সব
facebook netrokonajournal.com
ধারাবাহিক উপন্যাস "উত্তরীয়" (১ম খন্ড) -পঞ্চভূত (ছদ্মনা) | নেত্রকোণা জার্নাল

ধারাবাহিক উপন্যাস “উত্তরীয়” (১ম খন্ড) -পঞ্চভূত (ছদ্মনা)

প্রকাশের সময়:

ধারাবাহিক উপন্যাস “উত্তরীয়” (১ম খন্ড) -পঞ্চভূত (ছদ্মনা)

 “উত্তরীয়” (১ম খন্ড)
।।পঞ্চভূত।।

উৎসর্গ– ত্রিদ্বীপ এই অসীম এর তরে…

এ জীবনটা জানে,কে কতটা ভদ্রবেশে বানানো ভালোবাসে।তাই সে আজ নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিনী।ভবিষ্যতের চিন্তা করে এখনেই বৈকি।যেভাবে বিরোধী ধাক্কা লাগে গায়, ভেবে নেয়,এ যেন আদেখলাপনা।যেমনিভাবে দেহের কোন ক্ষতচিহ্নে বসে থাকা মাছিটিকে উড়িয়ে দিয়ে ফুঁ দিয়ে, দু’হাত টিপে মেরে ফেলা রক্ত খেকো ছার পোকা,ফ্লিট জ্বেলে উড়িয়ে দিই দুরন্ত মশা।তাই কখনো এই আদেখলাপনাকে প্রতিফলিত করে না সে।এই জীবনটা জানে,কখন কোথায় কতটুকু সেন্টিমেন্ট নিংড়ে দিতে হয়।কোথায় আরোপ করতে হয় উদ্ধত অহঙ্কার,সে এও জানে,কোথায় আবার চৈত্র শেষের রাঙা বকুল আগুন উদ্দীপ্ত করে তুলতে হয় আবেগের মগজ দিয়ে।কিভাবে হ্নদয়ের তন্দ্রীতে তন্দ্রীতে বাজিয়ে দিতে হয় অনুরাগের এক আশ্চর্য সিঞ্জিনী।কখনো কখনো কেউ কেউ যদি অস্ফুটে ছুঁড়ে দেয় অসুরা মাখানো শব্দাবলী এসব কথাকে এখন আর গায়ে মাখে না উত্তরীয়।স্নানঘরে যেমন ভাবে শরীরে খেলে যায় ডাভ সাবান,তেমনি ভাবেই চারপাশ থেকে ছুড়ে দেওয়া এইসব উড়ো শব্দগুলোকে উদাসীনতায় জল দিয়ে ধুয়ে দেয়।ছোট্রবেলায় উত্তরীয় যখন আকাশের দিকে তাকিয়ে, মাঘের মাঝামাঝি,বাতাসের কনকনে শীতের ইশারা।আর একটু বাদেই শেষ হয়ে যাবে বিকেলটা।হাটতে বেরোতো সে পড়ন্ত বিকেলের মাঠে।ঝুপ করে অন্ধকার নেমে পড়তো অঘ্রান পৌষ মাঘের ক্লান্ত বিকেলে যখন আড্ডা থেকে ফিরে আসতো দুরান্তপনা উত্তরীয় বাড়ীতে।বাবার বকুনি মায়ের ভৎর্সনার দৃশ্য শুনতো কত।এখন তার মুক্ত স্বাধীন জীবন। লেখনীর মাধ্যমে আছে বেশ পার্দশিতা।এখন ইচ্ছে হলে বেরোনোর সময় জমা রাখতে পারে যখন খুশি তখন আমানত হিসাবে।এই সঙ্গীহীন উত্তরিও, এটাই কি চেয়েছিল? আজও বেরোলো। ফাল্গুনের প্রথম বিকেল,কোথায় যাবে?তার কোন উত্তর তো জানে না সে।সন্ধ্যা নেমে এল,বয়েস বাড়ছে রাতের,আর একটু শীত আকঁড়ে ধরবে গ্রাম্যকে।নগরের কোণে কোণে যেসব নিশিহারা মানুষের দল কাঠের গুঁড়ো আর শুকনো পাতার আগুন জ্বেলে অসম লড়াইয়ে অবর্তীন হবে শীতের সাথে,তাদের চোখের কোণে আর একটু মলিন হবে সময়।অবশেষে ঘড়ির ঘন্টা যখন পৌছে যাবে রাত ন’টার ঘরে তখন একেবারে ক্লান্ত অবসন্ন দেহটা ফিরবে নিজ গৃহে।দরজা খুলে ধীরে ধীরে রুমে ডুকবে।জ্বলে উঠবে নীলাভ আলো।বিকেলের অনন্ত পরিশ্রম অন্তে,সৌভাগ্য অথবা সাফল্যের স্বরণী দিয়ে আরো একটু বেশি পথ হেঁটে নিজেকে নিঃশেষে সমর্পন করবে অনন্ত নিন্দ্রার শেষ না হওয়া রাতের নিরাপদ আশ্রয়ে।এমন ভাবেই,দিন আর রাত-রাত আর দিন এসে হাত ধরাধরি করে হেটে যাবে উত্তরীয় পথের প্রথিক হয়ে।এর শেষ কোথায়? ঘরে ফেরা ক্লান্ত ছবিটা তার খবর রাখে না।

পর্ব-২

ফুটফুটে সকাল, সারারাত অতিক্রান্ত হয়েছে সীমাহীন ক্লান্তির মধ্যে।যেমন ভাবে শীতের রাতে ঝুরু ঝুরু বরফ কণা জমে,তেমন ভাবেই মনের কোণে জমেছে বিরক্তি।যখন রাত্রি নামে, শীতল হয় বাতাস,মনে হয়-কি লাভ এভাবে ব্যথার্দীণ জীবন যাপন করে? যেন এক হতভাগ্য।ভাগ্যের অন্বেষণে জন্ম ভূমি ছেড়ে পা দিয়েছিল এই অরুণ্য জীবনে।সে জীবন কেউ গ্রহন করেনি।সমুদ্র তটে যেমন আছড়ে পড়ে তরঙ্গমালা, তেমনি ভাবেই এই অরুন্য জীবনে বেহিসেবী পথ চলা।মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হয় এ জীবন,একাকীত্বের জৌলুসে।চোখ পুড়ে যায়,মনে জ্বালা ধরে। কখনও মনে হয় বিস্মৃতির অতল গর্ভে চিরদিনের মত এ জীবন হারিয়ে যায়।সেই হতাশ মানুষদের ভিড়ে ফিলিপ লুইয়ের নাম এখন আর লেখা হয়না কালো কালির আঁচড়ে।অথচ কত না স্বপ্ন লুকিয়ে ছিল মনের মধ্যে।ভেবেছিল, একদিন শৈল্পীক লেখনীর মাধ্যমে সমস্ত বর্গমাইল জুড়ে নত মস্তকে অভিবাদন জানাবে উত্তরীয় কে।তার এক একটি কাব্যিক গদ্য হবে অনন্ত ফ্রাঁ এর বিনিময়ে।এক জীবনে মানুষ যেসব সুখ আর বৈভবকে করতলে বন্দী করতে চায়,তারা সকলে হবে তার আপন ইচ্ছার অভিলাষী।এসব স্বপ্ন যে কোনদিন সফল হবেনা,সেই নিদারুণ সত্যিটা বুঝে গেছিল। তাই আর কোন মোহে পড়েনা।প্রিয়জন বলতে এখন আর কেউ নেই। এখন শুধু একাকী পাতা বিস্মরনের বনবীথিকায়।

পর্ব-৩

মনে কি পড়ে কোন এক পূর্ণিমা রাতে দরজাতে এক অলৌকিক করাঘাতের শব্দ শুনতে পেলাম।যে অরন্যে আমি থাকি,তরুবীথির পাড়াতে,এমন ধরো মাঝে মধ্যেই ঘটে যায়।হয়তো কোন অসহায়া মেয়ে বউ এসে দেখা করতে চায় উত্তরি ওর সাথে-একটু সহযোগীতার জন্য,কেউ আবার মাঝরাতে হল্লা বাঁধিয়ে দু’চার পয়সা কামাতে চায় তাই পরামর্শ নিতে।একেই মনটা ভালো নেই,মাঝরাতে এ কোন আপদের উৎপাত? বিরক্তিতে উত্তরীয় হয়েছিল ভ্রুভঙ্গিমা।কোন রকমে দরজাটা খুলে দিয়েছিল।চোখ কচলাতে কচলাতে যে অভাবনীয় দৃশ্য চোখের সামনে দেখা গেল,অবাক না হয়ে পারেনি।আমার সামনে দাড়িয়ে ছিলে তুমি।পরে তোমার নাম জেনেছি।তোমার পরণে ছিল শতচ্ছিন্ন পোশাক।তোমার কোঠরাগত চোখ, নিদহারা নিশীথের সাক্ষী বহন করছিল।তোমার ঈষৎ ফাঁটা দেবচাঁদী শরীর,দেখেই বুঝেছিলাম অনেক দিন সেখানে প্রসাধনের পরশ লাগেনি,তোমাকে দেখে সহসা আমার মনে হলো তুমি এই আমারি মত আরেক রাতজাগা পাখী।থরথর করে কেঁপেছিলে তুমি।আর নেহাত নিরুপায় হয়ে আঘাত করেছিলে আমার বন্ধ দরজায়।সেদিন এক অদ্ভূত কৌতুহল জেগেছিল মনে-তোমার প্রতি আমার।আমি শুধিয়ে ছিলাম তোমার পরিচয়।তুমি জড়ো সড়ো হয়ে বসেছিলে আমার পরিচিত বিছানার এক কোণে।বেশ কিছুক্ষন বাদে যখন ফিরে এসেছিল তোমার সম্বিত, চোখ থেকে হারিয়ে গিয়েছিল ভয়ের ইশারা,তুমি থেমে থেমে নাম বলেছিলে।আরো বলেছিলে যেখানে তুমি থাকো সেখানে আর থাকতে পারছো না।মিথ্যে অপবাদ দিয়ে বাড়ী হতে তাড়িয়ে দিয়েছে তোমায়। অতএব,যদি আমি দয়া করি,তাহলে তুমি রাতের মত আশ্রয় নেবে আমার ছোট্র কুঠিরে।সৃর্য উঠার সাথে সাথে চলে যাবে তোমার অজানা যাত্রা পথে।

পর্ব-৪

তোমার কথার মধ্যে এমন এক আদ্রর্তা মাখা ছিল যে,আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলাম।যদিও তোমার থাকাটা খুব একটা সুনিদির্ষ্ট নয়,কিন্তু—তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে সহসা আমার মনে হয়েছিল,হয়তো তুমি মনের জ্বালাতে তোমাকে আজ সাজতে হয়েছে মিথ্যে অপবাদের পলাতক এক স্বারক।কিন্তু মনের শুদ্ধতার দিক থেকে তুমি হয়তো অনেকের চেয়ে অপপাবিদ্ধ যুবক।শুরু হলো সেদিন থেকে আমাদের এক আশ্চর্য পথ চলা।মাঝে মধ্যে তুমি অনেক সকালে বেরিয়ে যাও,কোথায় যাও কাউকে বলে যাওনি।কোন সময় আমি দেখতে পাই তোমার ঘরে ফেরা ক্লান্ত ছবিটা।কোথায় ছিলে সারাদিন,কার কাছে ছিলে?এসব প্রশ্নের উত্তর হয়না বলে আমিও আর প্রশ্ন করিনা তোমাকে। তাই নিরবে মেনে নিয়েছি সবিই।আমি জানি—-তুমি এক অসম্ভব দৃঢ়চেতা মানব।তোমার চিন্তা, চেতনা,মেধা মনন বলে দেয়।তুমি কেমন পুরুষ।মনে মনে তোমার মেধা মননের স্বরণীতে অজান্তেই উড়ে বেড়াই কাংখিত মক্ষিকা হয়ে।তোমার পায়ের পাতায় সংগ্রহ করি পদ্মপরাগ রেনু।তারপর কোন একদিন ক্লান্ত অবসন্ন হয়ে আমার বনস্পতির কোটরে এসে বিশ্রাম নেবে ভাবি।আমি এক উদভ্রান্ত লেখনীর মাধ্যমে ঘুরে বেড়াবো তোমার অন্তরীক্ষ মেধা মনন প্রজ্ঞার পথে প্রান্তরে।এরপর একটি দিন অবসন্ন হয়ে আমার চোখের কোণে গাঢ়তর করবে তোমার সব ক্লান্তির কালিমা।তোমাকে আমি কোনদিন হয়তো বা ছুয়ে দেখবো, এক অদ্ভুত জৈবিক তাড়নাতে মিলিত হবো দুজনা। কিন্তু কখনো তোমার মনের মধ্যে এতটুকু প্রণয়ের শিহরন জাগবে কি তখন?মানব মানবীরা যেমন সৃষ্টির আদিকাল থেকে প্রবল কামনার আশ্লেষে পরস্পরের শরীরে স্থাপন করে পৌরুষ্য অথবা নারীত্ব,তেমন ——–? এভাবেই মিলিত হবো কি?বলতে পারো, তুমি, কল্পিত মনে কতদিন পরে,এমন ভাবে দেখা হওয়ার পর, আরো বেশী গাঢ় হবে প্রেম,কবে আমি তোমাকে প্রবেশ করতে দেবো আমার শয়ন কক্ষে।কবে তুমি এক রাতজাগা কপুতের মত আবার দাড়াবে এ বুকে।অনিশ্চিত করাঘাতে এই মানবীর ঘুম ভাঙ্গাবে? সে অনেক কথা, আজ না হয় থাক সে কথা।

পর্ব-৫

ভাবছি অনেক স্মৃতির সরণী পার হয়ে উড়ে আসা ঘটনার অনুবর্তন গুলিকে নিয়ে। সমাজের কাছে আর কি পরিচয় তোমার? যখন ঘুমিয়ে পড়ে পৃথিবী, যখন বয়ে যায় শান্ত রাতের বাতাস, তখন, একবার,দপর্নে মুখ দেখার ছলে,ফেলে আসা দিনগুলিকে অবলোকন করে নিও একটিবার।এতে দোষটা ছিল কার? এই কুমারির নাকি তোমার।তবেই না গড়ে তুলবো প্রতিরোধের সামান্য প্রাচীর।কিন্তু ঐ অসম লড়াইতে শেষ পর্যন্ত জিততে পারবে কি তুমি? যদি তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে যায় তোমার পলাতক জীবনের সমস্ত প্রতিবাদ।যদি অসহায় হয়ে আত্ম সমর্পন করতে হয় তখন? তখন কি নীরব মিলনের দম্ভের আত্মপ্রকাশ ঘটাবে বিবেকের কাটগড়ায় দাড়িয়ে? হয়তো তুমি জান না, এ বুকের ভেতর কত না বলা কথা জমে পাথর হয়ে আছে,সমাজের এমন দেখা অদেখা ছবি চাপা পড়ে আছে।আর এভাবেই আরেকটি নতুন জীবন পা রাখবে পৃথিবীর বুকে পৈত্রহীন মাতৃগর্ভে।এটা কি হয়,আর কেনই বা অযতা তোমার শরীর সংরাগের স্মৃতি চিহ্ন বহন করব অন্যায় ভাবে। আমিও তো চাইবো এই স্বপ্নের ঘুম ভাঙাতে।সমাজের কাটগড়ায় দাড়াবে, বিবাদী হয়ে,জীবনের স্বীকৃতি নিতে,সমাজের বুকে তার নবজাতককে পরিচয় করিয়ে দিতে,কে তার পিতা? সেদিন কি বিচারকের আসনে থেকে নির্দেশ দিবে বিষয়টা ছিল অন্য রকম?যে হ্নদয়পিন্ডের মধ্যে অন্য একটি ছোট্ট হ্নদয়ের স্পন্দন অনুভব করছি,তার শীর্ণ কপালে হাত রেখে শেষ কথার রায় শুনিয়ে দেবে?এসব কত কথাই আজ মনে পড়ছে। বৃথাই স্মৃতির টলমল দংশনে কোন কিছুই লাভ করা যায না ভ্যালেন।বরং আরও একটু উসকে দেয়া যায়।সে কি কোনদিন তোমার নাম বলতে পারবে কারো কাছে?নাকি চিরদিনই এমনই এক জারজ সন্তান হয়ে বেঁচে থাকতে হবে অনাগত পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নাগরিককে?

পর্ব-৬

১৬ বছরের উত্তরীয়।কি পরিচয় দেবে সমাজের কাছে এমন অবস্থায়? কুমারী পেটে যে সন্তান।এ দায় কে নেবে? এ দোষ কি তার একার? বীভৎস এক জঘন্য মিলনে মেতে উঠা এই জীবনদ্বয়, সেই আগুন ঝরা মুহুর্ত্বে সাজতে হয়েছিল এক স্বৈরিণীর সজ্জাতে,কেউ কি জানে সে রাতের কথা? এমনি ভাবে কত রাত হাজির হতে এই শয্যা গৃহে।মনে কি পড়ে? তোমাকে খুশী করতে, এই বুকের ভেতর ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা কামনার আগুন নেভাতে উত্তরীয়কে সাজতে হত ——–স্ত্রীরুপে। ছ-মাস এই খেলা ঘরের রাণী হয়েছিল এই উত্তরীয়। ভাষার প্রভোলনের ব্যবধানটা অচিরেই ঘুচে গিয়েছিল,শরীরের নিরব মিলনে।ভুলে গিয়েছিল জীবনের মানে।তোমার ডাকে যখন তখন সাড়া দিত মন, কখনো সেই ডাকের মধ্যে ছিল দম্ভের আত্মপ্রকাশ, কখনো সেখানে বেজে উঠতো অনুরাগের সিঞ্জিনী। আজ, যখন পাশে নেই তুমি, এই তিন মাসের আগমনী বার্তার মুখের দিকে তাকিয়ে সেইসব অভিশপ্ত মুহুর্ত্বগুলো বাঙময় হয়ে উঠে এই উত্তরীয়র মনে।এই বুকের ভেতর কত না বলা কথা আজ ,জমে জমে পাথর হয়ে আছে।ভাবি , এই যে একজন নতুন মানুষ পা রাখবে এই পৃথীবীর বুকে,তাকে নিয়ে আসা কী ঠিক? এ তো এক অবৈধ পাপের ফসল।ছ’মাসের শরীর সংরাগের স্মৃতি চিহ্ন বহন করা ঐ নবজাতককে, দশ মাস দশদিন ধরে হ্নদয়ের অন্তঃপুরে রক্ষা করা,কতটা কঠিন,কতটা চ্যালেঞ্চ,কতটা অপমানের,কতটা বঞ্চনার স্বীকার সইতে হবে, তার দায়িত্ব নিয়ে দ্বিধান্বিত আমি আজ।ধীরে ধীরে ককিয়ে উঠে,যখন হ্নদপিন্ডের মধ্যে অন্য একটি ছোট্ট হ্নদয়ের স্পন্দন অনুভব করি,তখন তার শীর্ণ কপালে হাত রেখে শারীরিক যন্ত্রনায় নিঃসৃত হই।বিষাদের কত প্রতিকুলতা পেরুতে হবে এই জীবনে। প্রতি মুহুর্ত্বে যেন মনে হয় ,এ জন্মই কি পাপ ছিল? অসীম এক শূন্যতা থেকে আসা একটি ছোট্ট জীবন বিন্দুর, তার অস্থিত্বের এই আকস্মিক ঘোষনা আমাকে অভিভূত করে,বিস্মিত করে,এবং বিদ্ধ করে একটা বুলেটের মতো। এক অজানা ভীতি আমার সারা শরীরে,সমগ্র সত্তায়।

পর্ব- ৭

সব সময় বিক্ষিপ্ত হয়ে থাকে মন। ব্যর্থাত, নিন্দু মনে এক কাউন্টি পোলো গ্রাউন্ডে ভেবে যাই, এটি একটি যুদ্ধ, প্রতিদিনের, প্রতিমুহর্ত্তের।প্রতি বিন্দু আনন্দের জন্যে জীবনকে কঠোর মুল্য দিতে হয়।
“হে অনাগত জীবন কোষের সমষ্টি,অসীম এক শূন্যতা থেকে আসা একটি ছোট্ট জীবনবিন্দু-জীবন সমর্পকে এখনও তুমি কিছুই জানো না।তুমি এখনও পুরো জীবন নও,কয়েকটি জীবনকোষের সমষ্টি, সম্ভাবনা মাত্র।তবুও তুমি একটু ইঙ্গিত দিতে পারো–এই নিন্দু মনের চিন্তার সঙ্গী হতে পারো।অবশ্য কেউ চায়নি তুমি আসো।কিন্তু এই আমিটি চাই তুমি এসো।কেন জানো,বিশাল শূন্যতা থেকে বেরিয়ে এসে এই পৃথিবী দেখো,মানুষেরা কিভাবে জীবন যাপন করছে।তোমার পূর্বে যারা এসেছে এই পৃথিবীতে,তারা কতটা ক্ষুধার শিকার, কতটা ঠান্ডা কাতর, অপমানিত, বঞ্চিত ,অসুস্থতা, সামাজিক মর্যাদা সম্মান পেয়েছে।তুমি এসে মুক্ত বন্ধুময় এক পৃথিবীতে বাস করবে এ রকম আশা করতে পারো না।আমি যখন ব্যর্থতায় কাঁদি,মোহভঙ্গেরবেদনায় অস্থির হই,অসঙ্গতিতে ক্ষুব্ধ হই-তখন তোমার অস্থিত্বের নিশ্চয়তা যুক্তি খাটাতে পারিনা।তবুও জেনে রাখো,আমি তোমার সমর্পকে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি, তুমি আসবে।যে যাই বলুক।সবেমাত্র তোমার বয়স তিন মাস,তুমি এখনও প্রায় অদৃশ্য। এক ইঞ্চির তিনভাগের একভাগ তোমার দৈর্ঘ্য।তবুও তোমার চোখ, মেরুদন্ড, পাকস্থলী, যকৃৎ , বৃহদান্ত্র, ক্ষুদ্রান্ত্র , ফুসফুস, স্নায়ুতন্ত্র এগুলোর চিহ্ন পাওয়া যায়।হ্নদযন্ত্রের অস্থিত্ব এখনই তোমার মধ্যে বেশ প্রবল।এ অবস্থায় কী করে তোমাকে ফেলে দেই? কোনো ভুল কিংবা আকস্মিকতার মধ্যে যদি তোমার জন্ম হয়ে থাকে,তাকে এত গুরুত্ব দেবার কী আছে?মেয়ে বলে কথা,নারী বলে কথা,কুমারী বলে কথা।কত বোকা ওরা,যে পৃথিবীতে তারা বাস করছে তাও কি এ রকম আকস্মিকতার মধ্যে তৈরি হয়নি?কোন একদিন তো সামাজিক সব নিয়ম কানন মেনে একটি সইয়ের মাধ্যমে এই তোমারি মত এমন কেউ একজন অনাগত শিশু আসতই,তুমি না হয় অলিখিত এক সিদ্ধান্তেই আসছো,তাতে দোষের কি আছে! তোমার বেলায় তাই ঘটেছে। এতে আপত্তির কী আছে?এসব নিয়ে কিছু ভাবি না।কারন আমি জানি,প্রতিটি জন্মের পেছনে অর্থহীন এক ধরনের গর্ব ও ঔদ্ধত্য কাজ করে।যা না থাকলে হয়তো আমাদের কারো অস্থিত্ব থাকতো না।

পর্ব-৮

আমার জন্যে অপেক্ষমান এক নারীকে কতটা নিন্দ পথ পারি দিতে হবে জানিনা,তবে তোমার জন্মানোকে যে বা যারা মনে করে তার সঙে আমি একমত নই।আমি জানি আমাদের এই পৃথিবী নিন্দুকের দখলে -তাদের আধিপত্য এতই প্রবল যে কখনো তা ভাষায় প্রকাশ করা দুরুহ হয়ে উঠে।তবে নারী জীবন এক ধরনের এডভেঞ্চার যেখানে সাহসের প্রয়োজন। আমার এই সাহসটিই যত্ত সব কারন।অসুবিধে নেই।তোমাকে তো হত্যা করতে পারব না।আমি অতটা পাষান হতে পারিনা।কারন আমি রক্তে মাংসে গড়া একজন মানুষ।মানুষ হয়ে আরেক জন মানুষকে খুন করতে পারিনা।যারা এই কাজটি করে, আমার দৃষ্টিতে তারা খুনী।অযতা তোমার অস্থিত্ব নষ্ট করবো,তুমি তো কোন পাপ করনি।সামাজিক মর্যাদার দলিলে সই করে,কাউকে এই পৃথিবীর আলো দেখাতে হবে এমন তো কথা নয়,এ কথা এ নিয়ম, এ প্রথা মানিনা আমি।এসব সামাজিক তৈয়ার বাজে কথা।এ ধরনের নিষিদ্ধ অবিচার, দাসত্ব থেকে মুক্তির প্রয়োজন।ভালোবাসার দায় হিসাবে তোমাকে আনার অভিযানে এ আমার ব্যবসা নয়,দায়িত্বও নয়,অধিকার।তোমাকে ফেলে দেবার কথা সবাই বলে-এমন কি যে তোমার পিতা-সেও বলে। আমার না শুনেই পালালো সে,পালানোই কি তার সুখ!জেনে রাখো সে কিন্তু অপরাধী পৃথিবীতে তার অসম্মান, অপমান,লজ্জিত হবার ভয়ে চলে গেছে।ভাবতেও ঘেন্না লাগে যে-ওকে আমি ভালোবাসতাম।ভালোবাসা নিয়ে আমি অন্য একদিন তোমার সঙে কথা বলবো।আমি এখনও বুঝিনা ভালোবাসা কী?এখন মনে হয় এটি একটি বড় ধরনের তামাশা যা মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্যে,অশান্ত পৃথিবীতে তাকে শান্ত রাখার জন্যে উদ্ভাবিত হয়েছে।সর্বরোগহর ওষুধ হিসাবে ভালোবাসাকে দাড় করিয়ে প্রতারনা করছে।আমি এই শব্দকে এখন ঘৃনা করি।কোথাও এটা ব্যবহার করতে চাইনা।কখনো জানতে চাইনা,এই ভালোবাসা-ই আমার সকল যন্ত্রনা আর কষ্টের কারন কী না।তোমাকেও আমি ভালোবাসি কিনা বলতে পারব না।আমি তোমাকে জীবনের পরিপ্রেক্ষিতেই চিন্তা করতে চাই।

পর্ব-৯

কিন্তু আমি ক্রমশ ভয় পেয়ে যাচ্ছি, এমন এক পৃথিবীতে তুমি আসছো যেখানে অবিবাহিত মেয়ের সন্তান আশা করা অন্যায়, দায়িত্বহীনতা,লজ্জার বিষয়।এভাবের অভিযানে কাউকে পৃথিবীতে আনলে নাকি জাত কুল সবি যায়।সে হয় পাগল, না হয় নেশাখুর।কখনও তাকে স্বাভাবিক মা বলে গন্য করা যায় না।জানিনা তুমি এসে মা বলে ডাকবে কি না।তবে বন্ধু বলে ডাকলেও খুশী।তাও যদি না ডাকো আপত্তি নেই।ভেবো না-অসুন্দর ক্যারিয়ার দেব তোমাকে।তোমার যে পিতা সে আজও খোঁজ নিয়েছিল তোমার।তার গলা কাঁপছিল। ঘটনা কতটা নিশ্চিত জানার জন্যে।আমি জানিয়ে দিলাম।তোমাকে ফেলে দিচ্ছি না, বলেই কথা আর বাড়াইনি।মাঝে মাঝে আশ্চর্য হই-যখন দেখি সই করা কোন মেয়ে গর্ভবতী হয়-আর হঠাৎ করেই সবাই যেন তার প্রতি কত যত্নবান হয়ে ওঠে।কী চমৎকার কনগ্রাচুলেশন্স, বসুন বসুন, বিশ্রাম নিন, কত কথা চারদিক থেকে রব উঠে।আর আমার ব্যাপারে পরিবার পাড়া প্রতিবেশি-আত্মীয় স্বজনেরা নিশ্চুপ, স্থির এবং গর্ভপাত নিয়ে উচ্চকন্ঠ। কেন? এ রকম কথাবার্তা বলছি বলে তুমি কী অবাক হচ্ছো? অবাক হবারই কথা।স্বজনেরা বলে কি জানো-সব মুরগি নাকি সব ডিম ফোটায় না।আমি কেন অবৈধ ডিমটি ফুটাতে চাই?

পর্ব-১০

আচ্ছা তুমি বলো তো- এই যে হাজার হাজার পশু-পাখি, এই সমাজের বুকে কোন সই মই দলিল চুক্তি ছাড়াই যখন তখন জৈবিক প্রতিক্রিয়ায় আবদ্ধ হয়ে জন্ম দিয়ে যাচ্ছে, কৈ তাদের বেলায় তো এমনটি হচ্ছেনা,কোন অসুবিধেও হচ্ছে না? তোমার আসার আগমন নিয়ে এত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়,এত মাথা ব্যথা কেন? তোমাকে তো স্বাগত জানানোর কথা।কারণ তুমি একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ।আমি একটি সুন্দর মানুষ নিয়ে আসছি।যে মানুষকে সৃষ্টিকর্তা অতি মহব্বতে তৈয়ার করেছেন তিনাকে প্রকাশ করার জন্য।তিনার গুণগান গাওয়ার জন্য।আমি তো সেই একজন প্রকাশককে নিয়ে আসার অভিযানে আছি।ওরা কেন তোমাকে মেরে ফেলতে চায়?কি অপরাধ করেছো তুমি?ওরা যে যাই বলুক, চিন্তা করোনা তুমি, আমি কিছুতেই তোমাকে ফেলে দিচ্ছি না।কারণ তুমি আমার একমাত্র চিন্তার সঙ্গী হতে পারো। সুন্দর একটি বন্ধু হতে পারো, এমন কি ভালোবাসার একটি উদাহারণও হতে পারো।আমি তোমাকে সেই ভাবেই সব পথ দেখানোর চেষ্টা করবো।যে পথটি সবচেয়ে শুভ সুন্দর কল্যাণকর, তুমি সেই পথেই এগোবে, দেখবে জীবন কত সুন্দর, কত বর্ণীল, কত ভালোলাগার এই পৃথিবী, ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করবে না কখনও।এখানে একটি কথা বলে রাখি – তোমার সেই পৃথিবীতে আমাকে একটু স্থান করে দিও, যেনো এতটুকু নিঃশ্বাস নিতে পারি-যতটুকু বিষাক্ত বাতাস আমাকে তাড়িত করছে তোমাকে আনার অভিযানে।

পর্ব-১১

এ রকম কথাবার্তা বলছি বলে তুমি কি অবাক হচ্ছো?জানিনা, কেন বলছি।হতে পারে এগুলো অন্য কারো কাছে বলতে পারিনা বলে।মুরগি সমর্পকে স্বজনের কথাবার্তা শুনে কেমন জানি একটু দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি।ওরা বলে এগুলো আমার পাগলামী কল্পনার জগতে বসবাস করছি আমি।আমার স্বপ্ন, আবেগকে যুক্তিযুক্ত করবার চেষ্টা করছি মাত্র।এখনো সময় আছে গর্ভপাতের জন্য চেষ্টা করো।গালি দেয়া হচ্ছিল নষ্টামী বলে।তুমি এসব নিয়ে চিন্তা করুনা,শেষ পর্যন্ত তোমার সাথেই থাকতে চাই আমি।আমি যে নষ্টা নই সে জানে।তাই, আমি চাই তুমি একজন মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে।তুমি কারও সমপত্তি হয়ে জন্ম নিবে না।তুমি শুধু তোমার জীবনের সমপত্তি হয়ে জন্ম নিবে।সে সাফ সাফ বলে দিয়েছে -নিজেকে এই পাগলামীর সাথে জড়াতে চায় না।তোমার কি খারাপ লাগছে ওর কথা শুনে?আমার কিন্তু বিন্দুমাত্র না।ওর জন্যে আমার যা কিছু অনুভুতি ছিল, কেটে গেছে আমাদের জীবনের সাথে না জড়ানোর কথা শুনে।ও জানে আমি আর কখনো ডাকবো যে। তুমি জেনে রাখো-যদি আমার সাথে সম্পর্কের জন্যে ও এখন অপরাধবোধে ভুগে -তা আমার কোন অনুসুচনা করার নেই।পালানোই যদি জীবনের সুখ মনে করে থাকে তাহলে পালিয়েই বাঁচক।এমন কাপুরুষের পালানোই সুখ বুঝি।জানি পলাতক জীবন সুখের হয়না।তবুও দুরে থাক টের ভালো।কারন তুমি আছো বলে। তোমাকে তো সময় দিতে হবে তাইনা বন্ধু!এই কঠিন পৃথিবী সম্পর্কে সঠিক ধারনা দিতে হবে তোমাকে এখন।শুনছো না-কত মানুষ কত বিরুপ ভৎসর্না লেপন করছে, তোমাকে নিয়ে।কেন এমন পাপটি করেছি আমি বিছানায় গিয়ে? আচ্ছা বলো তো-বিছানায় না গেলে তোমাকে কি এই পৃথিবীতে আনতে পারতাম? কিচ্ছু ভেবো না,ওরা বোকার দল,হুজুগে মাস্তি মাতে।ওরা বুঝে না যে-তাই যদি হয়, কুমারিত্ব রক্ষাই যদি বড় ধর্ম হয়, তাহলে সবাই কুমারি থাকি না কেন?পৃথিবী ভূতের আবাস হোক।ভুতের তো আর বাচ্চা হয়না,মানুষেরই হয়।অথবা আরেকটা হতে পারে,আমরা সবাই সমকামী হয়ে যাই-কোন নতুন মানুষ আসবে না এই পৃথিবীতে।

পর্ব-১২

অবাক হচ্ছো ওমন কথা বার্তা শুনে।অবাক হবারই কথা।আপাদত ওসব বাদ দাও।অন্য প্রসঙ্গে যাই-আমাকে ভূলে যেতে হবে এই নিন্দ সমাজের চাবুকের ঘা।ভুলে যেতে হবে কুসুমিত শরীর।খুঁজে নিতে হবে নতুন ঠিকানা।তুমি তো দিনে দিনে বেড়ে উঠছো।তোমার বেড়ে ওঠার শব্দ শুনতে পাচ্ছি।তোমার আগমনি বার্তা ইতিমধ্যে গ্রামে গঞ্জে পৌঁছে গেছে, বেতারের মত অতি দ্রুত।দশর্কদের নিন্দ মনের স্পন্দন যেন আরো বেড়ে গেছে, এ আগুনের উত্তাপ আরো আঁচকে উসকে দিচ্ছে সমাজকে।তাদের মনের ক্ষোভ, তোমার এই বন্ধুটিকে পোড়াতেও পারছে না, মারতেও পারছে না, কি যে মুশকিলে আছে কিছু বলতেও পারছে না।শুধু ঘৃনার আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলছে।আর পুড়িয়ে ছারখার করে দিচ্ছে তোমার এই অসহায় বন্ধুটিকে।বুঝতেই তো পারছো-কত অনুতাপের ভেতর দিয়ে তোমাকে নিয়ে আসার জন্যে লড়াই করছি, নিজেকে পুড়ে পুড়ে অঙ্গার করে। তুমি এসে যদি আমাকে অস্বীকার করো, তবে বৃথা হে জীবন।পৃথিবীর সবাইও যদি পোড়ায় -তোমার এই বন্ধুটিকে, কিছু যায় আসে না।কিন্তু তুমি এসে যদি বন্ধু বলে ডাকো একবার,আমি ভূলে যাবো সব।বিশ্বাস না হলে ডেকে দেখো।তোমার কাছে আমার একটি অনুরোধ-সবাই যখন এখানে আসে-মাটিতে পরার সাথে সাথেই চিৎকার দিয়ে ওঠে!তোমার বেলায় এমনটি আশা করিনা আমি।কাঁদবে কেন তুমি?হাসবে শুধু তুমি।যেটুকু হাসবে তুমি সেটুকু হাসি থেকে কিছুটা হাসি দিও আমায়।কোন দিনও এতটুকু হাসতে পারিনি আমি।কত স্বপ্ন নিয়ে তোমাকে আনার অভিযানে ব্যস্ত আমি।সেখানে এসে কাঁদবে কেন তুমি এখানে কান্নার কোন স্থান নেই। যদি প্রশ্ন করো আমায়-কেন হাসতে পারিনি-তবে এটুকু বলতে পারি সব প্রশ্নের উত্তর হয়না।তবে তোমাকে আমি সব প্রশ্নের উত্তর দিতেও পারি, যদি বন্ধু বলে ডাকো।তুমি জানোনা, এই পৃথিবীতে কতজনকেই বিশ্বাস করে করে মরেছি আমি।কিন্তু তোমাকে অবিশ্বাস করিনা আমি।কারন তুমি হতে যাচ্ছো আমার ফুটন্ত গোলাপ!আমার বিশ্বাস কোমলমতি ফলেরা কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করেনা।এরা শুধু ফুটে থেকে সুভাস ছড়ায়।গন্ধ বিলোয়।তোমার এই বন্ধুটিও ফুলের সাথে মিশে যেতে চায়।যদি তুমি সুযোগ দাও।তোমাকে ফুলের সাথে তুলনা করেছি বলে তুমি ঝরে যাবে না তো? তুমি ঝরে গেলে তোমার এই অসহায় বন্ধুটি বিষণ কষ্ট পাবে! কারণ সবাই চায় তুমি ঝরে যাও।আমি কিন্তু চাইনা।আমি চাই তুমি ফুটে থাকো, তোমার এই বন্ধুটির খাঁ খাঁ মরুর বুকে।কোন একদিন এই নিন্দ বুকের খাঁখাঁ বাগীচায় সুভাস ছড়াবে, মোহিত করবে তোমার এই ভূবন।একটি কথা তোমাকে বলা হলোনা এখনো, কালরাতে হিসেব করে দেখেছি- তুমি আসার সময় ঘনিয়ে এসেছে।আর মাত্র কয়েক দিন বাকি।বসে বসে দিনক্ষন মাস শুধু গুণে যাচ্ছি, কবে আসবে তুমি, কবে আমাদের দেখা হবে, কথা হবে।ভেবোনা তুমি কি হবে তা নিয়ে ভাবছি আমি, তুমি যেই হোও, এসব নিয়ে এত ভাবিনা আমি, আমি শুধু সুন্দর একটি জীবন নিয়ে ভাবি।যে জীবনটি কবুও কারো প্রভূ হবেনা।বন্ধু হবে সবার, যে জীবনটি বন্ধুময় পৃথিবী শুধু রচনা করবে।

পর্ব-১৩

জানো বন্ধু, তোমার স্বপ্নের সিড়ি বেয়ে যতই ওপরে উঠি, যতই উঠি আমি, কোনও শীর্ষের নাগাল পাইনা এই কৌতুহলী আমিও।বিনিময়ে এই গ্রাম্য সমাজের লোকেরা আমার মাথায় কুড়ুলের কোপ বসাতে চায়।আমার স্বপ্নের ওপর গ্রামসুদ্ধ মানুষ ফেলে দিতে চায় মণ মণ পাথর,বিষাক্ত বাক্যবাণে নাজেহাল করতে চায়, কী ভীষণ তান্ডব চারদিকে তাইনা? একটি মাতৃগর্ভপাত করাতে সমাজচ্যুত করবে বলে শ শ লোক তাড়া করছে একটি পরিবারকে।হুমকি দিচ্ছে, তোমাকে নিয়ে পালিয়ে যেতে, নইলে মেরে ফেলবে। তুমি কি ভয় পাচ্ছ? না তুমি ভয় পেও না, আমি ঠিক উঠে দাড়াবই তোমাকে নিয়ে।ওদের পাথর আর গালমন্দের সামনে আমি অনড় দাড়িয়ে থাকবো।এত অনড় দাড়াব যে ওরা হয়তো ওদের হুকুম তামিল করে আমার দেহকে ক্ষতবিক্ষত করবে,কিন্তু বিশ্বাস?বিশ্বাস তো আর মরবে না, যা আমি ছড়িয়ে দিয়ে যাব তোমার মাঝে, তা তুমি গোপনে হলেও রোপন করবে,জল সার দিয়ে বড় করে তুলবে।আমরা হেরে গেছি বলে ভয় পেও না,একদিন দেখো আমাদের স্বপ্নগুলোও বিকশিত হবে।ফুলে ফুলে ভরে যাবে চারদিক, গন্ধ ছড়াবে বিমোহিত করবে এই পৃথিবীকে। তোমাকে একটি গোপন সংবাদ দেই-গতকাল রাতে পরিবারের সবাই মিলে গোপন একটি সন্ধি করেছে। তুমি যখন আসবে-তখন তোমার এই বন্ধুটিকে অচেতন করে তোমাকে মেরে ফেলবে।কি ভয়ংকর সন্ধি!তাইনা বন্ধু? চলো আমরাও একটি নিবিড় সন্ধি করি।তোমাকে মেরে ফেলবে ওরা, আমি কিন্তু তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না।তাই আমরা কয়েকদিনের জন্য হলেও অন্য কোথাও জীবন যাপন করতে পারি।ভেবো না-ওদের ভয়ে তোমাকে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছি আমি।আমি শুধু তোমাকে রক্ষা করতে এ সন্ধি এটেছি।যদি তুমি রাজি থাকো চলো আজ রাতেই এখান থেকে সরে যাই।তুমি যখন একটু বড় হবে তখন আবার না হয় এ মাটিতে ফিরে আসবো।কোন কলংঙ্ককে ভয় পাই না আমি।শুধু তোমাকে হারানোর ভয়।মাত্র তো আর ক’টা দিন,তারপর তো আমরা মুখোমুখি হচ্ছি।তুমি যখন আমার চিন্তার সঙি হবে,তখন আর কোন ভয় থাকবেনা আমার।দুজনার পৃথিবীই হবে সমানে সমান।ভেবোনা, তোমার প্রয়োজন মেটাতে পারবোনা আমি।নিশ্চয়ই পারবো।আমাদের চারপাশে এমন কেউ থাকবেনা।শুধু তুমি আর আমি ছাড়া।।

চলবে….

আপনার মতামত লিখুন :

 ফেসবুক পেজ

 আজকের নামাজের ওয়াক্ত শুরু

    নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বাংলাদেশ
    সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২
    ৬ Rabi' I, ১৪৪৪
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ
    যোহরদুপুর ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
    আছরবিকাল ৩:১২ অপরাহ্ণ
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
    এশা রাত ৭:০০ অপরাহ্ণ
কবি মোঃ শহিদ আলম এর ৩টি কবিতা

কবি মোঃ শহিদ আলম এর ৩টি কবিতা

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ: এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ: এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন

বিরহী কবি মাজেদুল হক

বিরহী কবি মাজেদুল হক

নেত্রকোণার উত্তর জনপদের সাহসী ভাবনা!–রীনা হায়াৎ

নেত্রকোণার উত্তর জনপদের সাহসী ভাবনা!–রীনা হায়াৎ

কবিতা : পুরনো দিনের কথা, কবি মোঃ এনামুল হক

কবিতা : পুরনো দিনের কথা, কবি মোঃ এনামুল হক

কবি গোলাম জাকারিয়া এর দুটো কবিতা

কবি গোলাম জাকারিয়া এর দুটো কবিতা

সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : দিলওয়ার খান
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম  
অস্থায়ী কার্যালয় : এআরএফবি ভবন, ময়মনসিংহ রোড, সাকুয়া বাজার, নেত্রকোণা সদর, ২৪০০ ।
ফোনঃ ০১৭৩৫ ০৭ ৪৬ ০৪, বিজ্ঞাপনঃ ০১৬৪৫ ৮৮ ৪০ ৫০
ই-মেইল : netrokonajournal@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।