সব
facebook netrokonajournal.com
কন্যা সন্তান উত্তম : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার | নেত্রকোণা জার্নাল

কন্যা সন্তান উত্তম : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

প্রকাশের সময়:

কন্যা সন্তান উত্তম : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

ads1

ইসলামিক জার্নাল ডেস্ক:
হে আমাদের প্রভু! আপনি আমাদেরকে এমন স্ত্রী ও সন্তানসন্ততি দান করুন, যারা হবে আমাদের চোখের শীতিলতা; আর আমাদেরকে আপনি মুত্তাকিদের প্রধান করে দিন। -সূরা ফুরকান-৭৪

আল্লাহর কাছে উত্তম স্ত্রী ও উত্তম সন্তান প্রার্থনা করা স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা-ই শিখিয়েছেন। এ উত্তম সন্তান ছেলেও হতে পারে আবার মেয়েও হতে পারে। তবে মানুষের স্বভাবজাত আকর্ষণ হলো ছেলে সন্তান কামনা করা। এমনকি অনেক পরিবারে মেয়ে সন্তান জন্ম দেয়ার অপরাধে স্ত্রীদের উপর নানা নির্যাতন করা হয়। তাই এ প্রবন্ধে নারী শিশুর প্রতি ইসলাম কতটা শ্রদ্ধাশীল

তা উল্লেখ করত কিছুটা হলেও সমাজকে সচেতন করতে চাই। নবীজী সা. মেয়েদের ভরণপোষণের বিনিময়ে কোথাও বেহেশতের ওয়াদা করেছেন, কোথাও আবার তাদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ কিংবা লালনপালনের প্রতিদানে জাহান্নাম থেকে মুক্তির কথা বলেছেন। লক্ষ করুন-

مَنْ كُنّ لَهُ ثَلَاثُ بَنَاتٍ يُؤْوِيهِنّ، وَيَرْحَمُهُنّ، وَيَكْفُلُهُنّ، وَجَبَتْ لَهُ الْجَنّةُ الْبَتّةَ “، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ: فَإِنْ كَانَتْ اثْنَتَيْنِ؟ قَالَ: ” وَإِنْ كَانَتْ اثْنَتَيْنِ “، قَالَ: فَرَأَى بَعْضُ الْقَوْمِ، أَنْ لَوْ قَالُوا لَهُ وَاحِدَةً، لَقَالَ: ” وَاحِدَةً “.

যার তিনজন কন্যা সন্তান হবে আর সে তাদের আবাসের ব্যবস্থা করবে, তাদের প্রতি মমতা প্রদর্শন করবে এবং তাদের ভার বহন করবে, তার জান্নাত নিশ্চিত। জিজ্ঞেস করা হল-ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি দু’জন হয়? নবীজি সা. বললেন, দু’জন হলেও। বর্ণনাকারী বলেন, সাহাবীগণের কারও কারও ধারণা-‘যদি কেউ বলত একজন হলে? তাহলে নবীজী বলতেন, একজন হলেও।’ -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৪২৪৭; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৭৩৪৬

আরেক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

لاَ يَكُونُ لأَحَدِكُمْ ثَلاَثُ بَنَاتٍ أَوْ ثَلاَثُ أَخَوَاتٍ فَيُحْسِنُ إِلَيْهِنّ إِلاّ دَخَلَ الجَنّة.

তোমাদের কারও যদি তিনটি মেয়ে কিংবা তিনজন বোন থাকে আর সে তাদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে, তাহলে সে জান্নাতে যাবে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯১২

مَنْ كَانَ لَهُ ثَلاَثُ بَنَاتٍ أَوْ ثَلاَثُ أَخَوَاتٍ أَوْ ابْنَتَانِ أَوْ أُخْتَانِ فَأَحْسَنَ صُحْبَتَهُنّ وَاتّقَى اللهَ فِيهِنّ فَلَهُ الجَنّةُ.

যার তিনটি মেয়ে কিংবা তিনজন বোন রয়েছে, অথবা দুইটি মেয়ে কিংবা দুইজন বোন রয়েছে আর তাদের সঙ্গে সে ভালো ব্যবহার করেছে এবং তাদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করেছে (অর্থাৎ তাদের হক নষ্ট করেনি), তাহলে তার জন্যে রয়েছে জান্নাত! -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯১৬

مَنْ ابْتُلِيَ بِشَيْءٍ مِنَ البَنَاتِ فَصَبَرَ عَلَيْهِنّ كُنّ لَهُ حِجَابًا مِنَ النّار.

মেয়েদের লালনপালনের দায়িত্ব যার কাঁধে অর্পিত হয় আর তাদের বিষয়ে সে ধৈর্যধারণ করে তাহলে তারা তার জন্যে জাহান্নামের আগুন থেকে আড়াল হয়ে থাকবে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯১৩

এই হল মেয়েশিশুকে লালনপালন করে তার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করে তাকে সঠিক দীক্ষা দিয়ে বড় করে তোলার পুরস্কার। বেহেশতের নিআমত লাভ আর দোজখের আগুন থেকে মুক্তি! একজন পরকাল-বিশ্বাসী মুমিনের জন্যে এর চেয়ে বড় কোনো পুরস্কারের আর দরকার হয় না। কিন্তু হাদীস শরীফে মেয়ের অভিভাবকের জন্যে ঘোষিত হয়েছে এর চেয়েও বড় এক পুরস্কার! এরশাদ হয়েছে –

مَنْ عَالَ جَارِيَتَيْنِ دَخَلْتُ أَنَا وَهُوَ الجَنّةَ كَهَاتَيْنِ، وَأَشَارَ بِأصْبعَيْهِ.

নবীজি সা. বলেন, যে ব্যাক্তি দুটি মেয়েশিশুকে দেখাশোনা করল, লালনপালন করল, আমি এবং সে এভাবে জান্নাতে প্রবেশ করব। একথা বলে তিনি হাতের দুই আঙ্গুল পাশাপাশি ইশারা করে দেখিয়েছেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৯১৪

পরকালে প্রিয় নবীজি সা.এর সঙ্গ লাভ করা-একজন নবীপ্রেমিকের জন্য এর চেয়ে বড় পছন্দের বিষয় আর কী হতে পারে! তাই মেয়েরা হলো বাবা-মায়ের জান্নাত লাভের মাধ্যম, জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির উপায় এবং প্রিয় নবীজি সা.এর সঙ্গ লাভের ওসীলা। এ মর্যাদা ও ফযিলত এককভাবে মেয়েদেরই। ছেলেদের ভরণপোষণে এমন কোনো অঙ্গীকার আমার নজরে পরেনি। হাঁ, সন্তান যদি নেককার হয়, তাহলে তার দুআর ফল মৃত্যুর পর কবরে থেকেও লাভ করা যাবে, চায় সে সন্তান ছেলে হোক বা মেয়ে। আর এজন্যে প্রয়োজন বাবা -মা’র আদর্শ তত্ত্বাবধায়ন ও ধর্মীয় শিক্ষা।

মেয়ে সন্তানের মর্যাদা নিয়ে রাসূল সা. যে সময়ে কথা বলেছেন তখন পরিবেশ পরিস্থিতি মোটেই নারীদের অনুকূলে ছিলো না। বাবারা মেয়েশিশুকে নিজের জন্যে খুবই অপমানের বিষয় মনে করত।

এমনকি নিজ হাতে মেয়েশিশু জীবন্ত দাফন করে দিত। পবিত্র কুরআনের একটি বর্ণনা-

وَ اِذَا بُشِّرَ اَحَدُهُمْ بِالْاُنْثٰی ظَلَّ وَجْهُهٗ مُسْوَدًّا وَّ هُوَ كَظِیْمٌ، یَتَوَارٰی مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوْٓءِ مَا بُشِّرَ بِهٖ، اَیُمْسِكُهٗ عَلٰی هُوْنٍ اَمْ یَدُسُّهٗ فِی التُّرَابِ، اَلَا سَآءَ مَا یَحْكُمُوْنَ.

তাদের কাউকে যখন মেয়েশিশুর সুসংবাদ দেয়া হয় তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়। তাকে যে সংবাদ দেয়া হয়, তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় থেকে আত্মগোপন করে। সে চিন্তা করে-হীনতা সত্তেও তাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে। সাবধান! তারা যে সিদ্ধান্ত নেয় তা খুবই নিকৃষ্ট! -সূরা নাহল (১৬) : ৫৮-৫৯

হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের মা হযরত মারইয়াম আ. জন্মের আগেই তার মা মান্নত করেছিলেন-সন্তান জন্মের পর তাকে বাইতুল মুকাদ্দাসের খেদমতে নিয়োজিত করবেন। তার ধারণা ছিল-তিনি ছেলেসন্তান জন্ম দেবেন। কিন্তু তিনি যখন এক কন্যাসন্তান প্রসব করলেন তখন কিছুটা হতাশার সুরে বলেছিলেন-হায়! আমি তো এক মেয়ে জন্ম দিলাম! মেয়েরা মসজিদের খেদমতের জন্যে উপযুক্ত নয়। আল্লাহ তাআলা তখন তাকে বলেছিলেন-

وَ لَیْسَ الذَّكَرُ كَالْاُنْثٰی.

ছেলে তো মেয়ের মতো নয়। সূরা আলে ইমরান-৩৬

অর্থাৎ যে ছেলে তুমি চেয়েছিলে, সে ছেলে মর্যাদায় তোমাকে যে মেয়ে দান করা হয়েছে তার সমপর্যায়ে পৌঁছতে পারবে না। তাই আর ভাবনা কীসের! পরবর্তীতে কী হয়েছে তা তো আমাদের জানা-ই। এই মেয়েকে আল্লাহ তাঁর কুদরতের এক নিদর্শন বানিয়ে দিয়েছেন। কোনো পুরুষের সংস্পর্শ ছাড়াই তার গর্ভ থেকে নবী হযরত ঈসা আ. জন্মগ্রহণ করেছেন। শুধু কী তাই! স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা নারীদের নামে সূরা নিশা নাযিল করেছেন। নারীর জীবন ব্যবস্থা করেছেন পিতা ও স্বামীর আনুকূল্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল। নিজের ভরণপোষণের দায়িত্বটুকুও ইসলাম পিতা ও স্বামীর হাতে ন্যাস্ত করেছে। অথচ ইসলাম আসার পূর্বে নারী ছিলো যৌনলালসার ভুগ্যসামগ্রী মাত্র।

আসুন সেকালে মেয়েশিশুদের প্রতি নির্দয়তার একটি উদাহরণ দিই। এক সাহাবী। নাম তার দাহিয়াতুল কালবী। ইসলাম গ্রহণ করার পর নবীজী সা. এর কাছে এসে নিজের ঘটনা শুনিয়েছেন। তার ভাষ্য-আমার যখনই কোনো মেয়েশিশু জন্ম নিত আমি তাকে জীবন্ত পুঁতে ফেলতাম। একবার আমি সফরে ছিলাম। তখন আমার এক মেয়ে জন্মগ্রহণ করে। তার মা তাকে বাড়িতে না রেখে তার মামাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। আমি যখন সফর থেকে ফিরে আসি তখন সন্তানের খবর নিই। সে আমাকে বলল-আমাদের এক মৃত শিশু জন্ম নেয়। এভাবে অনেক দিন কেটে যায়। আমার মেয়েটি তার মামার বাড়িতেই বড় হতে থাকে। একদিন সে তার মাকে দেখতে আসে। তার সৌন্দর্যে আমি মুগ্ধ হই। পরে আমি আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি-সে আমারই মেয়ে। এরপর আমি তাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। তার জন্যে মাটিতে একটি গর্ত খুঁড়ি। তাকে সেখানে ফেলে দিই। সে আমার কাছে জানতে চায়-বাবা, তুমি আমাকে কী করবে? আমি তার উপর মাটি ফেলতে থাকি আর সে বলতে থাকে-বাবা, তুমি কি আমাকে মাটিচাপা দিচ্ছ? আমাকে একাকী ছেড়ে দাও, আমি অন্য কোথাও চলে যাই। কিন্তু তার কোনো কথা না শুনে আমি তার উপর মাটি ফেলতেই থাকি, একপর্যায়ে তার সব আওয়াজ স্তব্ধ হয়ে যায়।

এ বিবরণ শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, এ তো নির্ঘাত এক পাষণ্ডতা! যে দয়া করে না, তাকেও দয়া করা হবে না! (আলওয়াফী বিল ওয়াফায়াত)

এই পরিস্থিতি যখন সমাজে বিরাজ করছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেয়েশিশুদের ভরণ-পোষণের এমন অতুলনীয় ফযিলতের কথা ঘোষণা করেছেন। এর পাশাপাশি সুস্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছিল নারীদের বিভিন্ন অধিকারের কথাও। অথচ তখনকার সমাজে নারীদের কোনো অধিকার তো নয়ই, বরং তাদের মানুষ হিসেবেও স্বীকৃতি ছিল না।

প্রায় দেড় হাজার বছর আগের অন্ধকার পৃথিবীতে আলো জ্বালিয়েছিলেন প্রিয় নবীজী সা.। অথচ এই আধুনিক যুগেও আমরা সেই অন্ধকারেই যেন ঘুরপাক খাচ্ছি। খুব ব্যাপক আকারে না হলেও, সমাজের মানুষের চোখে মেয়েশিশু ততটা কাঙ্কিত নয়। যদি কোনো নারীর পরপর দুটি মেয়েসন্তান হয় কিংবা ছেলেসন্তান কারও না-ই থাকে, অনেকের চোখে সে নিন্দার পাত্রে পরিণত হয়। মায়েরা ভয়ে থাকে-তাদেরকে কখন আবার কী শুনতে হয়! মেয়েশিশুর জন্মের সংবাদ কারও কারও জন্যে কোনো আনন্দই বয়ে আনে না, আবার কারও জন্যে তা হয়ে পড়ে কষ্টের বিষয়-ঠিক জাহেলি যুগের মতো! জীবন্ত পুঁতে ফেলার রেওয়াজ যদিও এখন নেই, কিন্তু মেয়েশিশুর প্রতি মানসিকতা যেন সেই অন্ধকার যুগের মতোই!

কিন্তু আমরা সকলেই এ বিশ্বাসও করি-সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে, এ নিয়ে বাবার কিংবা মায়ের কিছুই করার নেই। এটা সম্পূর্ণই আল্লাহ তাআলার ইচ্ছানুসারে হয়ে থাকে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ বিষয়টিই স্পষ্ট করে দিয়েছেন :

لِلهِ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ یَخْلُقُ مَا یَشَآءُ، یَهَبُ لِمَنْ یَّشَآءُ اِنَاثًا وَّ یَهَبُ لِمَنْ یَّشَآءُ الذُّكُوْرَ، اَوْ یُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَّ اِنَاثًا، وَ یَجْعَلُ مَنْ یَّشَآءُ عَقِیْمًا، اِنَّهٗ عَلِیْمٌ قَدِیْرٌ.

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা তা-ই সৃষ্টি করেন। যাকে ইচ্ছা তিনি কন্যাসন্তান দান করেন আর যাকে ইচ্ছা দান করেন পুত্রসন্তান। অথবা দান করেন পুত্র-কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা তিনি বন্ধ্যা করে রাখেন। তিনি সর্বজ্ঞ, শক্তিমান। -সূরা শূরা ৪৯-৫০। তাকে যে সংবাদ দেয়া হয়, তার গ্লানি হেতু সে নিজ সম্প্রদায় থেকে আত্মগোপন করে। সে চিন্তা করে-হীনতা সত্তেও তাকে রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে। সাবধান! তারা যে সিদ্ধান্ত নেয় তা খুবই নিকৃষ্ট! -সূরা নাহল (১৬) : ৫৮-৫৯

হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের মা হযরত মারইয়াম আ. জন্মের আগেই তার মা মান্নত করেছিলেন-সন্তান জন্মের পর তাকে বাইতুল মুকাদ্দাসের খেদমতে নিয়োজিত করবেন। তার ধারণা ছিল-তিনি ছেলেসন্তান জন্ম দেবেন। কিন্তু তিনি যখন এক কন্যাসন্তান প্রসব করলেন তখন কিছুটা হতাশার সুরে বলেছিলেন-হায়! আমি তো এক মেয়ে জন্ম দিলাম! মেয়েরা মসজিদের খেদমতের জন্যে উপযুক্ত নয়। আল্লাহ তাআলা তখন তাকে বলেছিলেন-وَ لَیْسَ الذَّكَرُ كَالْاُنْثٰی

ছেলে তো মেয়ের মতো নয়। সূরা আলে ইমরান-৩৬

অর্থাৎ যে ছেলে তুমি চেয়েছিলে, সে ছেলে মর্যাদায় তোমাকে যে মেয়ে দান করা হয়েছে তার সমপর্যায়ে পৌঁছতে পারবে না। তাই আর ভাবনা কীসের! পরবর্তীতে কী হয়েছে তা তো আমাদের জানা-ই। এই মেয়েকে আল্লাহ তাঁর কুদরতের এক নিদর্শন বানিয়ে দিয়েছেন। কোনো পুরুষের সংস্পর্শ ছাড়াই তার গর্ভ থেকে নবী হযরত ঈসা আ. জন্মগ্রহণ করেছেন। শুধু কী তাই! স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা নারীদের নামে সূরা নিশা নাযিল করেছেন। নারীর জীবন ব্যবস্থা করেছেন পিতা ও স্বামীর আনুকূল্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল। নিজের ভরণপোষণের দায়িত্বটুকুও ইসলাম পিতা ও স্বামীর হাতে ন্যাস্ত করেছে।

অথচ ইসলাম আসার পূর্বে নারী ছিলো যৌনলালসার ভুগ্যসামগ্রী মাত্র। আসুন সেকালে মেয়েশিশুদের প্রতি নির্দয়তার একটি উদাহরণ দিই। এক সাহাবী। নাম তার দাহিয়াতুল কালবী। ইসলাম গ্রহণ করার পর নবীজী সা. এর কাছে এসে নিজের ঘটনা শুনিয়েছেন। তার ভাষ্য-আমার যখনই কোনো মেয়েশিশু জন্ম নিত আমি তাকে জীবন্ত পুঁতে ফেলতাম। একবার আমি সফরে ছিলাম। তখন আমার এক মেয়ে জন্মগ্রহণ করে। তার মা তাকে বাড়িতে না রেখে তার মামাদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। আমি যখন সফর থেকে ফিরে আসি তখন সন্তানের খবর নিই। সে আমাকে বলল-আমাদের এক মৃত শিশু জন্ম নেয়। এভাবে অনেক দিন কেটে যায়। আমার মেয়েটি তার মামার বাড়িতেই বড় হতে থাকে। একদিন সে তার মাকে দেখতে আসে। তার সৌন্দর্যে আমি মুগ্ধ হই। পরে আমি আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারি-সে আমারই মেয়ে। এরপর আমি তাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। তার জন্যে মাটিতে একটি গর্ত খুঁড়ি। তাকে সেখানে ফেলে দিই। সে আমার কাছে জানতে চায়-বাবা, তুমি আমাকে কী করবে? আমি তার উপর মাটি ফেলতে থাকি আর সে বলতে থাকে-বাবা, তুমি কি আমাকে মাটিচাপা দিচ্ছ? আমাকে একাকী ছেড়ে দাও, আমি অন্য কোথাও চলে যাই। কিন্তু তার কোনো কথা না শুনে আমি তার উপর মাটি ফেলতেই থাকি, একপর্যায়ে তার সব আওয়াজ স্তব্ধ হয়ে যায়। এ বিবরণ শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, এ তো নির্ঘাত এক পাষণ্ডতা! যে দয়া করে না, তাকেও দয়া করা হবে না! (আলওয়াফী বিল ওয়াফায়াত)

এই পরিস্থিতি যখন সমাজে বিরাজ করছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেয়েশিশুদের ভরণ-পোষণের এমন অতুলনীয় ফযিলতের কথা ঘোষণা করেছেন। এর পাশাপাশি সুস্পষ্ট ঘোষণা করা হয়েছিল নারীদের বিভিন্ন অধিকারের কথাও। অথচ তখনকার সমাজে নারীদের কোনো অধিকার তো নয়ই, বরং তাদের মানুষ হিসেবেও স্বীকৃতি ছিল না।

প্রায় দেড় হাজার বছর আগের অন্ধকার পৃথিবীতে আলো জ্বালিয়েছিলেন প্রিয় নবীজী সা.। অথচ এই আধুনিক যুগেও আমরা সেই অন্ধকারেই যেন ঘুরপাক খাচ্ছি। খুব ব্যাপক আকারে না হলেও, সমাজের মানুষের চোখে মেয়েশিশু ততটা কাঙ্কিত নয়। যদি কোনো নারীর পরপর দুটি মেয়েসন্তান হয় কিংবা ছেলেসন্তান কারও না-ই থাকে, অনেকের চোখে সে নিন্দার পাত্রে পরিণত হয়। মায়েরা ভয়ে থাকে-তাদেরকে কখন আবার কী শুনতে হয়! মেয়েশিশুর জন্মের সংবাদ কারও কারও জন্যে কোনো আনন্দই বয়ে আনে না, আবার কারও জন্যে তা হয়ে পড়ে কষ্টের বিষয়-ঠিক জাহেলি যুগের মতো! জীবন্ত পুঁতে ফেলার রেওয়াজ যদিও এখন নেই, কিন্তু মেয়েশিশুর প্রতি মানসিকতা যেন সেই অন্ধকার যুগের মতোই!

কিন্তু আমরা সকলেই এ বিশ্বাসও করি-সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে, এ নিয়ে বাবার কিংবা মায়ের কিছুই করার নেই। এটা সম্পূর্ণই আল্লাহ তাআলার ইচ্ছানুসারে হয়ে থাকে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ বিষয়টিই স্পষ্ট করে দিয়েছেন :

لِلهِ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ یَخْلُقُ مَا یَشَآءُ، یَهَبُ لِمَنْ یَّشَآءُ اِنَاثًا وَّ یَهَبُ لِمَنْ یَّشَآءُ الذُّكُوْرَ، اَوْ یُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَّ اِنَاثًا، وَ یَجْعَلُ مَنْ یَّشَآءُ عَقِیْمًا، اِنَّهٗ عَلِیْمٌ قَدِیْرٌ.

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা তা-ই সৃষ্টি করেন। যাকে ইচ্ছা তিনি কন্যাসন্তান দান করেন আর যাকে ইচ্ছা দান করেন পুত্রসন্তান। অথবা দান করেন পুত্র-কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা তিনি বন্ধ্যা করে রাখেন। তিনি সর্বজ্ঞ, শক্তিমান। -সূরা শূরা ৪৯-৫০

লেখক ও আলোচক, কলমাকান্দা
ads1

আপনার মতামত লিখুন :

 ফেসবুক পেজ

 আজকের নামাজের ওয়াক্ত শুরু

    নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বাংলাদেশ
    মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২
    ৩০ Safar, ১৪৪৪
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৪৮ পূর্বাহ্ণ
    যোহরদুপুর ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
    আছরবিকাল ৩:১৫ অপরাহ্ণ
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৫১ অপরাহ্ণ
    এশা রাত ৭:০৬ অপরাহ্ণ
এর আরও খবর
প্রস্রাব-পায়খানার পর ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহারের পরেও পানি খরচ কি খুব জরুরি?

প্রস্রাব-পায়খানার পর ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহারের পরেও পানি খরচ কি খুব জরুরি?

মাদকের ভয়াল থাবা: শাস্তি ও প্রতিকারের উপায়

মাদকের ভয়াল থাবা: শাস্তি ও প্রতিকারের উপায়

দুর্গাপুরে আবু তালহা রা: মাদ্রাসায় ২৬ জন শিক্ষার্থীর কোরআন শরীফ ছবকদান

দুর্গাপুরে আবু তালহা রা: মাদ্রাসায় ২৬ জন শিক্ষার্থীর কোরআন শরীফ ছবকদান

কন্যা সন্তান উত্তম : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

কন্যা সন্তান উত্তম : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

আত্মহত্যা থেকে বাঁচার উপায় : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

আত্মহত্যা থেকে বাঁচার উপায় : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব

সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : দিলওয়ার খান
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম  
অস্থায়ী কার্যালয় : এআরএফবি ভবন, ময়মনসিংহ রোড, সাকুয়া বাজার, নেত্রকোণা সদর, ২৪০০ ।
ফোনঃ ০১৭৩৫ ০৭ ৪৬ ০৪, বিজ্ঞাপনঃ ০১৬৪৫ ৮৮ ৪০ ৫০
ই-মেইল : netrokonajournal@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।