জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে তল্লাশি চালিয়ে বিস্ফোরকসহ ৮০ ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার

প্রকাশিত: ৪:০০ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২৪

নেজা ডেস্ক রিপোর্টঃ
নেত্রকোনায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়িটিতে প্রাথমিক অভিযানে পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধারের পর আজ অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট, সোয়াট ইউনিট ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট তল্লাশি চালিয়ে বোমা এবং বিস্ফোরকসহ জঙ্গি তৎপরতার বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ রবিবার এ অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী । বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা আশপাশের বাড়িঘরের লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে ছয়টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বোমা (আইইডি) নিষ্ক্রিয় করে।

ময়মনসিংহের রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ শাহ আবিদ হোসেন ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি আসাদুল্লাহ চৌধুরী, বোম ডিসপোজাল ইউনিটের বোমা বিশেষজ্ঞ পুলিশ সুপার সানোয়ার হোসেন এবং নেত্রকোনার পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদের অভিযান পরিচালনা করে মোট ৮০ ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার করে । আজ এ তল্লাশিতে উদ্ধার করা সরঞ্জামের মধ্যে ৬টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বোমা (আইইডি),৫টি এন্ড্রয়েড ফোন, ৭টি বাটন ফোন, ২টি হাই পাওয়ার দূরবীন, ১টি ল্যাপটপ, ১টি প্রিন্টার, ১টি নানচাকু ও ৬টি সিসি ক্যামেরা, ১টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি, ২টি মার্শাল আর্ট ড্রেস, ২টি ফ্ল্যাশ লাইট, সিলিকনের তৈরি মানবাকৃতির ১টি পাঞ্চিং বক্স, পাঞ্চিং ব্যাগ, প্লাস্টিকের ২০টি ডামি রাইফেল, ১টি রাম দা, ১টি পাসপোর্ট, ২টি কম্পাস, ১টি ইলেক্ট্রিক করাত, ৩০টি বেল্ট প্রভৃতি । গতকাল শনিবার উদ্ধার করা হয় ১টি বিদেশী পিস্তল, ১৭ রাউন্ড গুলি, ২টি ম্যাগাজিন, ১টি হ্যান্ডকাপ ও ২টি ওয়াকিটকি। রবিবার সন্ধ্যায় এসব সরঞ্জাম সাংবাদিকদের দেখানো হয়।

অভিযানের পর ডিআইজি মোঃ শাহ আবিদ হোসেন প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ডুয়েটের সাবেক শিক্ষক প্রফেসর আব্দুল মান্নানের এই বাড়িটিতে হামিম হোসেন ফাহিম ওরফে আরিফ নামের এক যুবকসহ কয়েকজন ভাড়া থাকতো। আরিফ গত ৫ জুন নরসিংদীর রায়পুরায় অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়। এ ঘটনার সূত্র ধরে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রফেসর আব্দুল মান্নানের ফোনটি আজ (রবিবার) বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে । এই জঙ্গি আস্তানার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে আপাতত এর বাইরে আমরা আর কিছু বলতে পারছি না।’

গতকাল শনিবার দুপুরে প্রথমে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ ভাষাপাড়া গ্রামে উঁচু দেওয়ালে পরিবেষ্টিত দোতলা বাড়িটিতে অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যা নাগাদ সে অভিযানে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১৭টি গুলি, ২টি ওয়াকিটকি, ১টি হাতকড়া ও ১ বস্তা জিহাদি বই উদ্ধার করে। অ্যান্টিটেররিজম ইউনিটের সদস্যরা বাড়িটিতে বিষ্ফোরক দ্রব্য থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করে। তখন তারা অভিযান স্থগিত রেখে বোম ডিসপোজাল ইউনিট ও সোয়াট টিমকে খবর পাঠায়। সকালে ওই দুটি টিমের সদস্যরা এসে এ অভিযান পরিচালনা করে।

বোম ডিসপোজাল ইউনিটের পুলিশ সুপার সানোয়ার হোসেন বলেন, জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে বাড়ীটি ব্যবহার করা হতো, এ বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত।

জেলা পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ বলেন, বাড়িটির ভিতরের সাউন্ডপ্রুফ করা একটি রুম ছিল। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে মনে হয়েছে, এটি ১৫-২০ জনকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করা হতো।

স্থানীয়রা জানান, ভাষাপাড়া গ্রামের নির্জন স্থানে প্রায় আড়াই একর জমির ওপর নির্মিত ওই বাড়িটি প্রায় ২০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়। বাড়িটি আটপাড়া উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের মৃত ফারুক আহমেদের ছেলে প্রফেসর ইঞ্জিনিয়ার ড. আবদুল মান্নানের । তিনি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) শিক্ষক ছিলেন। তিনি ওই বাড়ীতে একটি মহিলা কলেজ করবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তা আর করেননি। দুই বছর আগে বাড়িটি তিনি ওই আরিফ নামক ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেন। বাড়ির ভেতরে থাকা দুটি বড় পুকুরে মাছ চাষ করা হয়। এ ছাড়া প্রাচীরের ভেতরে একটি আধা পাকা টিনের ছাউনি ঘর আছে। ভাড়া দেওয়ার পর ভাড়াটিয়ারা বাড়ির সীমানাপ্রাচীর আগের চেয়ে আরও দেড় ফুট উঁচু করেন। এর ফলে ওই বাড়ির কিছুই বাইরে থেকে দেখা যায় না। বাড়িটির নারকেলগাছ, আমগাছসহ সীমানাপ্রাচীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০টির মতো সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়। ওই বাড়িতে স্থানীয় কাউকে ঢুকতে দেওয়া হত না।

আরও জানা যায়, জেলা শহরের বনোয়াপাড়া এলাকাতেও প্রফেসর আব্দুল মান্নানের আরও একটি বাড়ি রয়েছে। তাতে একটি প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কার্যক্রম চলমান। ওই বাড়িতেও পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। এছাড়া বনোয়াপাড়ার নেওয়াজ নগর এলাকার একটি বাড়িও পুলিশের নজরদারিতে আছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।