সব
facebook netrokonajournal.com
আমি জিতে গেলে হেরে যাও তুমি (প্রথম খণ্ড) ---পঞ্চভূত (ছদ্মনাম) | নেত্রকোণা জার্নাল

আমি জিতে গেলে হেরে যাও তুমি (প্রথম খণ্ড) —পঞ্চভূত (ছদ্মনাম)

প্রকাশের সময়:

আমি জিতে গেলে হেরে যাও তুমি (প্রথম খণ্ড) —পঞ্চভূত (ছদ্মনাম) ছবিঃ ইন্টারনেট ও এডিটেড

আমি জিতে গেলে হেরে যাও তুমি (প্রথম খন্ড)

পঞ্চভূত (ছদ্মনাম)

[উৎসর্গীতঃ-বন্ধু বরেষু মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীমসহ বিভীশিখাময় নির্যাতন থেকে উত্তরণীয় নারীদের তরে।]

তখন এই অবিকল শুধুই এক পলাতক রিক্ত মানুষের মতো খুঁজে ফিরে পরশপাথর তার লেখনীর আশ্রয়ে।নিদাঘ প্রহরে তপ্ত হতে হতে অবিকল, ঘন ঘোর বর্ষার সিঞ্চিত হ্নদয়ের বিষন্ন করুনায় শব্দের পরে শব্দ সাজিয়ে রচনা করে যায় তার ব্যথিত হ্নদয়ের অবয়বগুলি। মনের মধ্যে জেগে থাকা বিচ্ছুরিত অভিমান আর বিদগ্ধ ভালোবাসা, নিরুচ্চার প্রেম, আর শীৎকারী সংরাগ মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল তার সৃষ্টির সাগরে।চোখ বুঝলেই তার কত স্মৃতির ছবি হয়ে ফুটে ওঠে উৎক্ষিপ্ত মনন পরম প্রাপ্তির অভিলাষে, উৎসুক চোখ তার প্রিয়গ্রন্থের অভিসারে। আর তখনি তার সেই শেষ শীতালী সন্ধ্যায় অসহায় এক শিল্পীর নিরুচ্চার বুকের থেকে উৎসারিত হয়েছিল দিগন্ত প্রসারী দীর্ঘ নিঃশ্বাস।আধো আধাঁরে ভেবেছিল তার দুরু দুরু বুকের উৎরোল অনুরাগ। ভেবেছিল -ফরসেপস দুরন্ত নখরে আকঁবে তার সেই হিংসার কোন কোলাজ ছবি।সেই স্বপ্ন জুড়ে ছিল শুধুই মেঘমেদুর স্মৃতিকাতরতা।ধুলিধূসরিত সেই স্বপ্নের গালিচায় শিল্পীর সজীব তুলির টানে জীবন্ত হয়ে আর উঠেনি তার ভাস্কর্য।

মধ্যবর্তী থেকে:- একদিকে অবিকলের জীবনের সুনিবিড় আকাঙ্খা, অন্যদিকে কঠিন কর্তব্যের হাতছানি।মধ্যবর্তী সময়ে জিতে গেল তার পরিবার, হেরে গেল অবিকলের জীবন।পরাজিত মনের ইচ্ছের বিরুদ্ধে হার মেনে নিল সে। জীবনের সবকিছু এভাবে বির্সজন দিয়ে দিয়ে ছুটে এলো এক প্রাক-যুবতী দিনের কাছে।এই সত্যটাকে স্বীকার করতেই কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায় তার চিন্তাগুলি।অবিকল আজ এই পড়ন্ত বেলায় হাতদুটি জড় করে বুকের কাছে আনমনে তাকিয়ে আছে আষাঢ়ের মেঘাছন্ন আকাশের দিকে।তার চাউনিতে যেনো জীবনের কাছে হেরে যাওয়া তীব্র পরাজয়ের জ্বালা।তার ভাবনার তরে যেনো আর একটু সাহস যদি সঞ্চিত থাকতো তার মনের ব্যাঙ্কে, তাহলে জয়ী হওয়ার স্বপ্নটাকে সফল করতে পারতো।অনেকটা সময় তার অতিক্রান্ত হয়ে গেছে, জীবন থেকে হারিয়ে গেছে বেশ কিছু প্রহর। কোন কথা বলছে না কেন আজ সে?কেন এক অদ্ভূত নৈঃশব্দ্যের প্রাচীর এসে দাঁড়িয়েছে তার মধ্যে? এগিয়ে চলছে দিন, প্রাকৃতিক নিয়মেই একদিন হারিয়ে গেল সে, সেই কৈশোর জীবন থেকে বহুদুর। চলে এলো সেই শৈশব জীবন ফেলে। পেশার তাগিদে ভাসতে ভাসতে এখানে ওখানে ঘুরতে ঘুরতে, কখন যে হারিয়ে ফেলে ছিল তার শৈশব কৈশোরকে, সেই স্মৃতির সমুদ্র থেকে।আজ, দীর্ঘ তেইশ বছর বাদে, প্রায় শেষ হয়ে আসা শতাব্দীর এই মধ্যদিনে, আবার কেন ঐ স্বজনের মুখখানি ভেসে উঠলো তার চোখের সামনে?

প্রিয়’ তাপসী, বিশ্বাস করো, কখনো ভাবিনি, তোমাকে এমনভাবে ভাবতে হবে।আজ সমস্ত জনেরা জেনে গেছে আমার সমস্ত আবেগ আকুতিকে।তুমিও বেশ বুঝে গেছো আমাকে,কিন্তু আমি বুঝাতে পারিনি নিজেকে।তুমি বলেছো ইচ্ছে করেই আমি তোমাকে ডেকেছি, সত্যি বলেছো। স্বীকার করি আজ কেন ডেকেছিলাম-তোমার লড়াইটা সত্য ছিল বলে নগরের নিয়ন্ত্রিত সমস্ত বাঁধাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ছুটে গিয়ে ছিলাম-যে ষড়যন্ত্রের জালে তুমি ধরা পড়েছিলে, সেই মিথ্যে কূপের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ডাক দিয়েছিলাম। কেন জানো, হারিয়ে যায় যে তাপসীর মমতা, তারই সন্ধানে থাকে সে হ্নদয় সর্বদাই আত্মনিমগ্ন। এ চির সত্যকে মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিতে বাতাসে পারিনা তো। বলতে পারো, ঈশ্বর কেন আমাকে অসম্ভব মাতৃভক্তি আবেদনী করে পাঠিয়ে দেন তোমারি মত এমন কারো আচঁলের নিচে?এসব তো কিছুই চাইনি আমি।

এই সীমাহীন ক্লান্তিতে কি লাভ বলো এভাবে ব্যথাদীর্ণ জীবন নিয়ে কারো বিরক্তির কারণ হতে?কোথাও তো আর আমার কথা সোনার আখরে লেখা হবেনা।জন্মেছিলাম নেহাতই এক মধ্যবিত্ত পরিবারে।শৈশব থেকেই দুচোখের পাতায় ছিল বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।ভেবেছিলাম, অসামান্য গুণাবলীতে যদি করায়ত্ত করতে পারি তাহলে হয়তো জীবন ধারাটাকে একেবারে পাল্টে ফেলতে পারবো।উচ্চশা কি অপরাধ তাপসী? জানো তাপসী, তোমার মতই, আমি যার উদরে জন্ম নিয়েছি,যে মা আমাকে এই সুন্দর পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন।সেই মা’র মতই তুমি।তাই তোমাকে অসম্ভব ভালো লাগে আমার। তোমার মাঝে এক আশ্চর্য্য আশার আলোর স্ফুরণকে দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখেছি।যতবার তোমার কথা শুনি আমি, ততবার মনে হয় যেনো বেতারের নীল পর্দায় ভেসে উঠা তোমার অসম্ভব প্রত্যয়ী মুখ।মুটো বন্ধ করা হাত, আকাশসর্প্শী চোখ-আমার সমস্ত হ্নদয় জুড়ে কি এক অদ্ভূত আবেগ এসে বয়ে যেতো চোরা গুপ্তার মত।মনে হত পৃথিবীর সকল কৌতুহল লুকিয়ে আছে তোমার মাঝে।আমি কেঁপে উঠতাম।তোমার প্রতিটি শব্দ ধ্বনির কাছে।একটু একটু করে জেগে উঠতাম আমি তোমার সংস্পর্শে।জানো তাপসী, কয়েকদিন ধরে সমস্ত রাত আমার নির্ঘুম যায়।কেন জানো?তুমি, তোমার অসংখ্য অভিভাষণের মাধ্যমে, এই ঘুমন্ত মনের মধ্যে সেই হারিয়ে যাওয়া বোধ আবার কড়ানারে, জাগিয়ে দেয়।যা চলমান থেকে মৃত্যু পর্যন্ত উদ্ধত অহঙ্কার উন্নত অহমিকায় এই পৃথিবীর সত্যের বুকে পা রেখে যেনো হেঁটে যেতে পারি। যার অভিধানে পরাজয় শব্দটা থাকবে না।মাথার মধ্যে আপস নামের জঘন্য চেতনা থাকবে না।যেদিন আমি প্রথম পা রেখেছিলাম তোমারই প্রশস্ত চত্বরে, অবাক হয়ে গিয়েছিলাম, তোমার সীমাহীন ব্যক্তিত্ব দেখে।তোমার সমস্ত ব্যক্তিত্ব জুড়ে তখনো একটা সুন্দরের সতেজতা ভাসছিল। কিন্তু তখনো আমি বুঝেনি -তোমারই ব্যক্তিত্বের মাঝে লুকিয়ে ছিল যে অগ্ন্যুপাত অহংকার।এই আমি, মিশেলে, তেইশ বছরে এক সবেমাত্র পা রেখেছি।এত কি আর তোমার মনমর্জি তোষামদি বুঝি কিসে।বন্ধ-বান্ধবী স্বজনেরা হেসে ওঠে, তাচ্ছিল্যতায় উড়িয়ে দেয়-তোমার সঙ্গলতাস পাতা, ওরা ভাবে নেহাতই, কোন মানে হয়না একসাথে চলা। আচ্ছা বলো তো-জন্মসূত্রে যারা নীল রক্তের বাহিকা নয়, তাদের সাথে চলা কি বোকামী?কিন্তু, আমার মনের মধ্যে অসম্ভব জেদ ছিল তাপসী, কোন কিছুই শুনতাম না। তাদের হিংসে, আমাকে আরো বেশি তোমার কাছে টানতো। তবে কিছুটা সময় দূরে ছিলাম, সে সময়টা আমার অনুকুলে ছিলনা বলে।কিন্তু একটা সময় প্রকাশ হতে মনস্থির করলাম, ভাবলাম, সব কিছু উপেক্ষা করে হলেও এগিয়ে যেতে হবে আমার।ভুলে গিয়েছিলাম সমাজের ঐসব অসঙ্গতিগুলো।যদিও মাঝে মধ্যে দুরু দুরু করে কেঁপে উঠতো বুক, আর নিরবে ভাবতাম, আমি কি আরেকবার তোমাকে নিয়ে দাঁড়াতে পারবো না, এই মিথ্যে সমাজের বুকে! সত্যের কাছাকাছি হতে? হঠাৎ একদিন আনন্দে আত্মহারা হলো মন!কেন জানো?এই আমারি মত এক সহযোদ্ধা আমাকে কিছুটা আশস্ত করেছে-তোমাকে নিয়ে উঠে দাঁড়াতে, দাঁত ভাঙা জবাব দিতে, মিথ্যে সমাজকে গলা টিপে হত্যা করে সত্যেকে প্রতিষ্টিত করতে।সেদিন তাকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষন কেঁদেছিলাম আমি!উল্লাসে নয়, একাকীত্বের পাশে স্বপ্ন সফলের অঙ্গীকারে।এখনো মনে আছে আমার, চারদিকে বিচারক, তাদের ভাবলেশহীন মুখে কি জঘন্য চেতনা খেলা করছে, তা সমর্পূণ বোঝার উপায় ছিলনা আমার।তারা একের পর এক বিষাক্ত বাক্যবাণ ছুঁড়ে মাড়তো তোমার দিকে।আমিও অনড় ছিলাম উপযুক্ত জবাব দিতে।

একদিন সহযোদ্ধা মিলে একটি সুনিবিড় সন্ধি করে ভয়ে ভয়ে একটু জবাব দিলাম গণমাধ্যমে।সেই থেকে শুরু হল তোমার বিরোধী পক্ষের সমস্ত অভিযোগের জবাবদিহিতা।ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম-তোমার অবস্থানটা বেশ পাকা হতে লাগলো। কিন্তু অপরদিকে আমার আর সহযোদ্ধার অবস্থানটা একটু একটু করে আমাদের পা এর নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে, ঐ মিথ্যুকদের কাছে শক্রুতে পরিনত হতে লাগলাম। আমাদেরকে নানা কৌশলে কত অভিযোগের সামনে কতবার দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।সাময়িক কষ্ট দিয়েছে তবে কিছুই করতে পারেনি।ওরা বুঝতে পারেনি আমাদের পেশাগত কাজের ভিত্তিটি আরো মজবুত করে দিয়েছে।বয়েসে তুমি আমার দ্বিগুণের বেশি হবে।ইতিমধ্যে মধ্যবয়সে অতিক্রান্ত হয়ে গেছো।এখনি সময় আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া, কি শিক্ষা অর্জন করতে হয় এই সমাজ থেকে। লড়াই করতে হবে অনেকগুলো শক্রুর সাথে।তুমি নিজেই জানো না, তোমার কতগুলো শক্রু আছে লুকিয়ে।এভাবে নিঃশ্চুপ বসে থাকলে হবেনা, সময় বলে দেয়, এখনিই সময় জ্বলে উঠো, জবাব দাও।একদিকে তোমার বিবেক, যখন স্তব্ধ হবে পৃথিবীর সমস্ত কোলাহল, মধ্য রাতে পায়চারি করবে তুমি, তখনই বিবেকের দংশনে বারে বারে তোমাকে হতে হবে দংশিত।জীবনের প্রথম প্রহর থেকে আজ পর্যন্ত তুমি,অনুবর্তিনীর মত বহমান।অনেক উত্থান আর পতনের নীরব সাক্ষী। যখন তোমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারীর মিথ্যে অভিযোগ, মনে হয়েছিল পায়ের নীচ থেকে সরে যাচ্ছে পৃথিবীর মাটি, আর তুমি অচিরেই হারিয়ে যাচ্ছো বিস্মৃর্তির গভীর গোপন অতলে, তখনো তোমার পাশে দাঁড়িয়ে থেকেছি নীরব স্বাক্ষী হয়ে।
অন্যদিকে অভিমানী মন, হারানো প্রেম,আর ব্যথার্থ স্মৃতির অনুকম্পা মন নিয়ে লড়াই করতে হবে ভেবে সেই সত্যটাকে অ্যাপ্লাই করতে থাকি উচ্ছন্বে যাওয়া মানুষের কাছে।আজ বারবার মনে পড়ছে এখানে সেখানে কাটানো আমাদের অনেক অন্তরঙ্গ মুহুর্তগুলি।মনে পড়ছে জেগে জেগে গল্প করার প্রহরগুলি।আর মান অভিমানগুলিকে।তোমার এই অসহায়তা দেখার কোন ইচ্ছে ছিলনা আমার।কিন্তু দুরে থাকারও ইচ্ছে ছিলনা।তাই তোমার আত্মার এতটা কাছাকাছি যাওয়ার দুঃসাহস হয়েছিল আমার।ইচ্ছে করেই প্রায়শই সমাজের অসংখ্য অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরতাম তোমার চোখের সামনে।উসকে দিতাম তোমার মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিশোধের আগুনকে।যে আগুন তোমাকে যেভাবে পুড়িয়েছিল, ঠিক সেইভাবে পুড়াতে।এভাবেই করায়ত্ত করতে চেয়েছিলাম।বিনিময়ে কোন প্রত্যাশা ছিলনা।কেন জানো-জীবনের অর্জন বলতে কিছুই থাকেনা ভেবে,তাই তোমার দুয়ারে আমার কোন চাওয়া পাওয়ার হিসেব ছিলনা।এ জগতে সবচেয়ে সুন্দর আর ভালো জিনিসগুলো চোখে দেখা যায়না।এমন কি ছুঁয়েও দেখা যায়না।সেগুলি হ্নদয় দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়।আমি তোমাকে সেভাবেই উপলব্ধি করেছি।ফের যদি কোনদিন তোমার সামনে দাঁড়াবার মত দুঃসাহস আমার হয়, যদি তোমার চোখে চোখ রাখার মত ক্ষমতা আমার থাকে, তাহলে আমি, এক এক করে আমার ডায়েরীর ছেঁড়া পাতাগুলো উড়িয়ে দেবো তোমার সামনে, যেখানে লেখা আছে আমার গভীর গোপন আশ্রদ্ধার প্রতিটি মুহুর্তের রক্তাক্ত বর্ণনা—–।
তাপসী, মনে পড়ে খুব,তোমার দুরাভাষ বাহিত কথাগুলিকে। যে কথাগুলি আমার চেতনাকে বিদ্ধ করেছিল।অনেকক্ষনধরে আবেগি তাড়নাতে কথাগুলো বলে যাচ্ছি।কি আশ্চর্য দোলাচলে কেটে যায় সময় তাইনা।এখনো উৎকন্ঠিত থাকে মন, কখন আবার দেখা হবে, কথা হবে, কথা বলতে বলতে আমাদের চা জুরিয়ে জল হবে, তবুও আমাদের নারী জাগরণ, সমাজ তার সংস্কৃতি সংস্ককরণ নিয়ে কথা বলা শেষ হবেনা।তবে এখন আর এতটা আবেগি হয়ে উঠেনা মন।কেন জানো, এখন তোমার পায়ে পায়ে বহুজনেরা ঘুরে বেড়ায়।কত কাংখিত জন তোমার চারপাশে ঘুর ঘুর করে।কত স্বপ্নের দিকনির্দেশনা দেয় তোমাকে।তা থেকে আমার বিশ্বাস, তুমি চিনে চিনে পথ হাঁটবে।
আমি আর এসব কিছু নিয়ে ভাবিনা, কারন আমি বুঝে গেছি-শক্ত মাটির ওপরেই দাঁড়িয়ে আছো তুমি।সেই মাটি ইচ্ছে করলে যে কেউ এখন আর সরাতে পারবেনা।একটু একটু করে এ মাটির ভীত গড়ে উঠেছে।তবে স্বীকার করতে দ্বিধা নেই তাপসী, তোমার প্রতিটি সংরাগী স্নেহকে আমি উন্মুক্ত চিত্তে গ্রহন করেছি।এখনো ভাবি, হায় ঈশ্বর, এই ভালোবাসার আর ভালোলাগার প্রহরকে কি চিরকালীন ধরে রাখা যায় না?যে সত্যকে জেনেছি নিজেকে পুড়ে পুড়ে, যে মন্ত্র শিখেছি-রক্ত দিয়ে, সেই মন্ত্রের সপক্ষে ছিলাম,আছি, থাকবো দীপ্ত হাতিয়ার হয়ে।আমার এই উপলব্ধি জীবনে সমৃদ্ধ হয়ে থাকবে, যে স্রোতের বহমান সৃষ্টি করে রেখেছো তুমি।তোমার এই মহৎ প্রাণের পথচলা মোটেও সহজ ও সুখকর ছিলনা।যে জীবন কেটেছে তোমার মানসিক দ্বন্দ্ব, আপনজনদের প্রত্যাখ্যান আর নিদারুণ কষ্টকে সঙ্গী করে।ছোট্ট থেকে একদিকে যে জীবন ছিল তোমার সৃষ্টিতে পরিপূর্ণ। অন্যদিকে দুঃখ, কষ্ট আর যন্ত্রনার এক অগ্নিপরীক্ষা।যারা তোমাকে বুঝতে পারিনি, সে তাপসীর বুক জুড়ে বেড়ে উঠা, মধ্যবিত্ত পরিবারের এই ছোট্ট মেয়েটি হওয়ার সুবাদে,তোমার সংস্পর্শে এসে জ্ঞানচর্চার সুযোগ ঘটেছিল আমার।তাই তোমার কাছেই জীবনের বিকাশ ঘটিয়ে ছিলাম।তোমার হাত ধরেই পরিচিত হলাম-নিজ ধর্ম কোরআন আর তোমার ধর্মের দেব দেবী,রামায়ণ, পুরাণ কিংবা মহাভারতের সাথে।এ শিক্ষা কি অচিরেই শেষ হওয়ার কথা।কিন্তু কখনো কখনো যখন সকালে উঠে নিজেকে সফল হিসেবে পাইনা, তখন মনে হয় সবি বৃথাচলে পরিণত।আসলেই কি তোমার কাছে এখন অবহেলার পাত্র সরুপ!যদি তাই হয়-তবু হিন্দু অবজ্ঞা করে ‘হিদেন’ বলে ডাকতে পারবো না কোনদিন তোমাকে।কারন, এখনো উৎসুক জনতার অমুলক ভীড়, তীঘ্ন দৃষ্টি, কবে ভাঙ্গনের শব্দ শুনতে পাবে সেই প্রতিজ্ঞাতেই রত থাকে।আমাদের এই মেলবন্ধনে ইন্দন দিতে উৎ পেতে থাকে।কালের চক্রে তাদেরই পরিবর্তিত রুপ জীবনের চরম বাস্তবতা শিখিয়ে দেয় আমাকে।যে কঠিন শ্রমঘাম আর পরিস্থিতির এতটা স্বীকার হয়ে সম্ভব হয়েছে, তাকে তো আর বৃথায় যেতে দিতে পারিনা।আসলেই কি জানো,সত্যিই জীবনের উচ্ছ্বাস, আবেগ এক কঠোর সাধনার এই জীবন আমার।

তবুও তোমার সংস্পর্শে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আমার অনেক কিছুই।যেমন ভাবে আকাশ থেকে গড়িয়ে পড়ে বৃষ্টিকনা, তৃষিত তাপিত বসুন্ধরা হয় সুখী আর সমপৃক্ত, ঠিক তেমনি আমাদের মধ্যে বহমান ছিল চিরনবীণ সখ্যতা।কোন অনৈতিকতা ছিলনা আমার স্বভাব-চরিত্রের গভীরে।শুধু তোমার পথের সহযোদ্ধা ছিলাম।সমস্ত বাধাকে অনায়াসে অতিক্রম করে এভাবেই এগিয়ে যেতাম।কোথা থেকে কি যেন হয়ে গেল, তাইনা? কেন ছুটে এলো সন্দেহের কালো মেঘ?কেন হঠাৎ করে সরে দাঁড়ালাম?কেন এই বন্ধন বাহিত অনুরাগের সমস্ত শব্দ ছড়িয়ে গেল ইথার তরঙ্গে?বন্দিনী হলাম সন্দেহের এক ঘেরাটোপের কাছে।কতবার এমন হত, কিন্তু এবার কেন তোমার সমস্ত আচরণের মধ্যে ফুটে উঠলো এক অদ্ভূত হিংসের খেলা।যে সম্পর্ক একবার ভেঙ্গে যায়, তাপসী, তাকে আর কখনো জোড়া লাগানো যায় কি? কোন অভিযোগ নেই, অনুতাপও নেই।আমি তো আর তোমাকে তোমার নরাধম পশু স্বামীটার মত কোন কাটগড়ায় দাঁড় করাতে চাইনা।আইনের মারপ্যাচ কি করে প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিধ্বস্ত করা যায়, সেই চিন্তাতে আছন্ন হয়না মন। “আমি চাইনা-আমার তাপসী অবশেষে আমার কাছে পরাজিত হউক।কেননা, আমি জিতে গেলে-হেরে যাবে তুমি, তোমার স্বজনেরা, এমনটি আশা করিনা আমি।আমি চাই তোমার অগুছালো জীবন, পরিবারের স্বজনেরা আবার সেজে উঠক।আমি এমন একটি সাজানো পরিবার দেখতে চাই।যে পরিবারকে নিয়ে গর্ব করবে মানুষ।যে পরিবারের একমাত্র উদাহারণ হবে তুমি।যে পরিবারটির শুধু অধীশ্বর হবে তুমি।যে পরিপাটি পরিবারের একেকটি জীবন মিটিমিটি প্রদীপের মত জ্বলবে, উদ্ভাসিত প্রতিটি আলোর স্ফুরণের দিকে সবাই তাকিয়ে থাকবে।তা দেখে তোমার গর্বে বুক ভেসে যাবে। জানো তাপসী,আজ ভীষন ভারাক্রান্ত মন আমার!শান্ত শীতল বৈকালিক বাতাস এসে আচ্ছন্ন করে রেখেছে আমার চারপাশ।একটু বাদে সূর্য অস্ত যাবে।এখন পশ্চিমাকাশে চলছে তার নীরব প্রস্তুতি।গালে হাত দিয়ে বসে আছি।আর ভাবছি,তুমি তো মা,মাতৃত্বের মধ্যে যতই যন্ত্রনার দংশন পরশ থাকুক না কেন, আমার কাছে জন্ম জন্মান্তরের জননী তুমি।তাই তোমার দিকেই তাকিয়ে থাকি আমি।

জানো, কেবলই আজ মনটা পালাই পালাই করছে, কোথায় যাই, কার কাছে যাই, কে আছে এমন, যে ভুলিয়ে দিবে সব? ঠিক করতে পারছিনে। হঠাৎ তো চলে যাবোই, অবশ্য সেদিন আর কাউকে কষ্ট দেবনা, কোন বিরক্তও করবো না। যেদিন এই নিষ্ঠুর পৃথিবী বিদায় দিবে সেদিন ভুলে যাবো সব।

কেন এই কথা বলছি, শুনবে? যে পাওয়া এই জীবনে আত্মীয় হয়ে ওঠেছে কেবল, আপন হয়ে ওঠেনি কেউ! কার কাছে বলবো আমার এ কথা?

আজ মৃত্যুকে এত করে মনে পরছে কেন, জানো?তোমাকে আজ সবচেয়ে সুন্দর মনে হচ্ছে বলে! মনে হচ্ছে, এতটা পাষাণ পৃথিবী? সমস্ত বুকটা আজ ব্যথায় অস্থির, মনে হচ্ছে, বুকটা যেন জমাট বেঁধে যাচ্ছে, যদি মুক্তি হয়, বেঁচে যাবো, কিন্তু কী হবে, কে জানে!
তোমার বিচার পেয়ে কেবল ভাবছি আর ভাবছি । কতো কথা! ভাবছি এ ব্যথার রক্তকে রঙিন খেলা বলে উপহাস যে করে, তিনি হয়ত মহৎ। আমার ব্যথার অশ্রুর বহু উর্ধ্বে । কিন্তু আমি মাটির দেহ হলেও সে মহৎত্বের কাছে অশ্রুর অঞ্জলি আর নিয়ে যাবোনা । ফুল ধুলোয় ঝরে পড়ে, পায়ে পিষ্ট হয়; তাই বলে কী ফুল এত অনাদরে হয়! ভুল করে সে ফুল যদি কারোর পদতলে খসে পড়ে, এবং সেটাকে উপদ্রপ বলে মনে করে কেউ; তাহলে ফুলের পক্ষে প্রায়শ্চিত্ত হচ্ছে, এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করা!

সুন্দরের অবহেলা আমি সইতে পারিনা! তাই এত জ্বালা! ভিক্ষে যদি কেউ তোমার কাছে চাইতে আসে অদৃষ্টের বিড়ম্বনায়, তাহলে তাকে ভিক্ষে নাই দাও, তাড়িয়ে দিওনা । আঘাত করবার একটা সীমা আছে । সেটাকে অতিক্রম করলে আঘাত অসুন্দর হয়ে ওঠে; আর তক্ষুনি তার নাম হয় অবমাননা!

সব কিছু থেকেও আজ সব হারা, সামান্য ভুলের কারনে আজ জননী থেকে দুরে, যে স্নেহে, যে মমতায় বুক ভরে ওঠে কানায় কানায়, তা কখনো কোথাও পাইনি।
এখনোও কিছু ভদ্রবেশী কাল সে ছদ্দবেশী রুপ ধারন করে, যখন অতীতের ভিতর বন্দি থেকে সেই দৃশ্যগুলো অবলোকন করি, তখন আমাকে কিছুতেই ঘুমোতে দেয় না ওরা। সারারাত জেগে জেগে কেবল ওদের উদয়াস্ত দেখি । তাদের গতিপথে আমার চোখের জল বুলিয়ে দিয়ে বলি, আর কত কষ্ট দিবে তোমরা ঐ অসহায় মানুষটারে? এবার থামো। আমি শুধু চুপটি করে দেখি, আর জলের রেখা আঁক মুখে । কিন্তু জানতাম না, কফোঁটা রক্ত দিয়ে একফোঁটা চোখের জল হয়? তোমাদের বিজ্ঞান বলতে পারে? এখন শুধু কেবলই জিজ্ঞাসা করতে ইচ্ছে করে, যার উত্তর নেই, মীমাংসা নেই; সেই সব জিজ্ঞাসা।

তবে তোমার কাছে আমার আর কিছু পাওয়ার নেই। আমি পেয়েছি, যা পেয়েছি, আমার বুকের রক্তে, চোখের জলে। আমি তার উদ্দেশ্যে আমার শান্ত, স্নিগ্ধ অন্তরের পরিপূর্ণ চিত্তের একটি সশ্রদ্ধ নমস্কার রেখে গেলাম ।

আমি যেন শুনতে পাই, আমার না থাকা জুড়ে ক্ষমা করে দিয়েছো । ফুলের কাঁটা ভুলে গিয়ে তার উর্ধ্বে ফুলের গন্ধই যেন মনে রেখেছো।

লেখকঃ পঞ্চভূত (ছদ্মনাম)
সাংবাদিক, সাহিত্যিক, নারীনেত্রী
মেইল নাম্বার- rinahayat42@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :

 ফেসবুক পেজ

 আজকের নামাজের ওয়াক্ত শুরু

    নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বাংলাদেশ
    বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২২
    ১০ Rabi' I, ১৪৪৪
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ
    যোহরদুপুর ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
    আছরবিকাল ৩:০৯ অপরাহ্ণ
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৪১ অপরাহ্ণ
    এশা রাত ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
কবি মোঃ শহিদ আলম এর ৩টি কবিতা

কবি মোঃ শহিদ আলম এর ৩টি কবিতা

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ: এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ: এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন

বিরহী কবি মাজেদুল হক

বিরহী কবি মাজেদুল হক

নেত্রকোণার উত্তর জনপদের সাহসী ভাবনা!–রীনা হায়াৎ

নেত্রকোণার উত্তর জনপদের সাহসী ভাবনা!–রীনা হায়াৎ

কবিতা : পুরনো দিনের কথা, কবি মোঃ এনামুল হক

কবিতা : পুরনো দিনের কথা, কবি মোঃ এনামুল হক

কবি গোলাম জাকারিয়া এর দুটো কবিতা

কবি গোলাম জাকারিয়া এর দুটো কবিতা

সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : দিলওয়ার খান
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম  
অস্থায়ী কার্যালয় : এআরএফবি ভবন, ময়মনসিংহ রোড, সাকুয়া বাজার, নেত্রকোণা সদর, ২৪০০ ।
ফোনঃ ০১৭৩৫ ০৭ ৪৬ ০৪, বিজ্ঞাপনঃ ০১৬৪৫ ৮৮ ৪০ ৫০
ই-মেইল : netrokonajournal@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।