বর্ণাঢ্য এক অধ্যায়ের সমাপ্তি

দূর্গাপ্রসাদ তেওয়ারী আর নেই

প্রকাশিত: ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৪

রাজেশ গৌড়ঃ
দূর্গাপ্রসাদ তেওয়ারী৷ তিনি ছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বৃটিশ বিরোধী সংগ্রামী, কমরেড মণি সিংহের সহযোদ্ধা, সামরিক শাসন ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে কারা নির্যাতিত নেতা – সর্বোপরি সর্বজন শ্রদ্ধেয় ছিলেন। এ কিংবদন্তি নেতা আর নেই। চলে গেছেন না-ফেরার দেশে। কেন জানি – চলে গেছেন শব্দটি লিখতে গিয়ে আঙুল এগুচ্ছে না। বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু এটাই নির্মম সত্য। এটা এমনই এক সত্য – যে সত্য অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

বুধবার (৩১ জানুয়ারী) রাত ৮ টা ৪০ মিনিটে পৌর শহরের দেশওয়ালীর পাড়ার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ৯৩ বছর বয়সী দূর্গাপ্রসাদ তেওয়ারী বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন। তিনি মৃত্যুকালে দুই পুত্র,এক মেয়ে,নাতি-নাতনি সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

সর্ব সাধারনের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দূর্গা প্রসাদ তেওয়ারীর মরদেহ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় স্থানীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয় পরে তাঁর শেষকৃত্য দুপুর ২ টায় স্থানীয় শ্মশানঘাটে অনুষ্ঠিত হয় । বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাঁর ছোট ছেলে রুপক তেওয়ারী।

১৯৩১ সালের ২০ আগষ্ট দুর্গাপুর উপজেলার পৌর শহরের দেশওয়ালী পাড়া এলাকায় জন্ম গ্রহণ করেন এ কিংবদন্তি নেতা । উনার পিতা স্বর্গীয় সারদা প্রসাদ তেওয়ারী ও মাতা শ্যামা সুন্দরী । দূর্গা প্রসাদ তেওয়ারী ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন । ছাত্র জীবনেই তিনি কমরেড মণি সিংহের সানিধ্য পান এবং কমরেড মণি সিংহের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে টংক আন্দোলন, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

দুর্গাপ্রসাদ তেওয়ারী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এর রাজনীতি করতেন এবং উপজেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। তিনি বামপন্থী নেতাদের কাছে অভিভাবকতুল্য । তিনি দীর্ঘদিন কৃষক সমিতির সভাপতি, বিআরডিবির চেয়ারম্যান ছিলেন । এ ছাড়াও তিনি সুসং সরকারী মহাবিদ্যালয়, দুর্গাপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ তৈরীতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন এবং এম কে সি এম পাইলট সরকারী উচ্চবিদ্যালয়েরও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৫৯ সালে ১০মে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৭০ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন । কমরেড মণি সিংহের নেতৃত্বে যে টংক আন্দোলন শুরু হয়েছিল সেই টংক আন্দোলনে তিনি সার্বিক সহযোগিতা করেন । ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে হত্যা করার পর হত্যার প্রতিবাদ করার জন্যে ১৯৭৫ সালের ৪ ডিসেম্বর তাঁকে বন্দি করে ময়মনসিংহে জেলে রাখা হয়েছিলো। দূর্গাপ্রসাদ তেওয়ারীর মৃত্যু দুর্গাপুরবাসীর জন্য জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

এ কিংবদন্তি নেতার মৃত্যুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহী, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পারভীন আক্তার, পৌর মেয়র আব্দুস ছালাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের মুক্তিযোদ্ধারা, ডিএসকের নির্বাহী পরিচালক ডা. দিবালোক সিংহ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি উসমান গনি তালুকদার, সাধারন সম্পাদক সফিকুল ইসলাম সফিক, সিপিবি দুর্গাপুর কমিটি, দুর্গাপুর প্রেসক্লাব, দুর্গাপুর সাংবাদিক সমিতি, পথ পাঠাগার সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দরা শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।