মোহনগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২ গৃহবধূকে মারধোর, থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২৪

কামরুল ইসলাম রতনঃ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে জমি বিরোধে দুই প্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

আহত দুই নারী হলেন, মোহনগঞ্জ উপজেলার ৭ নং গাগলাজুর ইউনিয়নের শ্যামপুর (নতুন মান্দরা) গ্রামের প্রবাসী মো. রাহাদ মিয়ার স্ত্রী মোসা. সীমা আক্তার (২৭) ও তার বড় ভাই প্রবাসী রাসেল মিয়ার স্ত্রী মোসা. এনা আক্তার (২৭)।

আহতদের মধ্যে এনা আক্তারের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। আর সীমা আক্তার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মোহনগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। আহত দুই নারীর শ্বশুর আহাজ মিয়া বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

এতে প্রতিবেশী আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. সাব্বির মিয়া (২৭), মো. মোকাব্বির হোসেন (২৪), মৃত ছুলু হোসেন তালুকদারে ছেলে মো. কামরুল ইসলাম (৩৮), মো. ইমরান হোসেন সান্ত (৬০), মো. কামরুল ইসলামের ছেলে মো. অনিক মিয়া (২১) ও ইমরান হোসেন সান্তর ছেলে মো. সুমন মিয়াসহ (২২) ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

এরআগে সোমবার সকালে উপজেলার শ্যামপুর (নতুন মান্দরা) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে সাব্বির মিয়াকে মোহনগঞ্জ হাসপাতালে গেটে মারধর করায় আহাজ মিয়াসহ শহর এলাকার ৭জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,
অভিযুক্তদের সাথে আহাজ মিয়ার জমিজমা নিয়ে পুরোনো বিরোধ রয়েছে। আহাজ মিয়ার তিন ছেলে ওমান প্রবাসী। নিজের স্ত্রী আর দুই ছেলের বউকে নিয়ে শ্যামপুর গ্রামে বসবাস করেন আহাজ। পুরোনো বিরোধের জেরে গত সোমবার সকালে অভিযুক্তরা রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। বাধা দেওয়ায় আহাজ মিয়ার ছেলের বউ সীমা ও এনা আক্তারকে কুপিয়ে জখম করে। এসময় বউদের বাঁচাতে গেলে শ্বাশুড়ি দিলজুরা বেগমকেও হামলাকারীরা পিটিয়ে আহত করে। বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে এনা আক্তারের গলায় থাকা ৫০ হাজার টাকা মূল্যের সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়। পরে হুমকি দিয়ে চলে যায় হামলাকারীরা। এদিকে আহত সীমা ও এনা আক্তারকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসক গুরুতর আহত এনা আক্তারকে মমেক হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় আহাজ মিয়া বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন। বৃহস্পতিবার মামলাটি রেকর্ডভুক্ত হয়

এদিকে অভিযুক্ত মোকাব্বির হোসেন হামলার বিষয়টি অস্বীকর করে বলেন, ঘটনার সময় আমি হাওরে কাজে ছিলাম। পরে বাড়িতে এসে ঘটনা শুনেছি। মূলত উভয় পক্ষের নারীদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। এতে আমার বড় ভাই সাব্বির মিয়ার স্ত্রী শেলী আক্তার আহত হয়েছে। অপর পক্ষের সীমা ও এনা আক্তারকে আমাদের কেউ মারধর করেনি। আমাদের ফাঁসাতে তারা নিজেরাই নিজেদের শরীর হয়তো কেটেছে।

এদিকে স্ত্রীকে মোহনগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে সাব্বিরকে সেখানকার লোকজন নিয়ে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহাজ মিয়াসহ ৭জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

মোহনগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন মামলার বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রদান করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার এসআই কানাই লাল চক্রবর্তী বলেন, উভয় পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।