সব
facebook netrokonajournal.com
তোমাকে দিয়ে কচু হবে!! কচু ই এমন জিনিস যার কোনো অংশই ফেলা যায়না | নেত্রকোণা জার্নাল

তোমাকে দিয়ে কচু হবে!! কচু ই এমন জিনিস যার কোনো অংশই ফেলা যায়না

প্রকাশের সময়:

তোমাকে দিয়ে কচু হবে!! কচু ই এমন জিনিস যার কোনো অংশই ফেলা যায়না

তোমাকে দিয়ে কচু হবে!!
এই কথাটি শুনে একদম রাগ করবেন না। কচু ই এমন জিনিস যার কোনো অংশই ফেলা যায়না। সব কিছুই দরকারী।
সৌরভী খান মনিঃ  
🔳কচু সম্পর্কে বিস্তারিত –

🔲কচুঃঃ
কচুশাক বা কচুপাতা। বাংলাদেশের অবহেলিত এক উপকারি উদ্ভিদ। এ উদ্ভিদে রয়েছে অসম্ভব রকমের পুষ্টিগুন। কচু একধরনের কন্দ জাতীয় উদ্ভিদ, এর বৈজ্ঞানিক নাম Colocasia esculenta। এটি Araceae এর গোত্রভুক্ত। কচু মানুষের চাষকৃত প্রাচীন উদ্ভিদগুলোর মধ্যেও একটি।

    1. কচু ক্ষেত্র

🔲বনে জঙ্গলে যেসব কচু আপনাআপনি জন্মায় সেগুলকে সাধারণত “বুনো কচু” বলা হয়। এ ধরনের কচুর অনেকগুলো জাত মানুষের খাবারের উপযোগী নয়। খাবার উপযোগী জাতগুলোর অন্যতম হচ্ছে মুখীকচু, পানিকচু, পঞ্চমুখী কচু, পাইদনাইল, ওলকচু, দুধকচু, মানকচু, শোলাকচু ইত্যাদি। সবজি হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও সৌন্দর্যের কারণে কিছু কিছু প্রজাতির কচু টবে ও বাগানে চাষ করা হয়। এদের মধ্যে কতগুলোর রয়েছে বেশ বাহারী পাতা, আবার কতগুলোর রয়েছে অত্যন্ত সুন্দর ফুল। নিম্নে কচু সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো-

🔳কচুর ২০ টি উপকারিতা :
♨♨♨♨♨♨

কচুতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ডিটারেরী ফাইবার, শর্করা, বিভিন্ন খনিজ ও ভিটামিন রয়েছে। নিয়মিত কচু শাক খেলে বিশেষ করে যেসব উপকারিতা পাওয়া যাবে-

🔲১. কচুতে প্রচুর পরিমাণে “ভিটামিন এ” থাকায় রাতকানা, ছানি পড়াসহ চোখের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধসহ দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে দেয়।

🔲২. কচুতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে যা খাবারকে সহজে হজম করতে সাহায্য করে থাকে। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তারা কচুশাক খেতে পারেন।

🔲৩. কচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকায় এর লৌহ উপাদান আপনার দেহে সহজে আত্তীকরণ হয়ে যায়। তাছাড়া ভিটামিন সি শরীরের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের ছোট বেলা থেকেই কচু শাক খাওয়ানো উচিত।

🔲৪. আমাদের শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ সচল রাখতে কচু শাক অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। এই শাকের আয়রন ও ফোলেট রক্তের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে অক্সিজেন সংবহন পর্যাপ্ত থাকে। এতে উপস্থিত ভিটামিন কে রক্তপাতের সমস্যা প্রতিরোধ করে।

🔲৫. কচু আঁশ জাতীয় হওয়ায় এটি কোষ্ঠ-কাঠিন্য দূর করে।
কচুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ও ক্যালসিয়াম যা আমাদের হাড় শক্ত করতে সহায়তা করে।

🔲৬. কচুতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে তাই রক্তশূন্যতায় ভোগা রোগীদের জন্য কচু শাক খাওয়া একরকম আবশ্যক বললেই চলে। যারা রক্তস্বল্পতায় ভূগছে তারা নিয়মিত কচু শাক খেতে পারেন। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে যা রক্তশূন্যতা দূর করতে ভূমিকা রাখে।

🔲৭. যেহেতু কচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে এ কারণে এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। কচু শাক রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে নিয়মিত এই শাকটি খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে।

🔲৮. যাদের গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি রয়েছে তাদের জন্য কচু অনেক উপকারী। এটি হজমশক্তি বাড়াতেও ভূমিকা রাখে। অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরী ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান থাকায় কচু শাক যেকোন ধরনের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

🔲৯. কচু তে সব চেয়ে বড় উপকারিতা হল এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাংগানিজ ও ফসফরাস। আমাদের দাঁত ও হাড়ের গঠনে এবং ক্ষয়রোগ প্রতিরোধে কচু শাকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

🔲১০. কচু তে বিদ্যমান নানা রকমের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান গর্ভবর্তী মা ও শিশুর জন্য অনেক উপকারী। কচু শাক সহজ লভ্য তাই দরিদ্র পরিবারের গর্ভবতী মহিলারা ভিটামিন ও আয়রনের চাহিদা পূরণের জন্য কচু বা কচুশাক খেতে পারেন।

🔲১১. কচু তে খেলে রক্তের কোলেস্টরেল কমে তাই উচ্চরক্ত চাপের রোগীদের জন্য কচুশাক এবং কচু বেশ উপকারী। নিয়মিত কচুশাক খেলে কোলন ক্যান্সার ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমে।

🔲১২. কচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে । এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কচু শাক খেলে কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়। আরেক গবেষণা বলছে, কচু শাক স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে দারুন কার্যকরী।

🔲১৩. কচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ রয়েছে। এ কারণে এটি দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া চোখ সম্পর্কিত জটিলতা কমায়। কচু শাকে থাকা স্যাপোনিনস, টেনিনস, কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্লাভোনয়েড উচ্চ রক্তচাপ কমায়।নিয়মিত কচু শাক খেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।

🔲১৪. চুলের ভঙ্গুরতাও বন্ধতেও কচুর উপকারিতা অনেক।
কচুতে আয়োডিনের পরিমাণও অনেক।

🔲১৫. কচুর বীজ গুড়ো করে খেলে মুখের দুর্গন্ধ থাকে না।

🔲১৬. জ্বরের সময় রোগীকে দুধ কচু রান্না করে খাওয়ালে জ্বর দ্রুত ভাল হয়। কচুতে আছে প্রচুর ফাইবার, ফোলেট ও থায়ামিন যা মানব শরীরের জন্য অনেক দরকারি উপাদান।

🔲১৭. নিয়মিত কচু খেলে কোলন ক্যান্সার ও ব্রেষ্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।

🔲১৮. কচুতে আছে অক্সলেট নামক উপাদান। তাই কচু শাক বা কচু খেলে অনেক সময় গলা চুলকায়। তাই কচু রান্না করার সময় লেবুর রস বা সিরকা ব্যবহার করা উচিত।

🔲১৯. কচু তে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম ও লৌহ রয়েছে। ভিটামিন এ জাতীয় খাদ্য রাতকানা প্রতিরোধ করে আর ভিটামিন সি শরীরের ক্ষত সারাতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের ছোট বেলা থেকেই কচু শাক খাওয়ানো উচিত।

🔲২০. কচু খেলে শরীর পুষ্ট হয় এবং শুক্র বৃদ্ধি পায়। কান ও গলার রুক্ষতা বা সুড়সুড়ি দূর করে। এটি আমাশয় রোগে বিশেষ উপকারী।

📢কচুশাকের পুষ্টিগুণ ও রাসায়নিক উপাদান :
🚬🚬🚬🚬🚬🚬🚬🚬🚬🚬🚬🚬🚬🚬🚬

🔳কচু তে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান সমূহ। প্রতি ১০০ গ্রাম কচু শাকে থাকে- ৬.৮ গ্রাম শর্করা, ৩.৯ গ্রাম প্রোটিন, ১০ মিলিগ্রাম লৌহ, ০.২২ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন), ০.২৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-২ (রাইবোফ্লেবিন), ১২ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’, ১.৫ গ্রাম স্নেহ বা চর্বি, ২২৭ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ৫৬ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি।

🔳এছাড়াও কচুর মূল উপাদান হলো আয়রন (Fe), যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রেখে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। সতর্কতাঃ
কচুতে অক্সালিক এসিডের উপস্থিতি থাকায় খাবারের পরে মাঝে মাঝে গলা চুলকায়। তাই কচু রান্না করার সময় লেবুর রস বা সিরকা ব্যবহার করা উচিত। তবে যাদের এলার্জির সমস্যা আছে তাদের কচু বা কচু শাক না খাওয়াই ভালো।

আপনার মতামত লিখুন :

 ফেসবুক পেজ

 আজকের নামাজের ওয়াক্ত শুরু

    নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বাংলাদেশ
    সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২
    ৬ Rabi' I, ১৪৪৪
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ
    যোহরদুপুর ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
    আছরবিকাল ৩:১২ অপরাহ্ণ
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
    এশা রাত ৭:০০ অপরাহ্ণ
মোহনগঞ্জ সমিতি ঢাকার উদ্যোগে হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি প্রদান

মোহনগঞ্জ সমিতি ঢাকার উদ্যোগে হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি প্রদান

মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট উদ্বোধন

মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট উদ্বোধন

খালিয়াজুরী স্বাস্থ্য সেবায় প্রথম বারের মতো যুক্ত হলো রক্ত প্রতিস্থাপন কার্যক্রম

খালিয়াজুরী স্বাস্থ্য সেবায় প্রথম বারের মতো যুক্ত হলো রক্ত প্রতিস্থাপন কার্যক্রম

নেত্রকোণায় তিন লাখ শিশুকে এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

নেত্রকোণায় তিন লাখ শিশুকে এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

কেন্দুয়ায় ৭ ডায়গনস্টিক সেন্টারকে অর্থদণ্ড, ৪টিতে সিলগালা

কেন্দুয়ায় ৭ ডায়গনস্টিক সেন্টারকে অর্থদণ্ড, ৪টিতে সিলগালা

কেন্দুয়ায় আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালিত

কেন্দুয়ায় আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালিত

সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : দিলওয়ার খান
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম  
অস্থায়ী কার্যালয় : এআরএফবি ভবন, ময়মনসিংহ রোড, সাকুয়া বাজার, নেত্রকোণা সদর, ২৪০০ ।
ফোনঃ ০১৭৩৫ ০৭ ৪৬ ০৪, বিজ্ঞাপনঃ ০১৬৪৫ ৮৮ ৪০ ৫০
ই-মেইল : netrokonajournal@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।