সব
facebook netrokonajournal.com
এভাবেই প্রতিদিন হামাগুড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে আজহারুল | নেত্রকোণা জার্নাল

এভাবেই প্রতিদিন হামাগুড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে আজহারুল

প্রকাশের সময়:

এভাবেই প্রতিদিন হামাগুড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে আজহারুল

জন্ম থেকেই দুই পা উল্টো, সরু ও -বাঁকা। তবুও স্বপ্ন জয়ে বিভোর। শত বাধা উপেক্ষা করে হামাগুঁড়ি দিয়ে এবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এসএসসি পাস করল আজহারুল। সে বালালী বাঘমারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ২.৮৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

আজহারুলের এই সাফল্য হতবাক করেছে অনেককে। তবে আরো ভালো ফলাফল করার ইচ্ছে ছিলো আজহারুলের। এখন সে স্বপ্ন দেখছে ভালো কলেজে লেখাপড়া করে সরকারি চাকরি করার।
আজহারুলের বাড়ি নেত্রকোনার মদন উপজেলার বনতিয়শ্রী গ্রামে। তারা তিন ভাই, তিন বোন। ভাই বোনদের মধ্যে পাঁচ নম্বর আজহারুল। অভাবের সংসারে প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়া আজহারুলকে ছোটবেলা থেকেই হোঁচট খেয়ে বড় হতে হয়েছে। তার দুই হাতও বাঁকা। এরপরও দুই হাতের ওপর ভর করে স্বপ্ন জয়ের পথে এগিয়ে চলছে আজহারুল ইসলাম। অদম্য ইচ্ছা আর স্বপ্ন জয়ের দারুণ আগ্রহ রয়েছে তার। এ জন্য বাড়ি থেকে প্রতিদিন তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কোনোমতে হামাগুড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে আসত আজহারুল। বাবা মনির উদ্দিনের ভিটেবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। তার বাবা দিনমজুরি করে সংসার চালান।
তার পারিবার জানায়, পাঁচ বছর ধরে দুই হাতে ভর করে হামাগুঁড়ি দিয়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসত-যেত আজহারুল। যদি অটো কিংবা রিকশা দিয়ে আসতে হয় তাহলে প্রতিদিন খরচ হয় ৫০ টাকা। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব না। তাই হামাগুড়ি দিয়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করত আজহারুল। সে প্রাথমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ২ দশমিক ৮৩ জিপিএ পেয়ে কৃতকার্য হয়। জেএসসিতে পায় ২ দশমিক ৫৫।
আজহারুল ইসলাম বলে, লেখাপড়া শিখে আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী হতে চাই। এ জন্য প্রতিদিন স্বপ্ন দেখছি বড় হওয়ার। সরকারি সুযোগ সুবিধা পেলে ভাল একটি কলেজে ভর্তি হতে পারবো।
আজহারুল আরো বলে, আমি প্রতিবন্ধী হলেও সবার সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে পারি। আমি ক্রিকেট খেলার সুযোগ চাই।
আজহারুলের বাবা মনির উদ্দিন মিয়া বলেন, আমরা গরীব মানুষ, তাকে পড়া লেখা করাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। আমরা এমনিতেই চলতে পারছি না। আমার ভিটাবাড়ি ছাড়া কোন কিছু নেই,আমার একটি ভাল ঘরও নেই। কিভাবে আমার তার পড়াশোনার খরচ বহন করব। সরকারি সহযোগিতা পেলে তাকে পড়াশোনা করাতে পারব।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, আজহারুল পাস করায় আমরা খুবই খুশি। আজহারুল একজন মেধাবী ছাত্র, আর্থিক সমস্যার কারণে ওকে প্রতিদিন হামাগুঁড়ি দিয়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা পারি দিয়ে আসতে হয়েছে। আমি চাই বিত্তবানরা যেন ওকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেন।
উপজেলা নির্বাহী মোঃ ওয়ালীউল হাসান বলেন, আজহারুল এসএসসি পাস করেছে শুনে খুবই খুশি হলাম। তাকে সরকারি সহযোগীতা দেওয়া হয়েছিল। আরো দেওয়া হবে। আমরা তার পরিবারের খোঁজ খবর নিচ্ছি। পড়াশোনার খরচের সমস্যা হলে উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

আপনার মতামত লিখুন :

 ফেসবুক পেজ

 আজকের নামাজের ওয়াক্ত শুরু

    নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বাংলাদেশ
    সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২
    ৬ Rabi' I, ১৪৪৪
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ
    যোহরদুপুর ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
    আছরবিকাল ৩:১২ অপরাহ্ণ
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
    এশা রাত ৭:০০ অপরাহ্ণ
বারহাট্টায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উদযাপন

বারহাট্টায় জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উদযাপন

কারাবন্দিদের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কারাবন্দিদের সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

মোহনগঞ্জ হাসপাতাল থেকে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারী গায়েব

মোহনগঞ্জ হাসপাতাল থেকে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারী গায়েব

আটপাড়ায় পথশিশুদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ

আটপাড়ায় পথশিশুদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ

আটপাড়ায় আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রামের কেন্দ্র পরিদর্শন

আটপাড়ায় আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রামের কেন্দ্র পরিদর্শন

কেন্দুয়ায় ব্রীজের দুই পাশেই ভাঙ্গা : যেনো দেখার কেউ নেই

কেন্দুয়ায় ব্রীজের দুই পাশেই ভাঙ্গা : যেনো দেখার কেউ নেই

সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : দিলওয়ার খান
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম  
অস্থায়ী কার্যালয় : এআরএফবি ভবন, ময়মনসিংহ রোড, সাকুয়া বাজার, নেত্রকোণা সদর, ২৪০০ ।
ফোনঃ ০১৭৩৫ ০৭ ৪৬ ০৪, বিজ্ঞাপনঃ ০১৬৪৫ ৮৮ ৪০ ৫০
ই-মেইল : netrokonajournal@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।