সব
facebook netrokonajournal.com
নদীভাঙ্গন: প্রেক্ষিত নেত্রকোণা। কারণ, ফলাফল ও পরামর্শ | নেত্রকোণা জার্নাল

নদীভাঙ্গন: প্রেক্ষিত নেত্রকোণা। কারণ, ফলাফল ও পরামর্শ

প্রকাশের সময়:

নদীভাঙ্গন: প্রেক্ষিত নেত্রকোণা। কারণ, ফলাফল ও পরামর্শ

।।মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম।।

ত্রিমাত্রিক ভৌগোলিক পরিমণ্ডলে আবদ্ধ আমাদের নেত্রকোণা। পাহাড়, হাওর ও সমভূমি। জেলার আয়তন ২,৮১০ বর্গ কিঃ মিঃ এর মধ্যে জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে মোট নদী পথ ২০০ নটিক্যাল মাইল (প্রায়)। জেলায় ছোট বড় ৮৫টির মতো নদী থাকলে বর্তমানে তা বিলুপ্ত হয়ে ৫৭টির মতো রয়েছে। এর মধ্যেও নাব্যতা হারিয়েছে প্রায় ৩৭টি নদী।

নদী ভাঙ্গন বাংলাদেশের একটি নিয়মিত দূর্যোগ হলেও নেত্রকোণায় নদী ভাঙ্গনে ক্ষয়ক্ষতি ধীরে ধীরে অন্যান্য আকস্মিক ও প্রলয়ঙ্করী দূর্যোগ অপেক্ষা অধিক ধংসাত্মক ও সুদূর প্রসারী হচ্ছে।

সাধারণত সমুদ্রের কাছাকাছি অংশে নদীর পানি তীব্র গতিতে ছুটে চলে। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে উজানে তীব্র বৃষ্টিপাত হলেও নদীর পানি বেড়ে যায়। তখন নদীতে স্রোতও বেড়ে যায়। নদীর এই তীব্র স্রোত ভাটার দিকে চলার পাশাপাশি নদীর পাড় আঘাত করতে থাকে। পানির এই ক্রমাগত তীব্র আঘাতে নদীতীরবর্তী ভূভাগ ক্ষয় হতে থাকে। একসময় মাটি ক্ষয় হতে হতে যখন উপরের মাটির ভার সহ্য করতে পারে না, তখন উপরের অক্ষয় মাটিসহ নদীপাড়ের বিশাল অংশ বা চাড়া নদীর মধ্যে ভেঙে পড়ে। এসব কারণে ভাঙন এলাকায় নদীর পানি হয় গলিত মাটিপূর্ণ, ঘোলা।

আরো একটি কারণে এমনটা হতে পারে, সাধারণত নদী, তার পানির গতিপথে কোনো বাধা পেলে তাতে তীব্র আঘাত করে। নদী, গতিপথ বদলাবার সময় যেদিকে গতি বদলায়, সেদিকের পাড়ে বারবার তীব্রগতিতে আঘাত করতে থাকে। সাধারণত উপকূল এলাকা পলিগঠিত হওয়ায়, নরম পলিমাটির স্তর সেই আঘাত সহ্য করতে না পেরে ভেঙ্গে পড়ে। এভাবে নদী একদিকের পাড় ভাঙতে থাকলেও অপর দিক থেকে গতি বদলে নেয় বলে অপর দিকে গলিত পলিমাটি নিয়ে জমা করতে থাকে। তাই নদীভাঙনের মাধ্যমে নদীর একপাড় ভাঙে, আরেক পাড় গড়ে।

এখন প্রশ্ন হলো, নেত্রকোণায় নদী ভাঙন কত ধরনের হতে পারে? উত্তরে বলা যায়, দুই ধরনের কারণে নদী ভাঙন সংঘটিত হয়। সেগুলো হলো, প্রাকৃতিক কারণ ও মানবসৃষ্ট কারণ।

নদী ভাঙ্গনের প্রাকৃতিক কারণ কী কী? নদী ভাঙ্গনের প্রধান প্রাকৃতিক কারণ হলো জোয়ার-ভাটা, বন্যা, ভূমিকম্প ইত্যাদি। আর মানবসৃষ্ট প্রধান কারণ হচ্ছে অপরিকল্পিত নদী খনন, বালু উত্তোলন, নদীর তীরবর্তী গাছপালা কাটা ইত্যাদি।

নদী ভাঙ্গনের প্রাকৃতিক কারণ আরেকটু স্পষ্ট করে বলতে গেলে বলতে হয়, নেত্রকোণায় একটি পলি গঠিত ভূমি হওয়ায় এখানকার ভূমি নদীর পানির ধাক্কায় বা সামান্য তোড়ে অতি সহজেই ভেঙ্গে যায়। মাটির গঠন দুর্বল বিধায় সামান্য চাপ বা আঘাতে নদীর পাড়ে ভাঙ্গন হয়ে থাকে। বর্ষাকালে বা বন্যার সময় নদীতে পানির পরিমান বৃদ্ধি পায়, ফলে বর্ধিত পানির চাপে নদীর পাড়ে ভাঙ্গন হয়ে থাকে। ঢেউয়ের আঘাতেও অনেক সময় নদীর পাড়ে ভাঙ্গন হয়ে থাকে। যেখানে যেখানে নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করেছে, সেখানে সৃষ্ট বাঁকে নদী ভাঙ্গন হয়ে থাকে। নদী অনেক শাখায় বিভক্ত হয়ে গেলে, মধ্যস্থিত চরসমূহের পাড়ে ভাঙ্গন হয়ে থাকে। নদীর আকার ও ভাঙ্গনের একটি কারণ, কেননা বড় নদীতে ভাঙ্গন বেশী হয়। নদীর পাড়ে নিচের দিকে অবস্থিত নরম পলি মাটি পানির ধাক্কায় ধাক্কায় গলে যাবার ফলে নিচের দিকে ফাঁপা সৃষ্টি হয় এবং উপরের শক্ত মাটি প্রথমে ধ্বসে গিয়ে পরে ভেঙ্গে পড়ে। নদী ভরাট হয়ে যাবার কারণে পানি বৃদ্ধির সময় পাড়ের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং পাড় ভাঙ্গতে থাকে। নদীতে জোয়ার-ভাটার কারণে সৃষ্ট পানি চলাচলের প্রভাবে ভাঙ্গন হয়ে থাকে। নদীতে নতুন চর সৃষ্টি বা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে ভাঙ্গন হয়ে থাকে। নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে স্রোত বৃদ্ধি পেলে পানিতে যে বলয় বা গোলা সৃষ্টি হয় তার প্রভাবেও নদী ভাঙ্গন হয়ে থাকে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলেও অনেক সময় নদীতে ভাঙ্গন হয়ে থাকে।

আবার অন্যদিকে নদী ভাঙ্গনের মানবসৃষ্ট কারণগুলো খতিয়ে দেখে মনে হচ্ছে, নদীর মাঝখানে আড়াআড়ি বাঁধ নির্মাণ করে নদীর গতি রুখতে চেষ্ট করার ফলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসাবে ভাঙ্গন হয়ে থাকে। ভাঙ্গনপ্রবণ এলাকায় নদীর পাড় বা জমি খানিকটা ছেড়ে দিয়ে অথবা নদীর পাড় থেকে অনেকটা ভিতরে গিয়ে ভাঙ্গন প্রতিরোধমূলক বা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের কারণে নদী ভাঙ্গন হয়ে থাকে। অপরিকল্পিত রাস্তা-ঘাট ও বাঁধ নির্মাণ করে মৌসুমী বর্ষার পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ফলে নদীতে পানির চাপ বাড়ে এবং ভাঙ্গনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। নদীর উৎস মুখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে হঠাৎ হঠাৎ অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেয়ার ফলে নদীর পাড়ে আকস্মিক ভাঙ্গন হয়ে থাকে। স্লুইস গেট নির্মান করে পানি নিয়ন্ত্রণের নামে পানি আটকে দেয়ার ফলে পানির চাপ বৃদ্ধির কারণে নদীর পাড়ে ভাঙ্গন হয়ে থাকে। চর-ভূমির গাছ ও কাঁশবন নিধনের ফলে চরের পাশ দিয়ে ভাঙ্গন হয়ে থাকে। অযৌক্তিক ড্রেজিং বা নদী খননের ফলেও নদী ভাঙ্গন হয়ে থাকে।

এর ফলে সমাজ জীবনে নদী ভাঙ্গনের কি কি প্রভাব পড়ছে তা তুলে ধরতে চেষ্টা করছি। প্রথমেই চোখে পড়ে, নদী ভাঙ্গন বেকারত্ব ও দারিদ্রতার প্রসার ঘটায়। নদী ভাঙ্গনের ফলে ভূমিহীনতা বৃদ্ধি পায়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অভাবের তাড়নায়, ষড়যন্ত্রমূলক প্ররোচনায় কিংবা অন্যের চাপের মুখে অবশিষ্ট জমি-জমা, গবাদি-পশু এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী হাতছাড়া করে ফেলে। অনেক পরিবার/মানুষ অতি মাত্রায় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিতে পতিত হয়। খাবার পানি ও পয়ঃ পরিচ্ছন্নতার তীব্র সংকট দেখা দেয়। বহুসংখ্যক লোক কর্মসংস্থান লাভের বা বেঁচে থাকার আশায় এলাকা ত্যাগ করে শহর বা অন্য কোন স্থানে অস্থায়ী বা স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয়ে চলে যায়। বৃদ্ধ, নারী ও শিশূদের মাঝে ভিক্ষা বৃত্তির প্রসার ঘটে। লেখা-পড়া বাঁধাপ্রাপ্ত হওয়া এবং স্কুল বন্ধ থাকার কারণে বহু ছেলে-মেয়ে একবার স্কুল ছেড়ে গেলে আর স্কুলে ফিরে আসতে পারে না, ফলে জনসংখ্যায় অশিক্ষিতের হার বেড়ে যায়। শত শত বা হাজার হাজার মানুষ বাঁধ বা শহরের বস্তিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হয়। নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের শিশুরা বাঁধ বা বস্তির জীবনে প্রতিকূল পরিবেশ ও অনাকাঙ্খিত পারিপার্শ্বিকতার মাঝে নিক্ষিপ্ত হয়। গণ-দারিদ্র ব্যাপকভাবে পুষ্টিহীনতার প্রসার ঘটায়। শিশু শ্রম ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি পায়। বাঁধ, বস্তি বা অন্যান্য স্থানের অস্বাভাবিক পরিবেশের প্রভাবে, নদী ভাঙ্গনে দুর্গত নারী ও কিশোরীরা প্রকাশ্য বা গোপন পতিতাবৃত্তির শিকার হয়। চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতি, প্রভৃতি অপরাধ বৃদ্ধি পায়। নদীতে ভেঙ্গে যাওয়া জমি জেগে উঠলে তা দখলের প্রতিযোগিতায় লড়াই, মামলা-মোকদ্দমা বৃদ্ধি পায়। নদী ভাঙ্গনে আন্তর্জাতিক সীমানা পরিবর্তনের ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠী বৈষয়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্থ জনসাধারণের মাঝে আশ্রয়হীনতা বৃদ্ধি পায়। চলমান ভাঙ্গন প্রক্রিয়ায় বাঁধ ও বস্তিতে মানবেতর জীবনের প্রসার ঘটতেই থাকে। স্থানীয় অর্থনীতিতে মন্দাগ্রস্থতা সৃষ্টি হয়। দেশের সার্বিক উৎপাদনশীলতা ক্ষতির মুখে পড়ে।

এখন অতিসাম্প্রতিক কালে নেত্রকোণায় নদী ভাঙন এর উপর বেশ কিছু পত্রিকার প্রতিবেদনের শিরোনাম তুলে ধরতে চেষ্টা করব।

দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় গত ১৬ জুন, ২০২০ তারিখে প্রকাশিত সংবাদের শিরোনাম হলো, “কংশ নদীর অব্যাহত ভাঙনে নেত্রকোনার ফকিরাবাজার এলাকার পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন : ভেঙে যাচ্ছে একমাত্র সড়কও”

অপর একটি শিরোনাম হলো, “খালিয়াজুরীতে ধনু নদীর ভাঙনে নিঃস্ব ৫৫ পরিবার” খবরে বলা হয়, নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের পাচহাট এলাকার চরপাড়া গ্রামে ৫৫টি পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে খরস্রোতা ধনু নদীর ভাঙ্গনে।

গত অক্টোবর এর ৭ তারিখ প্রকাশিত বণিক বার্তা পত্রিকার একটি শিরোনাম হলো, “সোমেশ্বরীর ভাঙনে বিলীন পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি ” খবরে বলা হয়, নেত্রকোনার দুগার্পুরে সোমেশ্বরী নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও স্থাপনা। গত তিন মাসের ব্যবধানে পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন হুমকিতে রয়েছে আরো কয়েক হাজার ঘরবাড়ি। ভাঙনের কবলে পড়ে গত চার-পাঁচ বছরে হাজারো পরিবার নিঃস্ব হয়েছে।

এদিকে গেলো ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৪৯ তারিখ প্রকাশিত চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, কংস নদীর ভাঙনে বিলীন একের পর এক জনপদ।

গত ০৪ অক্টোবর ২০২০ তারিখ প্রকাশিত আরেকটি পত্রিকার শিরোনাম ছিলো, বালু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে দুর্গাপুরে বাড়ছে নদী ভাঙ্গন। খবরে বলা হয়েছে, দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী নদীর বালু মহালে দীর্ঘদিন ধরে চলছে বালু ব্যবসায়ীদের তান্ডব। নদীতে পানি বাড়লে শহর রক্ষাবাঁধের পাশেই ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু ও নূরী পাথর উত্তোলন এবং পানি কমলে মাঝ নদীতে শত শত ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দুর্গাপুর শহর রক্ষাবাঁধ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, সড়কসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান।

নিউজ ঢাকা ২৪ এর ২৯ সেপ্টেম্বর এর একটি সংবাদে বলা হয়, “নেত্রকোনার দূর্গাপুরে পাহাড়ি বন্যায় নদীতে ভাঙন, আতঙ্কে ১৫গ্রামের বসতি”

এখন আসি কিছু পরামর্শ নিয়ে, নদী ভাঙন রোধ ও পরিচ্ছন্ন রাখার স্বার্থে পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কয়েক দফা সুপারিশ করেছেন সেই সুপারিশসমূহ হলো, নদী দখল ও দূষণ মুক্ত করে পূর্বের ন্যায় গতিধারা ফিরিয়ে আনা। সিএস এবং আরওআর অনুসারে নদীর সীমানা নিধারণ করা। নদীর পাড়ের জনগণকে সচেতন করা। রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে রায়ে নদীর সীমানা ও তীরবর্তী জায়গা ইজারা বা বিক্রি করা যাবে না। অবৈধ দখলদার চিহ্নিত করণ। উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন করা।পরিবেশ-প্রতিবেশের প্রতি লক্ষ্য রেখে এখনই দখল, দূষণ প্রক্রিয়া রোধ সহ দায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নদীর পানিকে দূষণমুক্ত করা ও দেশীয় প্রজাতীয় মাছের অভয়াশ্রম তৈরী করা। নদীর দুই পাশে বসবাসকারী বাড়ীগুলো সার্ভে করা, নদী ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একে অপরের সহযোগিতার মাধ্যমে নদীগুলো সংরক্ষণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। প্রশাসনের তদারকি জোরদার করা নদী সংযোগ খালের পানির গতিরোধকারী বাঁধা অপসারণ করা। নদীরক্ষা কমিটি গঠন করা। ছোট ছোট দল গঠন করে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা। নদীর পাড়ের মানুষকে সচেতন করে নদীর পাড়ে বৃক্ষ রোপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা। জীব বৈচিত্র্য রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করা। সরকারকে মগড়া নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্যে খনন কাজ করা।

এদিকে নদীর পাড় ভাঙন রোধের কয়েকটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি তুলে ধরতে চাইছি, নদীর পাড় ৩০-৪৫ ডিগ্রি ঢালু করে কেটে কাটা মাটি উপর দিকে জমা করতে হবে। কাটা মাটি পাঁচ কেজি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন উৎকৃষ্ট মানের পলিব্যাগে ভরে ব্যাগের মুখ আগুনে পুড়ে সিল করে দিতে হবে; যেন পানি ঢুকতে না পারে। ঢালু পাড় সমান করে মাটি বোঝাই পলিব্যাগ ইটের মতো পর পর বিছিয়ে দিতে হবে। বিছানো ব্যাগ স্রোতের চাপে যাতে সরে না যায় সে জন্য উপরে ২-৩ ইঞ্চি ছিদ্রযুক্ত নায়লনের জাল দিয়ে ঢেকে হবে। জাল বাঁধার জন্যে নদীর ঢালুতে পানির স্তর থেকে আপাতত এক ফুট অন্তর অন্তর এক ইঞ্চি পিভিসি পাইপ নিচের দিকে গেড়ে দিতে হবে। পাইপ নদীর মাঝখানের গভীরতা থেকে অন্তত ১৫-২০ ফুট বেশি হবে। প্রয়োজনে খুঁটির দূরত্ব এবং গভীরতা বাড়ানো ও কমানো যাবে। স্রোতের চাপ বেশির কারণে পিভিসি পাইপে না কুলালে জিআই পাইপও বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাইপ গাড়ার জন্যে পাইপের নিচের মাথায় কয়েল স্ক্রু লাগাতে হবে। পাইপের উপরের মাথায় একটি আংটা লাগাতে হবে। আংটাতে নায়লনের রশির এক প্রান্ত বাঁধতে হবে। রশির অপর প্রান্ত জালের উপর দিয়ে পাড়ের দিকে নিয়ে সেখানে গাঁথা একটি গড়ানের খুঁটির সঙ্গে বাঁধতে হবে।

নেত্রকোণা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আক্তারুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি নদীর ভাঙনের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নদী ভাঙন রোধকল্পে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকাসমূহ সাময়িক রক্ষার জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

লেখকঃ
সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠক
E-mail: md.ziosim2016@gmail.com

আপনার মতামত লিখুন :

 ফেসবুক পেজ

 আজকের নামাজের ওয়াক্ত শুরু

    নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বাংলাদেশ
    সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২
    ৬ Rabi' I, ১৪৪৪
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৫০ পূর্বাহ্ণ
    যোহরদুপুর ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
    আছরবিকাল ৩:১২ অপরাহ্ণ
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
    এশা রাত ৭:০০ অপরাহ্ণ
এর আরও খবর
আরো একটি গৌরব উজ্জল দিনের অপেক্ষায় বাঙালি জাতি! : মকবুল তালুকদার

আরো একটি গৌরব উজ্জল দিনের অপেক্ষায় বাঙালি জাতি! : মকবুল তালুকদার

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ: এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ: এজেডএম সাজ্জাদ হোসেন

শোকাবহ আগস্ট : এডভোকেট আব্দুল হান্নান রঞ্জন 

শোকাবহ আগস্ট : এডভোকেট আব্দুল হান্নান রঞ্জন 

বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব: ইতিহাসের অনন্য এক নারী

বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব: ইতিহাসের অনন্য এক নারী

আমার সাংবাদিকতা জীবনের শুরুর দিনগুলো: -মাসুদ করিম

আমার সাংবাদিকতা জীবনের শুরুর দিনগুলো: -মাসুদ করিম

উপসম্পাদকীয়: ‘ভয় নেই, আমি এসে গেছি’ -জিয়াউদ্দীন আহমেদ

উপসম্পাদকীয়: ‘ভয় নেই, আমি এসে গেছি’ -জিয়াউদ্দীন আহমেদ

সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : দিলওয়ার খান
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম  
অস্থায়ী কার্যালয় : এআরএফবি ভবন, ময়মনসিংহ রোড, সাকুয়া বাজার, নেত্রকোণা সদর, ২৪০০ ।
ফোনঃ ০১৭৩৫ ০৭ ৪৬ ০৪, বিজ্ঞাপনঃ ০১৬৪৫ ৮৮ ৪০ ৫০
ই-মেইল : netrokonajournal@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।