সব
facebook netrokonajournal.com
কেন্দুয়ায় মামলায় আটকে গেল গৃহহীনদের প্রধানমন্ত্রী’র উপহার প্রকল্প | নেত্রকোণা জার্নাল

কেন্দুয়ায় মামলায় আটকে গেল গৃহহীনদের প্রধানমন্ত্রী’র উপহার প্রকল্প

প্রকাশের সময়:

কেন্দুয়ায় মামলায় আটকে গেল গৃহহীনদের প্রধানমন্ত্রী’র উপহার প্রকল্প

মজিবুর রহমানঃ
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল গ্রামে গৃহহীন ও ভূমিহীন ১২টি পরিাবরের জন্য নির্মাণাধীন প্রধানমন্ত্রীর উপহার প্রকল্প মামলার কারণে আটকে গেছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকবে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, উপজেলার বলাইশিমূল গ্রামের হাওড়ের পাশে বিআরএস রেকর্ড মূলে বলাইশিমুল মৌজার ৩৬১২ নং দাগের ১ একর ৮০ শতাংশ জমি খেলার মাঠ ও ৩৬১৩ নং দাগের ৭ শতাংশ জমি চনখোলা।

দুইটি দাগের জমি এক সাথে থাকায় ১.৮৭ শতাংশ পুরো জমিই খেলার মাঠ হিসেবে পরিচয় বহন করে আসছে। এক সময়ে এই মাঠটি জৌলুস থাকলেও বর্তমানে এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলা উপযোগী মাঠ হওয়ায় কালক্রমে এই মাঠের জৌলুস হারিয়ে গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।

যেকারণে ১.৮৭ শতাংশ ভূমি মধ্যে ৭৬ শতাংশ ভূমি পাশের জমির মালিকগণ অবৈধভাবে দখল করে নিয়ে যায়। মুজিববর্ষে সরকারের নির্দেশে গৃৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণের জন্য খাস জমি উদ্ধারে নামে উপজেলা প্রশাসন। তৃতীয় পর্যায়ের ৪র্থ ধাপে ১৯৭ ঘর বরাদ্ধ পায় উপজেলা প্রশাসন।

এরমধ্যে বলাইশিমূল গ্রামের গৃৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য ওই মাঠের বেদখলকৃত ভূমি উদ্ধার করে ৪৬ শতাংশ ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ২৩টি ঘর নিমার্ণে জন্য প্রকল্প গ্রহণ করে উপজেলা প্রশাসন। প্রকল্পের নির্মাণকাজের প্রতি জেনে এলাকাবাসী মাঠ রক্ষার দাবিতে গত ২৮ মে মাঠেই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরের দিন ২৯ মে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, ইউএনও মাহমুদা বেগম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র আসাদুল হক ভূঁইয়া, ওসি আলী হোসেন মাঠে যান।

তারা আন্দোলনকারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করে মাঠের পূর্ব-উত্তর পাশে ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। ওইদিনই জায়গাটির মাপজোক করে ঘর নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করেন তারা। পরের দিন ৩০ মে একদিকে ঘর নির্মাণের জন্য ইট, বালুসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী পাঠিয়ে কাজ শুরু করা হয়।

অপরদিকে আগেরদিনের সমঝোতার বিষয়টি উপেক্ষা করে একইদিন মাঠ রক্ষার দাবি নিয়ে প্রশাসনে বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন আন্দোলনকারীরা। ওই মামলার বাদী হন বলাইশিমুল গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান মন্ডলসহ আটজন।

মামলায় বিবাদী করা হয় কেন্দুয়ার ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নেত্রকোণা জেলা প্রশাসককে। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি খারিজ করে দিলে গ্রামের একাংশ মানুষ মাঠ রক্ষা দাবিতে আন্দোলন চালানোর ঘোষণা দেন।

গত ২ জুন রাতে নির্মানাধীন প্রকল্পের কয়েকটি ঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় এলাকার ১৯ জনের বিরুদ্ধে দ্রুতবিচার আইনে মামলা হয়। এরপর থেকে আন্দোলনকারীরা কয়েকটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। ঢাকার শাহবাগের এই মাঠ রক্ষার সমর্থনে মানববন্ধন হয়। গত ১৩ আগস্ট ভোর রাতে আবারো নির্মানাধীন প্রকল্পের ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।

এ নিয়ে সদ্যবিদায়ী ইউএনও মাহমুদা বেগম প্রেসব্রিফিং করেন। তার বক্তব্যে বলেন, এই আগুন দেয়ার ঘটনার পেছনে সরকার দলের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ বিরোধী দলীয় নেতারা কলকাঠি নাড়ছেন। বিভিন্ন সংস্থার রেফারেঞ্চ দিয়ে একটি অসংলগ্ন বক্তব্য দেন। তার এই পুরো বক্তব্যটি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী হুমায়ুন কবীর তার ফেইসবুকে পোস্ট করেন।

ফেইসবুকে ভিডিও প্রচার দেখে ইউএনও মাহমুদা বেগম গণমাধ্যমকর্মী হুমায়ুন কবীরকে ফোন দেন। একপর্যায়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

ওইদিন বিকালে বলাইশিমুল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্যোগে আশ্রায়ন প্রকল্পের পাশে মানবন্ধন কর্মসূচি পালন করে। তারা আশ্রায়ন প্রকল্প বাস্তবায়নসহ মাঠ সংরক্ষনের দাবী জানান। এবং প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে যারা আগুন দিয়েছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান। প্রকল্পের ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনায় এজহারে ৬৩ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় দ্রুতবিচার আইনে মামলা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির ( ভেলা) দায়ের করা এক রিটের শুনানি শেষে প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কাজের ওপর তিন মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। গত ১৪ আগস্ট বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের পর প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছে উপজেলা প্রশাসন।

ঘর নির্মাণকাজ বন্ধ হওয়ায় সুবিধাভোগীদের মাঝে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। লাঞ্চনা-গঞ্জনার দিন বোধ হয় তাদের আর শেষ হবে না। তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

এদিকে গত ১ সেপস্টেম্বর বলাইশিমুল আমলিতলা বাজারে বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিাবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির হিসেবে বক্তব্য দেন নেত্রকোণা-৩ আসনে সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। তাঁর বক্তব্যে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র বিশেষ উদ্যোগ আশ্রায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজের বাঁধাগ্রস্থ ও বির্তর্কিত করতে বিএনপি-জামাত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এর পেচনে পয়সা ঢালছেন ময়মনসিংহ ও ঢাকা থেকে।

যারা আন্দোলন করছেন তাদেরকে প্রশাসন ডেকেও পায়না। এরকম একটা লুকোচুরি খেলা। এর পেচনে আছেন অবৈধ দখলদাররা ও বিএনপি-জামায়াতে ইসলাম। তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি একটি মানুষের সুস্থ’ দেহ মন গঠনের খেলাধুলা অপরিহার্য্য। সেই চিন্তা মাথায় রেখে মাঠের জন্য যে পরিমান জায়গা লাগে সেই জায়গা রেখে পাশে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। খেলার মাঠও থাকবে ও আশ্রায়ন প্রকল্পও হোক সে লক্ষে আমরা কাজ করছি। বিএনপি-জামাত এটাকে ইস্যু বানিয়ে সন্ত্রাস-নৈরাজ্যে চেষ্টা করছে। সবাই সর্তক থাকার আহবান রাখেন তিনি।

পরেরদিন ২ সেপস্টেম্বর বলাইশিমুল গ্রামে আন্দোলনকারীরা সমাবেশ করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মাঠ রক্ষা আন্দোলন গণ কমিটির নেতা হাবিবুর রহমান। মাঠ রক্ষা গণ কমিটির আহবায়ক আবুল কালাম আল আজাদের সঞ্চালনায় এসময় বক্তব্য দেন বাপার সভাপতি সুলতানা কামাল, নিজেরা করির নির্বার্হী প্রধান খুশী কবির, ব্লাস্টের অনারারি ডিরেক্টর সারা হোসেন, বাপার যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর কবির, তেঁতুলতলা মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সম্বয়ক সৈয়দা রত্না, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মানবাধিকার কর্মী মামুনুল কবীর খান হলি, স্থানীয় ইউপি সদস্য কলি আক্তার ও আজিজুল ইসলাম। বক্তরা বলাইশিমুল গ্রামের মাঠ থেকে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর সরানোসহ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, মাঠ দখল করে ঘর নির্মাণ করা হয়নি। মাঠের জমির পরিমাণ ১ একর ৮৭ শতাংশ। মাঠটির চার পাশ থেকে ৭৬ শতাংশ জমি অবৈধ দখল হয়ে যায়। পরে তা উদ্ধার করে ৪৬ শতাংশ জমি শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এখানে ঘরের ইস্যুটাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যারা বিরোধিতা করছে তাদের উদ্দেশ্য হলো সরকারি জমি দখল করে রাখা। আর প্রধানমন্ত্রীর মহৎ উদ্যোগকে বির্তর্কিত করা।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই মাঠ রক্ষা করে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর তৈরী করা হচ্ছে। সাবেক জেলাপ্রশাসক সময় জায়গা নির্বাচন করা হয়। প্রথমে ১.৮৭ শতাংশের মধ্যে ৪৬ শতাংশ ভূমিতে ২৩টি ঘর তৈরির উদ্যোগ নেয়া হলেও মাঠের সুন্দর্য্য রক্ষার জন্য মাঠের পূর্ব পাশে ১২টি ঘর তৈরি করা হচ্ছে। মাঠ রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়কারী আবুল কালাম আল আজাদের পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে মাঠ রক্ষার জন্য কোন লিখিত আবেদন এখন পর্যন্ত দেননি। উনারা মহামান্য হাইকোর্টে বিচার প্রার্থী হয়েছেন। মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে ঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর জবাব পাঠানোা হয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মহামান্য হাইকোর্ট যে রায় দেন তা মেনে নেবেন বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

 ফেসবুক পেজ

 আজকের নামাজের ওয়াক্ত শুরু

    নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বাংলাদেশ
    শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০২২
    ১১ Rabi' I, ১৪৪৪
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ
    যোহরদুপুর ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
    আছরবিকাল ৩:০৯ অপরাহ্ণ
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৪০ অপরাহ্ণ
    এশা রাত ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
দুর্গাপুরে কুমারী পূজায় শুভশক্তির বিকাশ ও অশুভশক্তির বিনাশ কামনা

দুর্গাপুরে কুমারী পূজায় শুভশক্তির বিকাশ ও অশুভশক্তির বিনাশ কামনা

দুর্গাপুরে ৬১ পূজামণ্ডপে সহায়তা দিলেন এমপি মানু মজুমদার

দুর্গাপুরে ৬১ পূজামণ্ডপে সহায়তা দিলেন এমপি মানু মজুমদার

আটপাড়ায় শিশু দিবসের আলোচনা সভা

আটপাড়ায় শিশু দিবসের আলোচনা সভা

নেত্রকোণায় ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩ হাজার ইয়াবাসহ মাইক্রো বাস আটক

নেত্রকোণায় ১৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ৩ হাজার ইয়াবাসহ মাইক্রো বাস আটক

মোহনগঞ্জে ভেজাল কীটনাশক পাইকারি ক্রয় করায় ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা

মোহনগঞ্জে ভেজাল কীটনাশক পাইকারি ক্রয় করায় ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা

কলমাকান্দায় পূজামন্ডপ পরিদর্শনে নারীনেত্রী ক্যামেলিয়া মজুমদার

কলমাকান্দায় পূজামন্ডপ পরিদর্শনে নারীনেত্রী ক্যামেলিয়া মজুমদার

সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : দিলওয়ার খান
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম  
অস্থায়ী কার্যালয় : এআরএফবি ভবন, ময়মনসিংহ রোড, সাকুয়া বাজার, নেত্রকোণা সদর, ২৪০০ ।
ফোনঃ ০১৭৩৫ ০৭ ৪৬ ০৪, বিজ্ঞাপনঃ ০১৬৪৫ ৮৮ ৪০ ৫০
ই-মেইল : netrokonajournal@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।