সব
facebook netrokonajournal.com
ইসলাম ধর্মে কোরবানী; ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ মাসালা | নেত্রকোণা জার্নাল

ইসলাম ধর্মে কোরবানী; ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ মাসালা

প্রকাশের সময়:

ইসলাম ধর্মে কোরবানী; ইতিহাস ও গুরুত্বপূর্ণ মাসালা

কোরবানীর সূচনাঃ

হযরত আদম (আঃ) -এর সন্তান হাবিল ও কাবিলের বিবাহ নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে হযরত আদম (আঃ) তাদের কে এখলাছের সঙ্গে কোরবানী করার নির্দেশ দিয়ে বললেন, তোমাদের যার কোরবানী কবুল হবে তার সঙ্গেই বিবাহ দিব।
তখনকার যুগে কোরবানী কবুল হবার আলামত ছিল, যে কোরবানীটি কবুল হয় সে কোরবানীর জন্তুটি আসমান থেকে একটা আগুন এসে জ্বালিয়ে দিত। উক্ত ভাতৃদ্বয় কোরবানীর আদেশ প্রাপ্ত হয়ে দুটি কোরবানী করল।

এক ভাই হাবিলের দুম্বাটি ছিল মোটা -তাজা ও সুন্দর। হাবিলের কোরবানী আল্লাহ কবুল করলেন। আর কাবিলের দুম্বাটি ছিল দুর্বল, তাই কাবিলের দুম্বাটি পড়ে রইলো। এতে সে (কাবিল)অত্যাধিক ক্রুদ্ব হয়ে হাবিলকে হত্যা করে ফেলে।
এ ঘটনা কোরআনের ভাষায়ঃ
واتل علیهم نبأ بنی ادم بالحق اذ قربا قربانا فتقبل من احد هما ولم یتقبل من الاخر۔
قال لاقتلنک قال انما یتقبل الله من المتقین۔ماٸده
অর্থাৎ “হে আমার হাবীব আপনি তাদেরকে পাঠ করে শুনিয়ে দিন আদমের পুত্রদ্বয়ের ঘটনাকে যথার্থরূপে। যখন তারা উভয়ের নৈকট্য লাভের জন্য কোরবানী দিয়েছিল, অতঃপর তাদের একজনের কোরবানী কবুল হলো এবং অপরজনের কোরবানী কবুল হল না। কাবিল বলল, আমি তোমাকে হত্যা করবই। তখন হাবিল বলল, আল্লাহ তা’আয়ালা মুত্তাকীনদের আমলই কবুল করে থাকেন।”
(সুরা মায়িদা)

উপরোক্ত কোরবানীর সূচনা থেকেই আমরা শিক্ষা লাভ করলাম, ‘মুক্তাকিদের কোরবানী আল্লাহ কবুল করেন।’

এর পর দ্বিতীয় কোরবানিটি ছিলো নিম্নরূপঃ পবিত্র কোরআনের ভাষ্যমতে স্বপ্নদেখার পর হযরত ইব্রাহিম (আঃ) পুত্র ইসমাঈল কে কোরবানী দেবার সংকল্প করে ফেলেন। পরে ইসমাঈল (আঃ) -এর আম্মা জানের নিকট স্বপ্ন বৃত্তান্ত ব্যক্ত করে বললেন- এখনই আমাদের স্নেহের দুলাল কে গোছল করিয়ে উত্তম কাপড় চোপড় পরিয়ে দাও। অতঃপর হযরত হাজেরা (আঃ) তাঁর কলিজার টুকরা পুত্র ইসমাঈল (আঃ) কে গোসল করিয়ে ও উত্তম পরিচ্ছদে আচ্ছাদিত করলেন প্রাণ ভরে চির জীবনের মত বুকে জড়িয়ে আদর করে নিয়ে বললেন, যাও আমার প্রাণ! আল্লাহর জন্য নিজেকে উৎসর্গ কর সেদিনটি ছিল ইয়াওমুন নহর বা কোরবানীর দিন। দিবাকর পূর্ব গগনে সোনালী কিরণ বিকিরণ করছে। সে কিরণ হেজাজের পাহাড় উপত্যকাগুলোতে প্রতিফলিত হয়ে চিক চিক করছে।
এমতাবস্থায় ইব্রাহীম (আঃ) সে মাঠে উপনীত হলেন যেখানে বার বছর পূর্বে স্বীয় সন্তানকে মা হাজেরাসহ নিঃস্ব অবস্থায় পরিত্যাগ করে গিয়েছিল। ইসমাঈল আব্বাজানকে দেখে সম্মান করলেন। ইব্রাহীম (আঃ) বললেন, ইসমাঈল! ছুরি ও রশি নিয়ে জঙ্গলে চল; রান্না বান্নার জন্য কাট কেটে নিয়ে আসি। ইসমাঈল (আঃ) আব্বার আদেশ পেয়ে দৌড়ে লম্বা রশি এবং তীক্ষ্ণ ছুরি নিয়ে আব্বার সাথে জঙ্গলাভিমুখে চললেন। বাবাকে বল্লেন, আমি জবাই হয়ে যাওয়ার পর আমার রক্ত মাখা জামা কাপড়গুলো আমার দুঃখিনী মায়ের কাছে নিয়ে দিবেন, আমার মাকে আর মা বলে ডাকবার মত কেউ নেই। আমি একমাত্র ছেলে, বড় দুঃখিনি আমার মাতা সাহেবানী, আমাকে না দেখলে মা আমার হবে পাগলিনী । তাই রক্তমাখা জামা কাপড়গুলো মায়ের হাতে দিয়ে বলবেন, হাজেরা তোমার ইসমাঈল আল্লাহর নামে কোরবানী হয়ে গেছে। তারপর ইব্রাহীম (আ:) ইসমাঈলের হাত পাগুলো বেঁধে দিলেন। মেঘেতে যেরুপ চন্দ্র ঢাকে অন্ধকার করে বুক খানী, কাপড় দিয়ে ঢাকনা দিলেন আহারে চাঁদের মুখ খানি। যখন ইসমাঈলকে জবাই করার জন্য উপুড় করে শোয়ায়ে নিজের চোখ বেঁধে ইব্রাহীম (আ:) ছুরি হাতে নিলেন, তখন আসমান কাঁদে, জমিন কাঁদে, আরশ কুরসী কাঁদে, ফেরেশতারা কাঁদেন।

“হে আব্বাজান! আল্লাহ্ পাকের হুকুম
হয়ে থাকলে আপনি মোটেই দেরি করবেন না। তাড়া-তাড়ি আমার গলায় ছুরি চালিয়ে দেন, নিশ্চয়ই আপনি আমাকে ধৈর্যশীল রুপে দেখতে পাবেন।” (আল কোরআন)

“শেষ পর্যন্ত যখন দু’জনই অনুগত হয়ে মাথা নত করে দিলেন,এবং ইব্রাহীম তার ছেলেকে উপুর করে শুইয়ে দিলেন,তখন আমি আওয়াজ দিলাম-হে ইব্রাহীম আপনি স্বপ্ন কে সত্য করে দেখিয়ে দিয়েছেন।
আমি নেক লোকদেরকে এ ভাবেই পুরস্কার দিয়ে থাকি। নিশ্চয় এটা একটা স্পষ্ট পরিক্ষা ছিলো।”
(সূরা সাফফাত-১০৩-১০৬)

কুরবানীর ইতিহাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় এর প্রকৃত অর্থ মূলত আল্লাহ তায়ালা এটাই চান,তার বান্দারা তার জন্যই জান ও মাল সব কুরবান করতে যেন প্রস্তুত থাকেন। আর যাকে যত বেশি ভালোবাসেন অর্থাৎ যে যত বেশি ঈমানদার,তার কুরবানীটা হয় ততটা উচ্চ মাপের। যেমনটা হয়েছিলো হযরত ইব্রাহীম(আ:)এর সাথে।

★ কুরবানীর মূল উদ্দশ্য হলো-
১. এটা স্বীকার করে নেওয়া আল্লাহ তায়ালাই একমাত্র মুনিব, ইবাদত পাওয়ার একমাত্র অধিকার তারই। তারই বিধান মানা ছাড়া অন্য বিধান মানা যাবে না, আর তার বিধানকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যেকোন ত্যাগ, কুরবানীর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
২. পশুর সাথে সাথে নিজের ভিতরের পশুত্বকেও কুরবানী করা, অর্থাৎ,আমাদের মধ্যে আল্লাহর অপছন্দনীয় যে সকল অসৎ গুনাবলী, অসৎ চিন্তা-আচরন,কাজ কর্ম আছে তা শুধু মাত্র আল্লাহর জন্য বর্জন করা।

“(কুরবানীর পশুদের)গোশত আল্লাহর কাছে পৌছে না,তাদের রক্ত পৌছে না, কিন্তু তোমাদের তাকওয়াই শুধু পৌছে।”
(সূরা হজ্জ-৩৭)

তাই আমাদের সমাজে যে ভাবে লোক দেখানোর জন্য প্রতিযোগিতা করে কুরবানী দেওয়ার মহড়া চলে তা সত্যিই ইসলাম পরিপন্থী ও আল্লাহর নিকট অগ্রহণযোগ্য।

এ জন্য আসুন,আমরা নিজেদের নিয়তকে পরিশুদ্ধ করে শুধু মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য পশু কুরবানী করি।
এর সাথে সাথে নিজেদের মাঝে যে পশুত্ব আছে সেটিকেও কুরবানী করে কুরবানীর মূল শিক্ষা অর্জন করি।
আর শপথ নেই আমাদের সব কিছু হবে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য,অন্য কারো জন্য নয়।
কারন আল্লাহ তায়ালা প্রকৃত মুমিনের পরিচয় সম্পর্কে বলছেন-

“নিশ্চয় আমার নামাজ,আমার যাবতীয় কুরবানী,আমার জীবন ও মৃত্যু একমাত্র বিশ্ব জাহানের রব মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের জন্য।”
(সূরা আনআম-১৬২)

এবার আসি কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা প্রসঙ্গেঃ
★কাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব?
১. আকিল, ২. বালিগ (মুসাফির নয় এমন) ব্যক্তি, ৩. ১০ ই যিলহজ্জ ফজর হতে ১২ই যিলহজ্ব সন্ধা পযর্ন্ত সময়ের মধ্যে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়,
নিসাব হল,(অর্থাৎ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও উপার্জনের উপকরণ ইত্যাদি) বাদ দিয়া যদি সাড়ে সাত তোলা স্বর্ন বা সারে বায়ান্ন তোলা রৌপ্য কিংবা উহার মূল্য বা সমমূল্যের অন্য কোন মালের মানিক হয় তবে তার উপর কোরবানী ওয়াজিব।
৪. কোরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য যাকাতের নিসাবের মত সম্পদের নিসাবের মত সম্পদের এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। বরং যে অবস্থায় সাদাকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয় ঐভঅবস্থায় কোরবানীও ওয়াজিব হবে।

* মুসাফিরের উপর কোরবানী ওয়াজিব নয়।
* কোন মহিলার নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হলে তার উপর কোরবানী ওয়াজিব।
* নিজের পক্ষ থেকে কোরবানী করা ওয়াজিব।
* নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক ব্যক্তির উপর শুধুমাত্র একটি কোরবানী ওয়াজিব। একাধিক কোরবানী করা ওয়াজিব নয়।
*ঋণ করে কোরবানী করা ভাল নয়।
* ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ঋণ পরিশোধের ব্যবস্হা করবে।

কুরবানী সম্পর্কিত আরও গুরুত্তপূর্ণ কিছু মাসয়ালাঃ
★প্রশ্ন: আদাবে কুরবানী কী?
উত্তর: কুরবানীর পশুকে কুরবানী করার আগে কিছু দিন লালন – পালন করা উত্তম। যাতে উক্ত পশুর সাথে কুরবানী দাতার মহব্বত সৃষ্টি হয়। মাহবুব বা প্রিয় পশুকে যবেহ করলে অধিক ছাওয়াব পাওয়া যাবে। কেননা, এতে হযরত ইব্রাহীম আ. এর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈল আ. কে কুরবানী দেওয়ার সাদৃশ্য পাওয়া যায়। এতে শুধু আল্লাহর মুহাব্বতে কুরবানী করার বহির প্রকাশ ঘটে, এবং তাঁর নৈকট্য হাসিলের জন্য পশুকে প্রস্তুত করা হয়। তাই পশুকে লালন পালন করে কুরবানী করা উত্তম ও মুস্তাহাব। রাসূল সা. এরশাদ করেন তোমরা তোমাদের কুরবানীর পশুর খাতির যত্ন কর কেননা উহা তোমাদের পুলসিরাতের বাহন হবে। জীবনে যত কুরবানী করা হয়েছে সব পশুগুলোকে একটি পশু বানিয়ে তার পুলসিরাতের বাহন বানানো হবে। {সুবহানআল্লাহ}

★যবেহ করার মসনুন ত্বরিকা বা পদ্ধতি কী?
উত্তরঃ পশুকে পানি পান করিয়ে যবেহের স্থানে স্বযত্নে নিয়ে, যথাসম্ভব পশুর কষ্ট না হয় মত কেবলামুখী করে শোয়ায়ে নিজ্ব হাতে যবেহ করা। যদি নিজে যবেহ করার নিয়ম না জানে তবে কাউকে দিয়ে যবেহ করালে নিজে যবেহের স্থানে উপস্থিত থেকে “বিসমিল্লাহি আল্লাহুআকবার” এর তালক্বীন দেয়া। যাতে যবেহ কারি ভুল না করে এবং তার পরিশ্রমিক দেয়া। ইমাম সাহেব জবেহ না করলেও ঈদ হিসেবে ইমাম সাহেবকে ঈদ উপলক্ষে গিফট/ হাদীয়া দিয়ে দোয়া নেওয়া চাই। (ফতওয়ায়ে শামী খন্ড ৬ পৃঃ ৩২৮)

★প্রশ্ন:-“কুরবানীর গোশত কিভাকে বন্টন করবে ?
উত্তর:- যদি কুরবানী শরীকে করে তাহলে দাড়িপাল্লা দিয়ে মেপে সমান ভাবে বন্টন করতে হবে। অনুমানের ভিত্তিতে বন্টন করা জায়েয নাই।” কুরবানীকারী ব্যক্তি নিজ কুরবানীর পশুর গোশতের ব্যপারে স্বাধীন। তবে কুরবানীর গোশতকে তিন ভাগ করা মুস্তাহাব। এক ভাগ নিজের জন্য রাখা। আরেক ভাগ আত্বীয় স্বজনকে দেওয়া। আরেক ভাগ গরীব মিসকীনদেরকে দেওয়া। যদি কেউ দুই ভাগ নিজে রাখে এক ভাগ দান করে তাও জায়েয আছে। কেউ যদি পুরোটাই রেখে দেয় কাউকে না দেয় তাও জায়েয। (তবে বিবেকের দাবি হল, গরীব মিসকীনদেরকে দেওয়া, আমাদের প্রতিবেশী অনেকে আছে, যারা কুরবানী করতে পারতেছেনা, পুরা বৎসরে এক কেজি গোশত কিনে খাওয়ার তাওফীক্ব হয়না, তাই ওদেরকে কিছু কিছু দেওয়া প্রতিবেশীর হক্বও আদায় হল, ওদের মনটাও খুশি হল।)

★কুরবানীর গোসত যতদিন মনে চায়, তত দিন খাওয়া যাবে, ফ্রিজে রেখে কিবা অন্য ভাবে কোন সমস্যা নাই।” তিন দিনের ভিতরে শেষ করতে হবে এমন কোন শর্ত নেই।(মাসায়েলে কুরবানী) কুরবানীর গরু বানানোর জন্য যদি বদলা রাখা হয় বদলার সাথে আগেই দরদাম ঠিক করে নিবে। এরপর মন চাইলে তাকে গোশত হাদীয়া দিবে। গোশত বেশী দিয়ে টাকা কম দেওয়া জায়েয নেই।

★প্রশ্ন :- কুরবানীর চামড়ার হুকুম কী?।
উত্তর :- কুরবানীর চামড়ার বিধান হল, যদি কেউ চাই চামড়াকে দেবাগত করে নিজে ব্যবহার করতে পারবে। আর যদি বিক্রি করে তাহলে ঐ টাকা যারা যাকাত ফিৎরা গ্রহণ করার উপযুক্ত তাদেরকে দিবে। কোন মাদ্রাসায় যেখানে এতিম ছাত্র আছে সেখানে দেওয়া উত্তম। শরীকে গোস্ত যেভাবে বন্টন করবে, চামড়ার টাকাও সেভাবে ভাগ করতে হবে। (শামী)

বি: দ্র: = অনেক মাদ্রাসা ওয়ালার চামড়া কালেকশন করে বাজারের সর্বোচ্ছ দামে বিক্রি করে, আপনি ঐ ভাবে দিলেই গরিবের বেশি উপকার। দামটাও বেশী পেলেন মাদ্রাসা ওয়ালাকে একটা অংশ দিলেন, বাকি টাকা গরিব মিসকিনদেরকে দিলেন। সবদিক থেকে আপনি বেশী ছাওয়াবের অধিকারী হবেন। তালেবে ইলমকেও সহযোগিতা করা হল, পাশাপাশি অন্যদেরকেও।
★প্রশ্ন : আকীকার হুকুম কী?
উত্তর :- আকীকা করা সুন্নত। যারা সামর্থবান তাদের জন্য সন্তানের আকীকা করা উচিৎ। মেয়ের জন্য একটি ছাগল এবং ছেলের জন্য দু ‘টি হলে ভালো একটিও দেয়া যেতে পারে। (মিরকাত)
কুরবানীর পশুতে আকীকার অংশ নিতে পারবে। ছেলে হলে দুই শরীক, মেয়ে হলে এক শরীক, ছেলের বেলায়ও এক শরীক দিলেও আকীকা আদায় হবে। আকীকার গোশত যার নামে আকীকা করা হয়েছে সে নিজে এবং তার মাতা – পিতা সবাই খেতে পারবে। যদি বড় হয়ে নিজের আকীকা নিজে করে তখনো খেতে পারবে।(যারা বলে আকীকার গোশত মাতা পিতা খেতে পারবেনা, সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন কথা) আকীকার গোশত ও চামড়ার আহকাম হুবহু কুরবানীর পশুর ন্যায়। সুতরাং যে পরিমান মূল্য আকীকার চামড়া বিক্রি করে পাওয়া যায় তৎপরিমাণ ছদকা করে দিতে হবে। (যারা বলে কুরবানীর পশুর সাথে আক্বীকা করা যায়না তাদের কথা ভিত্তিহীন, খবর নিলে হয়ত জানবো তাদের আকীকাও সেভাবে হয়েছে।) (বাহরুর রায়েক, ইমদাদুল মুফতীয়্যীন – ৯৬)

কুরবানীর পশুর চামড়ার আরও কয়েকটি মাসআলা :
কুরবানীর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে নিজেও ব্যবহার করা জায়িয। অন্য কাউকে হাদীয়া দেওয়া ও জায়িয। যদি বিক্রয় করে তা হলে চামড়ার মূল্য গরীব মিসকীনদের কে সদকা করে দেয়া ওয়াজিব। নফল কুরবানীর চামড়া ও গোশতের হুকুম ওয়াজিব কুরবানীর মতোই। কুরবানীর চামড়া বিক্রয় করে তার মূল্য দিয়ে মসজিদ মেরামত, রাস্তা-ঘাট বাধা, মাদ্রাসা-মক্তব তৈরী করা জায়িয হবে না। (ফাতওয়ায়ে শামী)

মাসআলা : গরীবদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুর্নবাসনের জন্যে কেউ কোন প্রকল্প গ্রহণ করে থাকলে তাতে চামড়া বা চামড়া বিক্রির টাকা প্রদান করা যায়।
মাসআলা : চামড়া পচনশীল দ্রব্য। পচার কারণে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। তাই পচা চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা এবং সেই সাথে পরিত্যক্ত নাড়ি-ভূড়ি সমস্ত কিছু মাটিতে গভীর খাদ খুড়ে মাটি চাপা দেয়া উচিৎ।
মাসআলা : কুরবানীর পশুর রশি ইত্যাদি গরীবদের কে দান করে দিতে হবে। নিজের কাজে ব্যবহার করতে পারবে না।

মাসআলা : নাবালেগ শিশু কিশোররা নেসাবের মালিক হলেও তাদের উপর কোরবানী ওয়াজিব না। (হিন্দিয়া : ৫/২৯৩)

মাসআলা : কোন ধনী ব্যক্তি কুরবানীর দিনগুলো আসার পুর্বেই কুরবানী করার মান্নত করলে ঐ ধনী ব্যক্তির জন্য দুটি কুরবানী করতে হবে। একটি ওয়াজিব অপরটি মান্নতের। (শামীঃ ৯/৪৬৪,হিন্দীয়াঃ ৪/৩৩০)

মাসআলা : কুরবানীর পশুর চামড়ার বিক্রিত মূল্য দ্বারা, মসজিদ-মাদ্রাসা মেরামত করা যাবে না। ইমাম-মুআযযিনের বেতন দেওয়া যাবে না। এমন কি মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতনও প্রদান করা যাবে না। বরং এ টাকা জাকাত গ্রহনের উপযুক্ত গরীব মিসকীনকে সদকা করে দেওয়া জরুরী। তবে এ টাকা মাদ্রাসার গরিব ছাত্রকে দিলে ২ গুন সওয়াব হবে।(হেদায়া কিতাব)}

[রেফারেন্সঃ বাদয়েউস সানায়েঃ ৪/২২৫, ইমদাদুল ফাতাওয়াঃ ৩/৫৬৬, ইলাউস সুনানঃ ১৭/২৫৪-২৬০, কেফায়াতুল মুফতীঃ ৮/২৪৮।]

আপনার মতামত লিখুন :

 ফেসবুক পেজ

 আজকের নামাজের ওয়াক্ত শুরু

    নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বাংলাদেশ
    সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২
    ৬ Rabi' I, ১৪৪৪
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ
    যোহরদুপুর ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
    আছরবিকাল ৩:১২ অপরাহ্ণ
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
    এশা রাত ৭:০০ অপরাহ্ণ
এর আরও খবর
জুমার দিনের ফজিলত ও জুমার আগে চার আমল

জুমার দিনের ফজিলত ও জুমার আগে চার আমল

প্রস্রাব-পায়খানার পর ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহারের পরেও পানি খরচ কি খুব জরুরি?

প্রস্রাব-পায়খানার পর ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহারের পরেও পানি খরচ কি খুব জরুরি?

মাদকের ভয়াল থাবা: শাস্তি ও প্রতিকারের উপায়

মাদকের ভয়াল থাবা: শাস্তি ও প্রতিকারের উপায়

দুর্গাপুরে আবু তালহা রা: মাদ্রাসায় ২৬ জন শিক্ষার্থীর কোরআন শরীফ ছবকদান

দুর্গাপুরে আবু তালহা রা: মাদ্রাসায় ২৬ জন শিক্ষার্থীর কোরআন শরীফ ছবকদান

কন্যা সন্তান উত্তম : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

কন্যা সন্তান উত্তম : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

আত্মহত্যা থেকে বাঁচার উপায় : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

আত্মহত্যা থেকে বাঁচার উপায় : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : দিলওয়ার খান
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম  
অস্থায়ী কার্যালয় : এআরএফবি ভবন, ময়মনসিংহ রোড, সাকুয়া বাজার, নেত্রকোণা সদর, ২৪০০ ।
ফোনঃ ০১৭৩৫ ০৭ ৪৬ ০৪, বিজ্ঞাপনঃ ০১৬৪৫ ৮৮ ৪০ ৫০
ই-মেইল : netrokonajournal@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।