ত শুরু

    নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বাংলাদেশ
    মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২
    ১ Rabi' I, ১৪৪৪
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ
    যোহরদুপুর ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
    আছরবিকাল ৩:১৪ অপরাহ্ণ
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৫০ অপরাহ্ণ
    এশা রাত ৭:০৫ অপরাহ্ণ
এর আরও খবর
প্রস্রাব-পায়খানার পর ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহারের পরেও পানি খরচ কি খুব জরুরি?

প্রস্রাব-পায়খানার পর ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহারের পরেও পানি খরচ কি খুব জরুরি?

মাদকের ভয়াল থাবা: শাস্তি ও প্রতিকারের উপায়

মাদকের ভয়াল থাবা: শাস্তি ও প্রতিকারের উপায়

দুর্গাপুরে আবু তালহা রা: মাদ্রাসায় ২৬ জন শিক্ষার্থীর কোরআন শরীফ ছবকদান

দুর্গাপুরে আবু তালহা রা: মাদ্রাসায় ২৬ জন শিক্ষার্থীর কোরআন শরীফ ছবকদান

কন্যা সন্তান উত্তম : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

কন্যা সন্তান উত্তম : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

আত্মহত্যা থেকে বাঁচার উপায় : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

আত্মহত্যা থেকে বাঁচার উপায় : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব

সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : দিলওয়ার খান
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম  
অস্থায়ী কার্যালয় : এআরএফবি ভবন, ময়মনসিংহ রোড, সাকুয়া বাজার, নেত্রকোণা সদর, ২৪০০ ।
ফোনঃ ০১৭৩৫ ০৭ ৪৬ ০৪, বিজ্ঞাপনঃ ০১৬৪৫ ৮৮ ৪০ ৫০
ই-মেইল : netrokonajournal@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।