মোহনগঞ্জে ৪ মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি ব্যাংক এশিয়ার ক্যাশিয়ার সাগর

প্রকাশিত: ২:৫২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০২৩

কামরুল ইসলাম রতনঃ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ‘ব্যাংক এশিয়া’র মোহনগঞ্জ স্টেশন রোড থেকে গ্রাহকের প্রায় ৩০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ব্যাংকটির ক্যাশিয়ার সানোয়ার হোসেন সাগর। ঘটনার চার মাসেও অভিযুক্ত সাগরকে ধরতে পারেনি মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ।

বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক বজলুর রহমান তালুকদার। এ জন্য পুলিশের গাফিলতিকেই তিনি দায়ী করেছেন।
অভিযুক্ত সাগর (২৩) উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের ব্যাংক এশিয়া শাখার ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ইউনিয়নের সহিলদেও গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে।

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও পুলিশের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মোহনগঞ্জে ইউনিয়ন পর্যায়ে শাখা খুলে ‘ব্যাংক এশিয়া’। ব্যাংকটির উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন সানোয়ার হোসেন সাগর। গত ৮ আগস্ট গ্রাহক ও পরিচতিদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালায় ক্যাশিয়ার সাগর।

বিষয়টি জানার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করে সাগরকে না পেয়ে ১৭ আগস্ট থানায় অভিযোগ দেন মো. বজলুর রহমান তালুকদার নামে এক গ্রাহক। বজলুর রহমানের দাবি তাঁর ২২ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে সাগর। ওই টাকা তিনি সাগরের কাছে দিয়ে ছিলেন ব্যাংকে জমা করার জন্য। নেট সমস্যা দেখিয়ে পরে জমা দেওয়া হবে বলে সাগর ওই টাকা নিজের কাছে রেখে দেয়। পরে সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায়। এছাড়া উপজেলার মেদি পাথরকাটা গ্রামের রবিন নামে এক ব্যক্তির ৬০ হাজার টাকাসহ পরিচিত লোকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে পালায় সাগর। সব মিলিয়ে টাকার পরিমাণ ৩০ লাখ বলে জানা গেছে।

বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ এক পর্যায়ে গ্রাহক বজলুর রহমানের অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। ওই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সাগরসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

পৌরশহরের টেংগাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা বজলুর রহমান বলেন, পেনশনের টাকাসহ সংসারের জমানো টাকা বিভিন্ন ব্যাংক ও পোস্ট অফিসে জমা ছিল। সেখান থেকে তুলে ২২ লাখ টাকা ব্যাংক এশিয়ায় রাখি। সাগর কৌশলে সেই টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করলেও পুলিশ চার মাসেও তাকে ধরতে পারেনি। এটা দুঃখজনক।

অপর ভুক্তভোগী মেদি পাথরকাটা গ্রামের রবিনের বাবা মোহাম্মদ আলী খান জানান, আমার ছেলে রবিনের ৬০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা ছিল। সাগর প্রতারণা করে বিভিন্ন কথা বলে হাতের চাপ নিয়ে সেই টাকা তুলে নিয়ে পালিয়েছে। সাগরের চুরির রেকর্ড আছে। জেনে শুনে এমন একটা ছেলেকে যারা ব্যাংকে চাকরি দিয়েছে এই ভুলটা তাদের।

অভিযুক্ত সাগর ছাড়া বাকিরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছে। সাগরকে ধরতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাগর খুবই ধূর্ত সহজে তাকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না। মামলার খোঁজ-খবর বা আসামি ধরার ক্ষেত্রে বাদী কোন সহযোগীতা করেন না। তবে সাগরকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।