সব
facebook netrokonajournal.com
নেত্রকোণায় মাছ চাষ সম্প্রসারণে স্বনির্ভর হচ্ছে দরিদ্র পরিবার কর্মসংস্থান হচ্ছে বেকার যুবকদের | নেত্রকোণা জার্নাল

নেত্রকোণায় মাছ চাষ সম্প্রসারণে স্বনির্ভর হচ্ছে দরিদ্র পরিবার কর্মসংস্থান হচ্ছে বেকার যুবকদের

প্রকাশের সময়:

নেত্রকোণায় মাছ চাষ সম্প্রসারণে স্বনির্ভর হচ্ছে দরিদ্র পরিবার কর্মসংস্থান হচ্ছে বেকার যুবকদের ফাইল ছবি

নেত্রকোণায় মাছ চাষ সম্প্রসারণে স্বনির্ভর হচ্ছে দরিদ্র পরিবার কর্মসংস্থান হচ্ছে বেকার যুবকদের

।।দিলওয়ার খান।।

মাছে ভাতে বাঙালি’ বাঙালির শাশ্বত এই পরিচয়েই নিহিত রয়েছে জাতীয় জীবনে মৎস্যের গুরুত্ব। দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমিষের চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচনসহ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে মৎস্য খাতের ভূমিকা অপরিসীম।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষত আমিষের চাহিদা মেটাতে মৎস্য সম্পদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বেশির ভাগ লোক কৃষিজীবী এবং গ্রামে বাস করে। মৎস্য চাষ এসব গ্রামীণ মানুষের অর্থনৈতিক আয় রোজগারের একটি অংশ। প্রতি বাড়ির আনাচে-কানাচে পতিত পুকুরে মাছ চাষ করা যায়। মাছ চাষে যে মনমানসিকতা, সক্ষমতা প্রয়োজন এ দেশের মানুষের তা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু এদের পরিকল্পিত উপায়ে মৎস্য চাষে উদ্বুদ্ধ করা। বর্তমানে সরকার এবং ব্যক্তিপর্যায়ের উদ্যোগে আমাদের দেশেও বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নত জাতের মৎস্য চাষ শুরু হয়েছে। ফলে দেশে প্রতিনিয়তই মাছ চাষের
সম্প্রসারণ ঘটছে। স্বনির্ভর হচ্ছে দরিদ্র পরিবার এবং বেকার যুবকরাও।

দেশের উত্তর-পূর্বাংশে ৭টি জেলার ৪৭টি উপজেলা নিয়ে হাওরাঞ্চল গঠিত। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ৯৫, সিলেটে ১০৫, হবিগঞ্জে ১৪, মৌলভীবাজারে ৩, নেত্রকোণায় ৫২, কিশোরগঞ্জে ৯৭ এবং ব্রাম্মণবাড়িয়ায় ৭টি মিলে মোট ৩৭৩ টি হাওর রয়েছে।

‘মোহনগঞ্জ মডেল’-বর্ষায় প্রজনন সময়ে মাছ না ধরায় পরবর্তিতে জেলেরা বেশি মাছ ধরে বেশি লাভবান হয়েছেন।সেই সাথে উন্মূক্ত জলাশয়ে বর্ষার শুরুতে হাওরের চারদিক থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের
পোনা ছেড়ে দেয়া যেতে পারে। অবাধে চড়ে, বেড়ে উঠা এ সব পোনা কয়েক মাস পর্যন্ত ধরা হতে জেলেদের নিবৃত রাখতে হবে। এ সময় বেকার হাওর মৎস্যজীবীদের ভাতা বা বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

হাওরের যতো সম্ভাবনাঃ হাওরাঞ্চলে মোট ১৫,৩৭৪টি গ্রামে ৩২, ৪৪ ৩৯০পরিবার (Haousehold) এর বসতভিটার আয়তন ৩, ০৩,১২০ হেক্টর যা, হাওরের মোট আয়তনের ১২%। টিলাসম উঁচু এ গ্রাম তৈরিতে গ্রামের চারপাশে কয়েক লক্ষ পুকুর, ডোবা, গর্ত রয়েছে। যার অধিকাংশই বর্ষাকালে পানিতে
ডুবে যায়। এগুলোও কর্মসৃজন বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচীর অধীনে খনন করে
মৌসুমী/ বছরব্যাপী মাছ, মুক্তা চাষ, হাঁস, গবাদি পশু, ফল ফলাদির গাছ, গৃহস্থালি কাজ বা সম্পূরক সেচের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে

জেলায় বানিজ্যিক ও অবানিজ্যিক পুকুরের সংখ্যা ৬০৭৮০টি যার আয়তন ৮৩৭৭.২০ হেক্টর। বেসরকারী বানিজ্যিক মৎস্য খামার ১৫০৫ টি (পুকুর ১২১৫০ টি) যার আয়তন ২০৯৪.৪৪ হেক্টর, বিলের সংখ্যা ৫৯৭ টি যার আয়তন ৮২১৯.৪৫ হেক্টর, জেলার মোট খালের সংখ্যা ১১২ টি এর আয়তন ৫৫৭.৭৭ হেক্টর, নদীর সংখ্যা ১২টি এবং আয়তন ৩৬৮১.৭৩ হেক্টর। এগুলোকে সঠিক উপায়ে কাজে লাগাতে পারলেই পরিবর্তন হবে নেত্রকোণার আর্থ-সামাজিক চিত্র।

নেত্রকোণায় মৎস্য সম্প্রসারণে ক) জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি প্রোগ্রাম (ফেজ-II প্রজেক্ট) খ) ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্প গ) জলাশয় সংস্কারের মাধমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পসমুহ চলমান রয়েছে যা খুবই ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
তবে জেলায় এই খাতে কিছু চ্যালঞ্জ রয়েছে, তাহলো, মুক্ত জলাশয়ে মাছ এর উৎপাদন বৃদ্ধি করা, গুণগতমানসম্পন্ন খাদ্য ও মাছের পোনা সরবরাহ নিশ্চিত করা, দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ করা, মৎস্য
খাতের যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাওরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন

কিন্থ কিছু সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা হলো, মাছ চাষে আধুনিক/যান্ত্রিকীকরন এর অভাব, গুণগতমানসম্পন্ন পোনার অভাব, মৎস্যখাদ্য ও খাদ্য-উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, উৎপাদিত মাছের বাজার মূল্য কম, জনবলের অভাব, লজিস্টিক সাপোর্ট সংকট।

কিন্তু সেই সমস্যাসমূহ পাশকাটিয়ে চাষের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ করণীয় হলো, মাছ চাষে যান্ত্রিকীকরন এর প্রচলন ঘটাতে কৃষির ন্যায় ভর্তূকি প্রদান, গুণগতমানসম্পন্ন পোনা তৈরীর জন্য উন্নত মানের নার্সারি/হ্যাচারি প্রতিষ্ঠা করা, মৎস্যচাষের ক্ষেত্রসমূহে বাণিজ্যিক হারের পরিবর্তে কৃষির ন্যায় সাধারণ হারে বিদ্যুৎ বিল নির্ধারনের ব্যবস্থা করা, জেলা পর্যায়ে রোগ অনুসন্ধান ও নির্ণয় কেন্দ্র স্থাপন, অন্যান্য এলাকার ন্যায় ময়মনসিংহ বিভাগে অঞ্চলভিত্তিক প্রকল্প প্রণয়ন।

অন্যদিকে মুক্তজলাশয়ের ক্ষেত্রে আমাদের ভবিষ্যৎ করণীয়সমূহ হচ্ছে, প্রয়োজনমত বিল নার্সারি স্থাপন, লীজকৃত জলাশয়ে নিয়ম অনুযায়ী ১০% জলাশয় অভয়াশ্রমের জন্য সংরক্ষিত রাখা, দেশীয় প্রজাতির মৎস্য সংরক্ষণে প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে ১ টি স্থায়ী অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা, পেন কালচার ও খাঁচায় মাছচাষ জোরদার করা, হাওরের জীববৈচিত্র বাড়ানোর লক্ষ্যে হিজল, কড়চসহ অন্যান্য জলজ উদ্ভিদের বনায়ন করা এবং প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত জলজ উদ্ভিদসমূহ সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ, খাস জলমহালসমূহে রাজস্ব আদায় ভিত্তিক ইজারা প্রথা উৎপাদনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করা।

তবে এক্ষেত্রে কিছু বিশেষ বিবেচ্য বিষয় রয়েছে যথা-চরম সংকটাপন্ন মহাশোল মাছ সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ। এক্ষেত্রে দুর্গাপুর খামারকে গতানুগতিক টার্গেটভিত্তিক ব্যবস্থাপনার বাইরে এনে মহাশোলের মজুদকেন্দ্র ঘোষনা করে কৃত্রিম প্রজনেনর ব্যবস্থা করা। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন আবশ্যক, হাওরে আহরিত মাছের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে এবং হাওরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে নেত্রকোণা জেলার পাশাপাশি হাওর অধ্যুষিত জেলাসমূহে উন্নয়ন প্রকল্প প্রহণ, গারো, হাজংসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও জীবনমান উন্নয়নে তাদের মালিকানাধীন গৃহাঙ্গন পুকুর সমূহে মাছচাষ প্রকল্প গ্রহণ, নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন অঞ্চল হতে আহরিত কুচিয়া বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে। এক্ষেত্রে অতিআহরণের কারণে দিন দিন কুচিয়ার প্রাপ্যতা হ্রাস পাচ্ছে। তাই অচিরেই কুচিয়ার উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ জরুরী। এক্ষেত্রে জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বিভিন্ন সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করে প্রকল্প গ্রহন করা।
দিলওয়ার খান, জ্যযেষ্ঠ সাংবাদিক ও চেয়ারম্যান এ আর এফ বি       

আপনার মতামত লিখুন :

 ফেসবুক পেজ

 আজকের নামাজের ওয়াক্ত শুরু

    নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বাংলাদেশ
    মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২২
    ৪ Jumada I, ১৪৪৪
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৫:০২ পূর্বাহ্ণ
    সূর্যোদয়ভোর ৬:২২ পূর্বাহ্ণ
    যোহরদুপুর ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
    আছরবিকাল ২:৫০ অপরাহ্ণ
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:১১ অপরাহ্ণ
    এশা রাত ৬:৩০ অপরাহ্ণ
নেত্রকোণার সামাজিক ঐতিহ্য —মঈনউল ইসলাম

নেত্রকোণার সামাজিক ঐতিহ্য —মঈনউল ইসলাম

নেত্রকোণা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের সহায়ক উপকরন বিতরণ

নেত্রকোণা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের সহায়ক উপকরন বিতরণ

নেত্রকোণা সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক এপর্যন্ত ১২৩৩জন রোগীকে মোট ৬কোটি ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার চিকিৎসা সহায়তা প্রদান

নেত্রকোণা সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক এপর্যন্ত ১২৩৩জন রোগীকে মোট ৬কোটি ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার চিকিৎসা সহায়তা প্রদান

পজিটিভ নেত্রকোণা-১৯, যুবরাই পারবে সংকট দূর করতে

পজিটিভ নেত্রকোণা-১৯, যুবরাই পারবে সংকট দূর করতে

নেত্রকোণা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল ৩২৬ কোটি ৪৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার অবকাঠামো নির্মাণ করছে

নেত্রকোণা জেলা শিক্ষা প্রকৌশল ৩২৬ কোটি ৪৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার অবকাঠামো নির্মাণ করছে

পজেটিভ নেত্রকোণা: সংস্কৃতিক শিল্পিদের সহায়তায় নজির রেখেছেন জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আব্দুর রহমান

পজেটিভ নেত্রকোণা: সংস্কৃতিক শিল্পিদের সহায়তায় নজির রেখেছেন জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আব্দুর রহমান

সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : দিলওয়ার খান
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম  
অস্থায়ী কার্যালয় : এআরএফবি ভবন, ময়মনসিংহ রোড, সাকুয়া বাজার, নেত্রকোণা সদর, ২৪০০ ।
ফোনঃ ০১৭৩৫ ০৭ ৪৬ ০৪, বিজ্ঞাপনঃ ০১৬৪৫ ৮৮ ৪০ ৫০
ই-মেইল : netrokonajournal@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।