কলমাকান্দা গারো পাহাড়ে বনজবৃক্ষ বিলুপ্তির পথে প্রায়

প্রকাশিত: ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ, মে ১৭, ২০২৪

কলমাকান্দা থেকে রীনা হায়াৎঃ
কেবল এক যুগ আগেও কলমাকান্দার গারো পাহাড় ছিল গভীর অরন্য বনজবৃক্ষে ঘেরা সুন্দর্য্যেের আধার। বনসম্পদে ঠাসা ছিল।

কিন্তু তৎকালিন বন কর্মকর্তা বন কর্মচারী ও কাঠ চোরদের যোগসাজশে সীমাহীন দূর্নীতির ফলে ব্যাপক বৃক্ষনিধন, লোকবল সংকট, উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে বিলুপ্তির পথে এই বনজবৃক্ষ ও বনজসম্পদ। ওই সময়ে গারো পাহাড়ে ছিল শিল্পের কাঁচামাল, ঔষধি,দামি শাল গজারি কাঠ ও ফলদ উদ্ভিদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন উদ্ভিদ। কিন্তু এখন সেই গারো পাহাড় বিরান ভুমিতে পরিনত প্রায়।

এ উপজেলায় ২০১২-১৪ সালের জরিপে উঠে আসে সীমান্তঘেষে প্রায় ২৭৬৫ টিলা ভুমি, ১৯৫ কিলো রোড বাগান, ৭২ সমতল বর্ডার রোড কিলো একর বনভূমি রয়েছে। কিন্তু বন বিভাগের সীমাহীন দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতির কারণে ব্যাপক বৃক্ষ নিধন ও বন কর্মকর্তা কর্মচারী ও চোরাইকাঠ ব্যবসায়ী,লোকবল সংকট, উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে বিলুপ্তির পথে বনজবৃক্ষ এই বনজসম্পদ।

এখন এই পাহাড়ে শুভা পাচ্ছে পরিবেশ বিধ্বংসী বিদেশী ইউক্লিপটাস, একাশিয়াসহ নানা প্রজাতি গাছ। তৎকালীন সময়ে করা হয়েছে প্রকৃতিক বন কেটে এসব পরিবেশ বিধ্বংসী বিদেশী কাঠের বনায়ন। তখনও সাংবাদিকরা লিখেছিল, বন কেটে বনায়ন শিরোনামে। তাতে কিছুই হয়নি। বর্তমানে সামান্য কিছু বনায়ন যা নিত্যান্তই লোক দেখানোর জন্য। বন কেটে বনায়নেও বন কর্মকর্তাদের ব্যাপকভাবে পকেট ভারী হলেও সৌন্দর্য হারাচ্ছে- ঐতিহ্যবাহী গারো পাহাড়! বন সৃষ্টির নামে আখের গোছায় বনমালীগণেরা।

মূল্যমান গাছ গাছড়া কেটে কেন এসব অকাঠ্য পরিবেশ বিধ্বংসী বৃক্ষ রোপন করা হয় তা বনবিভাগই ভালো জানেন। তবে এতে যে পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধু তাই নয়, এই জরাজীর্ণ বনাঞ্চলে খড়া মৌসুমে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয় প্রকৃতিক নানা ঔষধি গাছ। প্রায় সময় অভিযোগ ওঠে, যেসব বাগান করা হয়েছে বা হয়ে থাকে তাতেও কাঠ চোরদেরকেও ওইসব বাগানের অংশিদার করা হয়! যাদের মাধ্যমে উজার করে চোরি হয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির কাঠ। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বাগান পুড়িয়ে, সৃজনকৃত কাগজ পত্রাদি তৈরি করে সরকারি বনের শত শত একর জমি দখলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অপরদিকে বাগান করা হলেও তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না। নানা দুর্লভ প্রজাতির গাছ ছিল গোটা গারো পাহাড়জুড়ে, আজ আর ঐসব বনজবৃক্ষ ঔষধি গাছগুলো বিলুপ্তির পথে। অনেক দূষপ্রাপ্য উদ্ভিদে যেখানে ঠাসা ছিল, বর্তমানে বলতে গেলে সেখানে বৃক্ষশূন্য প্রায়।

জেলার রেঞ্জ অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান, এখনও জনবল সঙ্কট রয়েছে এখানে। ফলে গারো পাহাড় সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সঠিকভাবে জনবল সঙ্কটের কারণে পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, লোকবল সঙ্কটের কথা বনবিভাগের উদ্ধর্তন মহলে জানানো হয়েছে।তবে এ কথা সত্য যে, সরকারি এই গারো পাহাড়ে বর্তমান হাল দেখে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হতেই পারে।