পূর্বধলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামানত হারালেন যারা

প্রকাশিত: ৩:১২ পূর্বাহ্ণ, মে ২৬, ২০২৪

মোঃ আমিনুল ইসলাম মন্ডলঃ
নেত্রকোণার পূর্বধলায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এক চেয়ারম্যান প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত এ নির্বাচনে মোট চারজন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হন।

এর মধ্যে তিনজন প্রার্থী জামানত রক্ষার ভোট পেলেও সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন ঘোড়া প্রতীক নিয়ে জামানত হারিয়েছেন।

এ নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীকের এটিএম ফয়জুর সিরাজ (জুয়েল) ৪৬ হাজার ৩২২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। ৩৬ হাজার ০৮ ভোট পেয়েছেন তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দোয়াত কলম প্রতীকের আসাদুজ্জামান নয়ন।

সূত্র জানায়, এ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন গত ২১ মে অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮ হাজার ৩ শত ৩৯। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৭৯৫টি। সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৪০.৪৬ শতাংশ। ঘোড়া প্রতীকে ৪১২ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম সুজন জামানত হারিয়েছেন।

অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে মোট ১১ প্রার্থীর ৯ জনই জামানত হারিয়েছেন। এ পদে বই প্রতীক নিয়ে মোঃ আব্দুল্লাহ আল আলী ২৪ হাজার ৮৭০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোঃ আর্শাদ মিয়া মাইক প্রতীকে ১৮ হাজার ৮২৩ ভোট পেয়েছেন।

বাকি ৯ প্রার্থীর মোঃ আকাইদুল ইসলাম (উড়োজাহাজ), মোঃ ফরহাদ মিয়া (পালকি), মোঃ রফিকুল ইসলাম (আইসত্রুিম), মোঃ শফিউল ইসলাম (বৈদ্যাুতিক বাল্প), মোঃ শহিদুল ইসলাম (টিয়া পাখি), মোঃ শহীদুল ইসলাম (তালা), মোঃ হারুন – অর রশীদ (টিউবওয়েল), মোঃ শেখ রাজু আহমেদ (গ্যাস সিলিন্ডার), সুকান্ত চন্দ্র সরকার (চশমা)।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোট ৬ প্রার্থীর ৩ প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন। এ পদে হাঁস প্রতীকে মনি রাণী কর্মকার ৩৫ হাজার ১৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোসাঃ সাফিয়া খাতুন কলস প্রতীকে ২০ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়েছেন। বাকি ৩ প্রার্থীর নমিতা রাণী দাস প্রজাপতি প্রতীকে, মোসাঃ শারমিন সুলতানা সুমী সেলাই মেশিন প্রতীকে, শারমিন আক্তার পদ্মফুল প্রতীকে জামানত হারিয়েছেন।

সূত্র মতে, সংশোধিত বিধি অনুযায়ী প্রার্থীদের জামানত রক্ষায় প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে। এতদিন তা ছিল এক অষ্টমাংশ। এ ছাড়া এবার প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয় অনলাইনে। প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রার্থীরা জনসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালান। প্রার্থীরা সাদাকালোর পাশাপাশি রঙিন পোস্টার ও ব্যানার টাঙান।

এবার বিধিমালায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারের সমর্থনসূচক সইসহ তালিকা জমা দেওয়ার বিধান বাদ দেওয়া হয়েছে।

জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জামানতের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামানত পাঁচ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।