নেত্রকোণায় অতিরিক্ত ঘুমের ঔষধ খেয়ে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

প্রকাশিত: ২:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
নেত্রকোনা মডেল থানায় কর্মরত রুবেল মিয়া (২৮) নামের এক পুলিশ সদস্য অতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যা করেছেন।

সোমবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়মনসিংহে একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মার যান। এর আগে রোববার রাতে থানার ব্যারাকে ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। রুবেল মিয়া ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের ছেলে।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রুবেল মিয়া নেত্রকোনা জেলা শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকায় স্ত্রী জেসমিন আক্তার ও দুই সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত সপ্তাহে স্ত্রী ও সন্তানেরা বাড়িতে চলে যাওয়ার পর থেকে থানা ব্যারাকে থাকতেন তিনি। কনস্টেবল রুবেল মিয়া প্রায় আট বছর আগে পুলিশে যোগদান করেন। দেড় বছর ধরে নেত্রকোনা মডেল থানায় কর্মরত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের কারণে অতিরিক্ত ঘুমের ট্যাবলেট সেবন করে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে নেত্রকোনা থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মডেল থানার কনস্টেবল রুবেল মিয়া প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন শেষে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে থানার মেসে রাতের খাবার খান। এরপর ফেসবুক আইডিতে ‘দ্য এন্ড’ লিখে স্ট্যাটাস দেন তিনি। এটি রাত ১২টার দিকে তার ছোট ভাই দেখতে পেয়ে ৯৯৯-এ কল করে জানান। এরপর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করেন। পরে মডেল থানার পুলিশ রুবেল মিয়াকে প্রথমে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এরপর তাকে ময়মনসিংহের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেলে রুবেল মিয়া মারা যান। রুবেলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্যে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তে শেষে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল তানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।