নেত্রকোণা বত্রিশ ঘন্টা অন্ধকারে

প্রকাশিত: ৫:১১ পূর্বাহ্ণ, মে ২৯, ২০২৪

নেজা ডেস্ক রিপোর্টঃ
ঘূর্ণিঝড় রিমেল এর প্রভাবে নেত্রকোণা জেলার বিদ্যুতের গ্রাহকরা বত্রিশ ঘন্টা ধরে অন্ধকারে আছে। সোমবার সকাল ৯ টা থেকে মঙ্গলবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত নেত্রকোণা সদরসহ ১২ টি উপজেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ে গ্রাহকরা। কাজে দেখা দিয়েছে স্তবিরতা। তবে বিদ্যুতের লোকজন দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ স্বচল করার জন্য কাজ করছে।

নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোণা সদরসহ দশটি উপজেলা ৮৬টি ইউনিয়ন ও পাঁচটি পৌরসভা নিয়ে জেলা গঠিত। নেত্রকোণা পল্লী সমিতির জেলার দশ উপজেলা ও সুনামগঞ্জের দুটিসহ ১২টি উপজেলায় ৬ লক্ষ ১২ হাজার গ্রাহক রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকাল ৩ টা পর্যন্ত ১ লক্ষ ৩১ হাজার গ্রাহকে লাইন স্বচল করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪ লাখ ৮১ হাজার লাইন চালু করার কাজ করছে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ।। জেলায় বিদ্যুতের ৯১ টি পীডারের মধ্যে ৩১ টি সচল করা হয়েছে। অন্য গুলোর কাজ চলমান রয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি রাত ৮টার মধ্যে সকল লাইন স্বচল করা যাবে।

অপরদিকে নেত্রকোণার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ৯টি পীডারের ৫৪ হাজার গ্রাহক রয়েছে। তাদের গ্রাহকরাও ২৪ ঘন্টা অন্ধকারে ছিল। বিকাল ৫ টার মধ্যে ৮০ ভাগ গ্রাহকের লাইন স্বচল হয়েছে।

নেত্রকোণার জেলা শহরের পিডিবি’র গ্রাহক মুন্না বলেন, সারা বছর কোন কাজের গুরুত্ব নেই। বর্ষা মৌসুম এলেই তিনি গাছের ডাল পালা কাটার নামে গ্রাহকদের ভোগান্তির মধ্যে পেলে। এটা দেখার কেউ নেই।

সদরের লক্ষীগঞ্জের মাসুদ, মদনের সুজন, খালিয়াজুরীর আবুল মনসুর, মোহনগঞ্জের আব্দুর রউফ, বাহাট্রার ওমর ফারুক, কলমাকান্দার লিয়াকত, দুর্গাপুরের বাপ্পী, পূর্বধলার হাবিব, কেন্দুয়ার বরুন সকার, আটপাড়ার আল আমিনসহ অনেকেই জানান, সোমবার সকাল ৯ টায় কারেন্ট যায় মঙ্গলবার বিকাল ৫ টার মধ্যে এখনো কারেন্ট আসেনি। বিদ্যুৎ অফিস বলছে গাছের ডাল-পালা ভেঙ্গে পড়ায় সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। বর্ষা আসার আগেই যদি এ কাজ গুলো করতো তাহলে আমরা ভোগান্তির মধ্যে পরতাম না।

নেত্রকোণা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান মাহমুদ এলাহী জানান, রিমেলের প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ৮০ ভাগ লাইন স্বচল করা হয়েছে। লোকজন কাজ করতেছে। রাতের মধ্যেই আশা করি সব গ্রাহক লাইন পাবে। গাছের ডাল-পালা বছওে দুইবার কাটা হয়।

নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম মাসুম আহমেদ জানান, জেলায় বিকাল ৩ টা পর্যন্ত ৯১ ফডিারের মধ্যে ৩১ টি পীডার স্বচল করা হয়েছে। ১ লক্ষ ৩১ হাজার গ্রাহকের সংযোগ স্বচল করা হয়েছে। সবাই কাজ করছে। আশা করি রাতের মধ্যেই সব গ্রাহক বিদ্যুৎ পাবে।