কবি শাহানুর আলম শাহানা এর একগুচ্ছ কবিতা

প্রকাশিত: ১২:১৭ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২৪


বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল স্মরণে

কবি কাজী নজরুল ইসলাম তোমার স্মরণে
লিখেছো তুমি বিদ্রোহী ও বরন মরন জীবনে
ইতিহাস তো থাকবেই তোমার চিরন্তন চিরতরে
তোমারই বাণী জীবনের গতিকে ত্বরান্নিত করে।।

লিখে গেছো শত শত মৃত্যুর খুদা জল ঝরানো
আর ও ভালোবাসার মানুষের কাছে মিষ্টি আলিঙ্গন
ভালবাসা ও স্বাচ্ছন্দ্যের চেতনায় ভরে তাদের মন
কত কল্পনা, স্বপ্ন যা জমে আছে হ্নদয়ের মাঝে।।

তুমি বিদ্রোহী নজরুল কথায় যে ছিল জ্বালা
তা সইতে পারেনাই তৎকালীন বৃটিশ বেণিয়ারা
তাইতো করে ছিলো ষড়যন্ত্রের নানা চাল ছালা
তোমারই কবিতায় তাই জেগেছিল প্রতিবাদীরা।।

দূর দৃষ্টি, অদম্য আত্মা, দুঃসাহসিকতা তোমার
নির্ভীক ও সাহসী এক এক জন যোদ্ধা সৃষ্ট করে
ঘোষিত হয় আবেগ, শাসিত হয় অন্যায় – অবিচার
প্রথিত হয় স্বাধীনতা, মৃত্যুর আলিঙ্গন ধরে ধরে।।

বিশাল কাব্যিক রাজ্যে, আর বিদ্রোহের পতাকা তলে,
আর তারার মত জ্বলে আছো আমাদেরই আত্মাই
থাকবেও চিরকালের সারিবদ্ধ প্রেম ও আবেগের দলে।।


কবি ও সাংবাদিক

রাতের বেলায় যাচ্ছি দুই বোন
গাড়িতে বসে গান শুনে গুন গুন
রাস্তার দুপাশে ভরছিলো কাশফুলে
কবির ইচ্ছে ছিলো যেতে দিন দুপুরে।।

নিরব লোকালয়ে রাস্তার মাঝখানে
হঠাৎ থেমে গেছিলো দু’জনের গাড়ি
ভয়ে করেছিলাম অনেক আহাজারি
দুই বোন কবি ও সাংবাদিক নানা গল্পে
পূর্নিমা চাদেঁ পৌঁছে গিয়েছি খুব ই অল্পে।।

এত জনতা মাঝে নাই কারো সাথে পরিচয়
আমরা পেয়েছি কিন্তু বিশাল একটা ভয়
অনেকে করেছে কবির সাথে মিথ্যাচার
তাদের দিকে আস্থা থাকবে কি আর??

অনেক সাহস দিয়েছেন শ্যামা আপু তাই
কবির পক্ষ থেকেই তাঁকে ধন্যবাদ জানাই
মিথ্যাবাদী রয়েছে যারা আমাদের এই দেশে
সফলতা আসবে না ঠিকই তাদের দিন শেষে।।


মানুষে পরিণত কর

নিজেকে মানুষে পরিণত কর
হও তুমি নারী কিংবা নর
সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আলোতে ভরো
অসুরে মত অন্ধকারের সাধক নয়।
নিজে কে মানুষে পরিণত কর
মনোস্বত্ব ভরে সেই আচরন
করবে তোমায়ভাগ্য জাগরণ।
এমনই একজাতি আমরা
জ্ঞানহীন শিক্ষার গর্ব করি
কর্মে কালো টাকার পাহাড় গড়ি
নানা সমাজে চলে নানা চাল
শিক্ষা নিয়ে বলার নাই কিছু আজ কাল।
নিজেকে মানুষে পরিণত কর
লোকে বলোক তোমায় ছোট কিংবা বড়ো।
দু চোখে আলোকে রেখে
অন্ধকারে যেওনা পড়ে।
অসম্ভব কাজের জন্য যেন
তোমায় অসৎসঙ্গরাই হাত ধরে।
নিজেকে মানুষে পরিণত কর
কালো পথ ছেড়ে ভালো পথ গড়।


পিতার কবরের পাশে সন্তান

পিতার করবের পাশে দেখতে যখনই যায়
দুচোখে রাখা যায় না পানি এমনি গড়ায়
আর অন্যায় ভাবে কাও কে মেরে ফেলা
এটা নয় কোনো অবহেলিত খেলা।।

সমাজের কাছে থাকে পিতার অবসান
তোমরা পিতার এই লালিত সন্তান
বাবা তোমার সন্তান তোমায় খোঁজে
বলো তোমায় ফিরে পাবো কোথায়??

কবরের পাশে এসে যখনই দেখছি না মুখ
কষ্টে বুক ফেটে যায় কোথায় পাবো সুখ
বাবার মুখ খানি দেখতে কাঁদছি ধুক ধক
আর ফিরবে না কোন দিন ও তুমি বাবা??

দু হাত তুলে স্রষ্টার কাছে করি মুনাজাত
সকলের পিতা কবরে পায় নাজাত
স্বভাবিক মৃত্যু যেনো সকলের হয়
কোনো ঘাতক সন্ত্রাসের হাতে নয়।।


ব্যারিস্টার সুমন সিলেটের সন্তান

একটি সিলেটের সন্তান মিষ্টি তাহার হাসি
ন্যায়ের পথে চলে অন্যায়ের খুব ভালো প্রতিবাদী
দেশ বাসি সবাই কিন্তু তাকেই ভালোবাসি
ব্যারিস্টার সুমন যখন মানবতার ফেরিয়ালা।।

দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে তাঁহার বিখ্যাত নাম
মৃত্যু কে ভয় করে না সত্যের পথে চলা যার কাম
সবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় দোষ গুনের কথা
হাজার হাজার ইতিহাস হবে তিনিই হবেন প্রিয় নেতা।।

ক্ষমতাবান হয়ে অনেকেই কিন্তু দেশটা লুটে খাচ্ছে
তাদের দেখে ভালো লোকে হায় হায় করে যাচ্ছে
মানবতার বাণী বিলিয়ে দেয় লোক সমাজের মাঝে
সকল স্বপ্ন যেনো সফল হয় তাহার সেই কাজে।।

লোক দেখানো মানবতায় কেউ নিতে চায় যে ভোট
কত জন আবার জয়ী হয়ে গড়ে চোরেই সেই জোট
তাদের মধ্যে দু চার জন ভালো লোক যে হয়
সিলেটি সৈয়দ সায়েদুল হক করলো মনবতার জয়।।

তিনি ব্যরিস্টার সুমন ভাই স্বচ্ছ একজন লোক
এমন মানব দেখে বাংলার মানুষের গর্বে ভরুক বুক
ব্যারিস্টার সুমন সিলেটের সন্তান হিসেবে গর্বে ভরে
ময়মনসিংহে ও যেনো সুমন ভাইয়ের মত সন্তান গড়ে।।

কবি পরিচিতিঃ
কবি শাহানুর আলম শাহানা ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলায় নরসুন্দা নদীর পাশে নাথপাড়ায় ১০ ডিসেম্বর ১৯৯৮ সালে পিতার বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন। সম্ভ্রান্ত মুসলিম ও জমিদার পরিবারের সন্তান তিনি।পিতা মৃত :শাহ শুফি আমজাদ আলী ফকির। মাতা: মাহফুজা খাতুন। মা ও দুই ভাইয়ের সাথে একই পরিবারে বসবাস করছেন। তিনি ছোট বেলা থেকেই গল্প কবিতা সাহিত্যের প্রতি প্রবল আগ্রহী। শিক্ষা জীবনে৷ বি বি এ অনার্স (জা.বি.) ময়মনসিংহ ও এল এল বি অনার্স (জা. বি.) ঢাকায় সম্পন্ন করেছেন। শিক্ষানবিশ আইনজীবী। প্রতি মাসেই নানার পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে এই কবির মন মুগ্ধ কর কবিতা ও গল্প। ইতিমধ্যে তার লেখা বিভিন্ন গ্রন্থ পাঠক মহলে প্রশংসা পেয়েছে। কবি সম্মাননা পুরষ্কার ও পেয়েছেন। তিনি এখন সহকারী জজ প্রিপারেশনে থাকায় লেখা লেখির থেকে ও পিছিয়ে নয়।বহু পাঠকের অনুপ্রেরণায় ও সমর্থনে তিনি লিখেছেন:-১। দুই বোনের কান্না, ২। নান্দাইলে নারী শিক্ষার অবদানে আব্দুল হাকিম ভূইয়া। ৩।দেশের প্রকৃতি ও মানবের প্রেম। ৪। (যৌথ ভাবে লিখা) এক মহা কাল ব্যথা। ৫। সিনতিয়া মার্জিয়া ও মামুনের ভূয়া প্রেম। ৬। কাব্যের ঝাঁক। কবি তার লেখনির মাধ্যমে নিজের মেধা কে বিকশিত করতে চান সাথে সকলের দোয়া ও ভালোবাসা।