সব
facebook netrokonajournal.com
যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব | নেত্রকোণা জার্নাল

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব

প্রকাশের সময়:

যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব

ইসলামিক জার্নাল ডেস্ক:
উর্দূ ও ফার্সিতে কোরবানি শব্দটির ব্যবহার হলেও এটি করব বা কোরবান (قرب বা قربان) আরবি শব্দ থেকে উৎপত্তি হয়েছে। যার অর্থ- ‘নৈকট্য বা সান্নিধ্য’। কোরবান হলো, প্রত্যেক সেই বস্তু, যার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়। আর সেখান থেকেই ফার্সি বা উর্দু-বাংলাতে ‘কোরবানি’ শব্দটি গৃহীত হয়েছে।

হে নবী! ওদের বলুন, আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ-আমার সবকিছুই বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহরই জন্যে। তিনি একক ও অদ্বিতীয়। এ আদেশই আমি পেয়েছি। আমি সমর্পিতদের মধ্যে প্রথম।’ (সূরা আনআম, আয়াত ১৬২-১৬৩)

আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যে কোরবানিকে ইবাদতের অংশ করেছি। যাতে জীবনোপকরণ হিসেবে যে গবাদি পশু তাদেরকে দেয়া হয়েছে, তা জবাই করার সময় তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে আর সব সময় যেন মনে রাখে একমাত্র আল্লাহই তাদের উপাস্য। অতএব তাঁর কাছেই পুরোপুরি সমর্পিত হও। আর সুসংবাদ দাও সমর্পিত বিনয়াবনতদের, আল্লাহর নাম নেয়া হলেই যাদের অন্তর কেঁপে ওঠে, যারা বিপদে ধৈর্যধারণ করে, নামাজ কায়েম করে আর আমার প্রদত্ত জীবনোপকরণ থেকে দান করে। (সূরা হজ, আয়াত ৩৪-৩৫)

কোরবানির পশুকে আল্লাহ তাঁর মহিমার প্রতীক করেছেন। তোমাদের জন্যে এতে রয়েছে বিপুল কল্যাণ। অতএব এগুলোকে সারিবদ্ধভাবে বাঁধা অবস্থায় এদের জবাই করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো। এরপর এরা যখন জমিনে লুটিয়ে পড়ে, তখন তা থেকে মাংস সংগ্রহ করে তোমরা খাও এবং কেউ চাক না চাক সবাইকে খাওয়াও। এভাবেই আমি গবাদি পশুগুলোকে তোমাদের প্রয়োজনের অধীন করে দিয়েছি, যাতে তোমরা শুকরিয়া আদায় করো। (সূরা হজ, আয়াত ৩৬)

“যে ব্যক্তির সামর্থ্য আছে অথচ সে কোরবানী করেনি সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়”[সুনানে ইবনে মাজাহ (৩১২৩)

আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) দুইটি সাদা-কালো বর্ণের (বড় শিং বিশিষ্ট) নর দুম্বা কোরবানি করেছেন। আমি দেখেছি, তিনি দুম্বা দুটির গর্দানে পা রেখে— বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার বললেন। অতঃপর নিজ হাতে জবেহ করলেন। (বুখারি, হাদিস : ২/৮৩৪)

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘নবী করিম (সা.) ঈদগাহে জবেহ করতেন এবং নহর করতেন।’ (বুখারি, হাদিস : ২/৮৩৩)

কোরবানি করা অত্যন্ত তাৎপর্যমণ্ডিত ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত। এতে আছে আত্মত্যাগের মহিমা ও আর্তের সেবার গৌরব। আদি পিতা হজরত আদম (আ.)–এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিল থেকে শুরু হওয়া এই কোরবানির ইতিহাস মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর শিশুপুত্র ইসমাইল (আ.)–এর মহান আত্মবিসর্জনে উজ্জ্বল, যা কিয়ামত পর্যন্ত অম্লান থাকবে।

জিলহজ্ব মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে নিজের এবং পরিবারের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা বা তার মূল্য পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে কুরবানী ওয়াজিব হবে।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বাজারে এক ভরি ২২ ক্যারেট রুপার দাম ১৫১৬ টাকা। অতএব নেসাব পরিমাণ টাকা হবে (১৫১৬ × ৫২.৫০=৭৯৫৯০) টাকা।
আর এক ভরি ২১ ক্যারেট রুপার দাম ১৪৩৪ টাকা। অতএব নেসাব হবে(১৪৩৪×৫২.৫০=৭৫২৮৫) টাকা।
১৮ ক্যারেট এক ভরি রুপার মূল্য ১২২৪ টাকা। অতএব নেসাব হবে ১২২৪×৫২.৫০= ৬৪২৬০) টাকা।
মোট কথা হচ্ছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সর্বনিম্ন ৬৪২৬০ টাকা বা সমপরিমাণ সম্পদ থাকলে কুরবানী ওয়াজিব হবে। যে জমি বাৎসরিক খোরাকীর জন্য প্রয়োজন হয়না এবং প্রয়োজন-অতিরিক্ত আসবাবপত্র- এসবই কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাব যোগ্য।

উল্লেখ্য, স্বর্ণ-রুপার বাজারমূল্যে যেহেতু হ্রাস- বৃদ্ধি ঘটে, তাই তাৎক্ষণিক সাড়ে বায়ান্ন(৫২.৫০) ভরি রুপার বাজার মূল্য হিসাব করে কুরবানীর নেসাব বের করা যাবে। আলমুহীতল বুরহানী,৮/৪৫৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া,৪/৩০৯

প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিম নর-নারী, যে যিলহজ মাসের ১০ তারিখ সুবহে সাদিকের সময় থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনাতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে এবং ওই ব্যক্তি উক্ত তিন দিন সময়ে মুসাফিরও না হয়, তবে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব। (বাদায়েউস সানায়ে ৫/৬৩)

নাবালেগ শিশু-কিশোর ও অসুস্থ মস্তিষ্ক ব্যক্তি নেসাবের মালিক হলেও তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। হ্যাঁ, তাদের অভিভাবক নিজ সম্পদ দ্বারা তাদের পক্ষ থেকে নফল কোরবানি করতে পারবে। (রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৬)। শিশু-কিশোরদের সম্পদ থেকে কোরবানি করা হলে তা থেকে কেবল সে-ই খেতে পারবে, অন্য কেউ তা খেতে পারবে না। (আদ্দুরুল মুখতার মাআর রাদ্দিল মুহতার ৬/৩১৭)

প্রতিটি পরিবারের পক্ষ থেকে কোরবানী দেয়ার বিধান রয়েছে। দলিল হচ্ছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: “প্রতিটি পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতি বছর একটি কোরবানী দেয়া ওয়াজিব” [মুসনাদে আহমাদ (২০২০৭)] ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে বলেন: হাদিসটির সনদ মজবুত। আলবানী ‘সহিহ সুনানে আবু দাউদ গ্রন্থে (২৭৮৮) হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন]

এ বিধানের ক্ষেত্রে পুরুষ বা নারীর কোন ভেদ নেই। অতএব, কোন নারী যদি একাকী বসবাস করেন কিংবা তাঁর সন্তানদেরকে নিয়ে থাকেন তাহলে তাদেরকে কোরবানী করতে হবে। আল-মাওসুআ আল-ফিকহিয়্যা গ্রন্থে (৫/৮১) এসেছে-

“কোরবানী ওয়াজিব হওয়া কিংবা সুন্নত হওয়ার জন্য পুরুষ হওয়া শর্ত নয়। কোরবানী পুরুষদের উপর যেমন ওয়াজিব হয় তেমনি নারীদের উপরও ওয়াজিব হয়। কারণ ওয়াজিব হওয়ার দলিলগুলো নর-নারী সবাইকে সমানভাবে শামিল করে।” আল-মাওসুআ আল-ফিকহিয়্যা (৫/৭৯-৮১)]

সংকলন:
মাও: আবু তাহের নেত্রকোনী।
প্রতিষ্ঠাতা, দারুল উলুম ক্বাওমি মাদ্রাসা।
ভূগী (উত্তর পাড়া), পূর্বধলা, নেত্রকোণা।
নিয়মিত লেখক, ইসলামিক জার্নাল বিভাগ,
নেত্রকোণা জার্নাল ডটকম পত্রিকা।

আপনার মতামত লিখুন :

 ফেসবুক পেজ

 আজকের নামাজের ওয়াক্ত শুরু

    নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বাংলাদেশ
    বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২২
    ১০ Rabi' I, ১৪৪৪
    ওয়াক্তসময়
    সুবহে সাদিকভোর ৪:৩৭ পূর্বাহ্ণ
    সূর্যোদয়ভোর ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ
    যোহরদুপুর ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
    আছরবিকাল ৩:০৯ অপরাহ্ণ
    মাগরিবসন্ধ্যা ৫:৪১ অপরাহ্ণ
    এশা রাত ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
এর আরও খবর
জুমার দিনের ফজিলত ও জুমার আগে চার আমল

জুমার দিনের ফজিলত ও জুমার আগে চার আমল

প্রস্রাব-পায়খানার পর ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহারের পরেও পানি খরচ কি খুব জরুরি?

প্রস্রাব-পায়খানার পর ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহারের পরেও পানি খরচ কি খুব জরুরি?

মাদকের ভয়াল থাবা: শাস্তি ও প্রতিকারের উপায়

মাদকের ভয়াল থাবা: শাস্তি ও প্রতিকারের উপায়

দুর্গাপুরে আবু তালহা রা: মাদ্রাসায় ২৬ জন শিক্ষার্থীর কোরআন শরীফ ছবকদান

দুর্গাপুরে আবু তালহা রা: মাদ্রাসায় ২৬ জন শিক্ষার্থীর কোরআন শরীফ ছবকদান

কন্যা সন্তান উত্তম : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

কন্যা সন্তান উত্তম : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

আত্মহত্যা থেকে বাঁচার উপায় : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

আত্মহত্যা থেকে বাঁচার উপায় : মুফতি আতাউল্লাহ বাশার

সর্বশেষ সংবাদ সর্বাধিক পঠিত
 
উপদেষ্টা সম্পাদক : দিলওয়ার খান
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহা. জহিরুল ইসলাম অসীম  
অস্থায়ী কার্যালয় : এআরএফবি ভবন, ময়মনসিংহ রোড, সাকুয়া বাজার, নেত্রকোণা সদর, ২৪০০ ।
ফোনঃ ০১৭৩৫ ০৭ ৪৬ ০৪, বিজ্ঞাপনঃ ০১৬৪৫ ৮৮ ৪০ ৫০
ই-মেইল : netrokonajournal@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।