সব
facebook netrokonajournal.com
কোরআন হাদিস থেকে কোরবানির গোস্তের হুকুম | নেত্রকোণা জার্নাল

কোরআন হাদিস থেকে কোরবানির গোস্তের হুকুম

প্রকাশের সময়:

কোরআন হাদিস থেকে কোরবানির গোস্তের হুকুম

ads1

বর্তমানে অনেক কোর’বানীই গোস্ত খাওয়ার হিরিক ছাড়া আর কিছুই না। আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত তার পবিত্র জবানে বলেছেন তোমার প্রিয় বস্তু কোর’বানী করো। আর আমরা এই প্রিয় বস্তু বেছে নিয়েছি বনের পশু কিন্তু আমাদের মনের প্রিয় চাহিদা গুলো আরো তাজা হয়ে উঠছে। কোর’বানী করতে হলে বনের পশু নয় আগে মনের পশুর কোর’বানী করো। তবেই হবে সেই ইব্রাহিম (আঃ)এর কোর’বানী। এক্ষেত্রে কবি রাজ্জাক দেওয়ান সাহেবের একটি কথা বলি

বড় গরু জবাই করে বিয়াই বাড়ি দিলি রান
এক টুকরো গোস্তের আসায় কান্দে গরিব পোলাপান
সেই গোস্ত ফ্রিজে থোইয়া খাইলি ছয় মাস ভরিয়া
পাপে গেলি বোঝাই হইয়া মরা গাছের সুকনা ডালে ঘুম দিয়া কাটালি মন চির কাল..

কোরবানিকারী কোরবানির গোশত নিজে খেতে পারেন, হাদিয়া দিতে পারেন এবং সদকা করতে পারেন। দলিল হচ্ছে আল্লাহ্‌র বাণী: “অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুঃস্থ অভাবীকে আহার করাও”।[সূরা হাজ্জ, আয়াত: ২৮] আল্লাহ্‌ আরও বলেন: “তখন তোমরা তা থেকে খাও এবং আহার করাও এমন দরিদ্রকে যে ভিক্ষা করে এবং এমন দরিদ্রকে যে ভিক্ষা করে না। এভাবে আমরা সেগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর”।[সূরা হাজ্জ, আয়াত: ৩৬] সালামা বিন আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি্ ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমরা খাও, খাওয়াও এবং সংরক্ষণ করে রাখ”।[সহিহ বুখারী] হাদিসে ‘খাওয়াও’ কথাটি ধনীদেরকে হাদিয়া দেয়া এবং দরিদ্রদেরকে দান করাকে অন্তর্ভুক্ত করবে। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমরা খাও, সংরক্ষণ করে রাখ এবং দান কর”।[সহিহ মুসলিম]

কোরবানির গোশত কতটুকু খাওয়া যাবে, কতটুকু হাদিয়া দেওয়া হবে এবং কতটুকু সদকা করা হবে এ ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশস্ততা রয়েছে। অগ্রগণ্য অভিমত হচ্ছে- এক তৃতীয়াংশ খাওয়া, এক তৃতীয়াংশ হাদিয়া দেওয়া এবং এক তৃতীয়াংশ সদকা করা। যে অংশটুকু খাওয়া জায়েয সে অংশটুকু সংরক্ষণ করে রাখাও জায়েয; এমন কি সেটা দীর্ঘ দিন পর্যন্ত হলেও যতদিন পর্যন্ত রাখলে এটি খাওয়া ক্ষতিকর পর্যায়ে পৌঁছবে না। কিন্তু যদি দুর্ভিক্ষের বছর হয় তাহলে তিনদিনের বেশি সংরক্ষণ করা জায়েয নয়। দলিল হচ্ছে সালামা বিন আকওয়া (রাঃ) এর হাদিস তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের যে মধ্যে ব্যক্তি কোরবানি করেছে তৃতীয় রাত্রির পরের ভোর বেলায় তার ঘরে যেন এর কোন অংশ অবশিষ্ট না থাকে”। পরের বছর সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করল: ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! আমরা কি গত বছরের মত করব? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমরা খাও, খাওয়াও এবং সংরক্ষণ কর। ঐ বছর মানুষ কষ্টে ছিল। তাই আমি চেয়েছি তোমরা তাদেরকে সহযোগিতা কর”।[সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিম]

ওয়াজিব কোরবানি হোক কিংবা নফল কোরবানি হোক; গোশত খাওয়া কিংবা হাদিয়া দেয়ার হুকুমের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। অনুরূপভাবে কোন জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করা হোক কিংবা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করা হোক কিংবা কোন ওসিয়তের প্রেক্ষিতে কোরবানি করা হোক এ বিধানের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কেননা ওসিয়ত-পূর্ণকারী ব্যক্তি ওসিয়তকারীর স্থলাভিষিক্ত হন। ওসিয়তকারী খেতে পারেন, হাদিয়া দিতে পারেন এবং সদকা করতে পারেন। কেননা এটাই তো মানুষের মাঝে প্রথাগতভাবে প্রচলিত। আর যেটা প্রথাগতভাবে প্রচলিত সেটা শব্দ দিয়ে উচ্চারণ করার সমতুল্য।

প্রতিনিধিকে যদি তার নিয়োগকর্তা খাওয়া, হাদিয়া দেওয়া ও সদকা করার অনুমতি দেন কিংবা বিশেষ কারণ বা প্রথা অনুমতি দেয়াকে নির্দেশ করে তাহলে তিনি সেটা করতে পারেন। নচেৎ তিনি নিয়োগকর্তাকে হস্তান্তর করবেন। নিয়োগকর্তা নিজে বণ্টনের দায়িত্ব পালন করবেন।

কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া ইত্যাদি কোন কিছুই বিক্রি করা হারাম। কসাইকে তার পারিশ্রমিক কিংবা পারিশ্রমিকের অংশ বিশেষ কোরবানির পশুর গোশত থেকে দেওয়া যাবে না। কেননা এটা বেচা-বিক্রির অধিভুক্ত।

আর যাকে কোরবানির পশুর হাদিয়া দেওয়া হল কিংবা সদকা দেওয়া হল তিনি এ গোশত বিক্রি করা কিংবা অন্য যা ইচ্ছা তা করতে পারবেন। তবে, তাকে যিনি হাদিয়া দিয়েছেন কিংবা সদকা দিয়েছেন তার কাছে বিক্রি করতে পারবেন না।

যদি কেউ আল্লাহ তাআলার হুকুম পালনের উদ্দেশ্যে কুরবানী না করে শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কুরবানী করে তাহলে তার কুরবানী সহীহ হবে না। তাকে অংশীদার বানালে শরীকদের কারো কুরবানী হবে না। তাই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শরীক নির্বাচন করতে হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৮, কাযীখান ৩/৩৪৯

সূরা হজ্জের ৩৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন-
لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ كَذَلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا ا للَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ (37)
“এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না,কিন্তু তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের মনের তাকওয়া। এমনভাবে তিনি এগুলোকে তোমাদের বশ করে দিয়েছেন,যাতে তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা কর এ কারণে যে,তিনি তোমাদের পথ প্রদর্শন করেছেন। সুতরাং (হে নবী আপনি) সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ দিন।” (২২:৩৭)

এ আয়াতে কুরবানির প্রকৃত দর্শন তুলে ধরে আল্লাহ বলেন: যদিও কুরবানির গোশত খেয়ে অভাবীরা তৃপ্তি পেয়ে থাকে, তারপরও প্রকৃত উদ্দেশ্য পেট পুরে খাওয়া বা খাওয়ানো নয়, বরং ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার চাকচিক্যের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে আল্লাহর কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পন করাই হচ্ছে কুরবানির মূল উদ্দেশ্য। কারণ, কুরবানি ত্যাগের নিদর্শন মাত্র। এ ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর পথে শাহাদতবরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।

মূর্তি উপাসকরা আগে কুরবানির রক্ত মূর্তির গায়ে মাখাতো। সে সংস্কৃতির কথা বিবেচনা করে আল্লাহ এ আয়াতে বলেন: কুরবানির গোশত কিংবা রক্ত কোনোটিরই প্রয়োজন আল্লাহর নেই; বরং বান্দার তাকওয়া ও খোদাভীতি বাড়ানোই হচ্ছে কুরবানির বিধানের উদ্দেশ্য।
আয়াতের শেষে কুরবানি করাকে এক ধরনের উত্তম কাজ হিসেবে ঘোষণা করে আল্লাহ রাসূল (স.)কে সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ আয়াতের শিক্ষণীয় দিকগুলো হলো:
১. আমাদের ইবাদতের কোনো প্রয়োজন আল্লাহর নেই। আল্লাহ আমাদেরকে ইবাদতের যতগুলো নির্দেশ দিয়েছেন তার সবগুলো তার প্রতি নৈকট্যলাভের উপকরণ হিসেবে এসেছে।
২. হেদায়েত বা সতপথ লাভ করা মহান আল্লাহর একটি বড় নেয়ামত, এজন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে।

সতর্ক থাকি
কুরবানির গরু ‘গোস্ত মেপে’ বিক্রি করা শরিয়তের মেজাযের খেলাফ। তখন গোস্ত খাওয়া ই যেনো মূল উদ্দেশ্য অনুমেয় হয়। অথচ আল্লাহর রাহে সুন্দর সুস্থ সবল কোনো পশু জবাই করাই কুরবানির মূল স্পিরিট ও ইসলামের মৌলিক মাকসাদ। পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে অন্তরের তাকওয়া ও হৃদয়ের অভিব্যক্তিই মহান আল্লাহর কাছে মাকবুল কুরবানি। ভালো গোস্ত বা অল্প মূল্যে গোস্ত খাওয়ার নিয়তে শশু ক্রয় হলে এই কুরবানি সহীহ হবে না। ঠিক তেমনি সরাসরি গোস্ত খাওয়ার নিয়ত না থাকলেও কিছু সময় আমাদের কিছু কাজ ই বুঝায় এই গরুর খাওয়ার জন্য, কুরবানির জন্য না। তাই এমন কাজ থেকেও বিরত থাকবো।

অবশ্য বর্তমান ভাইরাস পরিস্থিতি, ও মানুষের জীবন যাত্রা সহজের জন্য অনলাইনে কুরবানির পশু বিক্রি নাজায়েয কিছু নয় । সেক্ষেত্রে বিক্রেতা কোরবানির পশুর যথাযথ মূল্য নির্ধারণে কেজি আকারে বিক্রিমূল্য ঠিক করতে পারে। তবে ক্রেতাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে- পশু ক্রয়ের ক্ষেত্রে যেনো স্বল্প মূল্যে গোস্ত খাওয়া বা তরতাজা গরুর ভালো সুস্বাদু গোস্ত খাওয়ার বিষয়টি যেনো কখনো চিন্তায় স্থান না পায়।

আল্লাহ্ আমাদের বোঝার তাওফিক দান করুন আমীন!!

ads1

আপনার মতামত লিখুন :

 ফেসবুক পেজ

 আজকের নামাজের ওয়াক্ত শুরু

    নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বাংলাদেশ
    বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২
    ২ Rabi' I, ১৪৪৪
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৩৪ পূর্বাহ্ণ
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ
    যোহরদুপুর ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
    আছরবিকাল ৩:১৪ অপরাহ্ণ
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
    এশা রাত ৭:০৪ অপরাহ্ণ
এর আরও খবর
প্রস্রাব-পায়খানার পর ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহারের পরেও পানি খরচ কি খুব জরুরি?

প্রস্রাব-পায়খানার পর ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহারের পরেও পানি খরচ কি খুব জরুরি?

মাদকের ভয়াল থাবা: শাস্তি ও প্রতিকারের উপায়

মাদকের ভয়াল থাবা: শাস্তি ও প্রতিকারের উপায়

দুর্গাপুরে আবু তালহা রা: মাদ্রাসায় ২৬ জন শিক্ষার্থীর কোরআন শরীফ ছবকদান

দুর্গাপুরে আবু তালহা রা: মাদ্রাসায় ২৬ জন শিক্ষার্থীর কোরআন শরীফ ছবকদান

কন্যা সন্তান উত্তম : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

কন্যা সন্তান উত্তম : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

আত্মহত্যা থেকে বাঁচার উপায় : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

আত্মহত্যা থেকে বাঁচার উপায় : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব

সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : দিলওয়ার খান
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম  
অস্থায়ী কার্যালয় : এআরএফবি ভবন, ময়মনসিংহ রোড, সাকুয়া বাজার, নেত্রকোণা সদর, ২৪০০ ।
ফোনঃ ০১৭৩৫ ০৭ ৪৬ ০৪, বিজ্ঞাপনঃ ০১৬৪৫ ৮৮ ৪০ ৫০
ই-মেইল : netrokonajournal@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।